নমাজের জমায়েত বন্ধ করা চলবে না, চাপের মুখে ইমরান সরকার

সামাজিক দূরত্বই করোনা সংক্রমণ থেকে বাঁচার উপায়। সেই কারণেই অন্যান্য দেশের মতো পাকিস্তানেও মসজিদে দল বেঁধে নমাজ পড়ায় নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। কিন্তু তা মানতে চাইছেন না অনেক ধর্মীয় প্রধান।

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সামাজিক দূরত্বই করোনা সংক্রমণ থেকে বাঁচার উপায়। সেই কারণেই অন্যান্য দেশের মতো পাকিস্তানেও মসজিদে দল বেঁধে নমাজ পড়ায় নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। কিন্তু তা মানতে চাইছেন না অনেক ধর্মীয় প্রধান। প্রায় ৫৩ জন ধর্মীয় প্রধান মিলিত ভাবে এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, আল্লার দয়া পাওয়ার জন্য আরও বেশি সংখ্যক মানুষকে মসজিদে একত্রিত হওয়ার সুযোগ দিতে হবে। এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা ধর্মীয় নিয়মকানুনের বিরোধী।

পাকিস্তানে ইতিমধ্যেই করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৫,৭১৫। দিন দিন বাড়ছে সেই সংখ্যা। মৃত্যুর সংখ্যাও একশোর কাছাকাছি। এই পরিস্থিতিতে ইমরান খান সরকার নিয়ম করেছে সর্বাধিক পাঁচ জন একত্রিত হয়ে নমাজে অংশ নিতে পারবেন। এই নিয়মই মানতে চাইছেন না বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠনের নেতারা। পাকিস্তানের রাজনৈতিক মহলের বক্তব্য, এপ্রিলের শেষ দিকে শুরু হচ্ছে রমজান মাস। তার আগে আগে এই দাবি রীতিমতো চাপে ইমরান প্রশাসনের কাছে।

পাক সরকারের পক্ষ থেকে বারবার সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বার্তা দেওয়া হলেও রাওলপিন্ডি ও ইসলামাবাদের কমপক্ষে ৫৩ জন ধর্মীয় সংগঠনের নেতা এক হয়ে দাবি তুলেছেন, এমন নিয়ম জারি করা ইসলাম বিরোধী। সোমবার ইসলামাবাদের জামিয়া দুরুল জাকারিয়াতে দলবদ্ধ নমাজের বিরোধিতায় এক সভাও হয় বলে জানিয়েছে পাক দৈনিক ডন।

ওই খবরে দাবি করা হয়েছে, বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা ওই সভায় অংশ নেন। এর মধ্যে পাকিস্তানে নিষিদ্ধ কিছু সংগঠনও ছিল। সেখানে দাবি ওঠে, আল্লার কাছে প্রার্থনা জানানোর জন্য মানুষকে মসজিদের নমাজে অংশ নিতে দেওয়া হোক। এই বিষয়ে জামিয়া দারুল উলুম জাকারিয়ার প্রেসিডেন্ট পির আজিজুর রহমান হাজারভি বলেন, “মসজিদ বন্ধ করে দেওয়া, শুক্রবারের নমাজ বন্ধ করা দেশের মানুষ ভালভাবে নেবে না।” তাঁর আরও দাবি, এই ভাইরাস থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য আল্লার কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। সেজন্য মসজিদে জমায়েত করার অনুমতি দরকার।

ওই সভার একটি ভিডিও ক্লিপও প্রকাশ্যে এসেছে। তাতে দেখা যাচ্ছে সভায় যাঁরা অংশ নিয়েছিলেন তাঁরা গায়ে গায়ে লেগে বসে রয়েছেন। যদিও পাক প্রশাসন বারবার বলছে যে, কোনও জায়গায় এক সঙ্গে পাঁচ জনের বেশি থাকা যাবে না।

পাক সরকারের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জে অংশ নিয়েছেন ইসলামাবাদের লাল মসজিদের ইমাম মৌলানা আবদুল আজিজও। প্রতি সপ্তাহে আজিজ লাল মসজিদে হওয়া নমাজের সমাগমের ভিডিও প্রকাশ করে থাকেন। এর ফলে শহরে অন্যান্য মসজিদও সরকারের নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে শুক্রবারের নমাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More