কোয়ারান্টিনেই মিডিয়া টিমের সঙ্গে সশরীরে বৈঠকে কোভিড পজিটিভ ইমরান, এফআইআর হোক! দাবি

দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিজে কোভিড-১৯ পজিটিভ। কিন্তু তা সত্ত্বেও মিডিয়া টিমের সঙ্গে সশরীরে বৈঠকে বসে বিরোধী শিবিরের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়লেন ইমরান খান । এমনকী পাকিস্তানের আমজনতাও রেহাই দিচ্ছে না তাঁকে।
চিনের তৈরি কোভিড-১৯ রোধী সিনোফার্ম ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ নেওয়ার দিনকয়েকের মধ্যেই গত শনিবার টেস্ট করিয়ে ইমরান জানতে পারেন, তিনি করোনা সংক্রমিত হয়েছেন। একইদিনে তাঁর স্ত্রী বুশরা বিবিও করোনা পজিটিভ হন। পাকিস্তানে কেবলমাত্র এই ভ্যাকসিনটি চলছে। গত সপ্তাহের বৃহস্পতিবার ভ্যাকসিন নেন পাক প্রধানমন্ত্রী।
পাক তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী শিবলি ফারাজ, আরেক আইনপ্রণেতা ফয়সল জাভেদ ইমরানের ওই বৈঠকের ছবি সোস্য়াল মিডিয়ায় পোস্ট করতেই তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। দুজনেই ওই বৈঠকে ছিলেন। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, ফারাজ, জাভেদ, ইউসুফ বেগ মির্জা, জুলফিকার আব্বাস বুখারির সঙ্গে বৈঠক করছেন ইমরান। সোফায় বসে তিনি, পরনে ধূসর রঙের ট্রাকস্য়ুট, জগার, সামান্য় দূরে বসে মিডিয়া টিমের কর্তারা। পাকিস্তানের ডন সংবাদপত্রের খবর, ইমরান নিজের বানিগালার সরকারি বাসভবনে বৃহস্পতিবারের বৈঠকে পৌরহিত্য করেন।
বিরোধীদের দাবি, দেশে করোনার তৃতীয় ঢেউ চলছে। তার মধ্যে দেশের প্রধানমন্ত্রীই স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রক্রিয়া ভাঙলেন। চলতি নিয়মবিধি, পদ্ধতি ভাঙার অভিযোগে বৈঠকে উপস্থিত সকলের বিরুদ্ধে এফআইআর রুজু করার দাবি তুলেছে বিরোধীরা।
ঘটনাচক্রে কোনও সরকারি মুখপাত্রই ইমরানের কোয়ারান্টিনে থাকার মধ্য়েই মিটিংয়ে পৌরহিত্য় করার সমর্থনে তেমন জোরালো কিছু বলতে পারছেন না। বেশিরভাগই মিডিয়াকে এড়িয়ে যেতে চাইছেন।
তবে সোস্যাল মিডিয়ায় ইমরানকে ছাড়ছেন না দেশবাসী। সকলেই বিস্মিত, এভাবে সশরীরে বৈঠকে বসার কি খুব প্রয়োজন ছিল? প্রধানমন্ত্রীর তিনি কেন কোনও না কোনও ভিডিও কনফারেন্সিং পদ্ধতিতে বৈঠক করতে পারলেন না! পাকিস্তানে অতিমারীর দাপট মোকাবিলায় দেশের প্রধান সংস্থা ন্য়াশনাল কম্য়ান্ড অ্যান্ড অপারেশন সেন্টার যে এসওপি বা সকলের মেনে চলার আচরণবিধি বানিয়েছে, তাতে বলা হয়েছে, কোভিড-১৯ সংক্রমিতকে ৯ থেকে ১৪ দিন কোয়ারান্টিনে কাটাতে হবে। কিন্তু ইমরান করোনা পজিটিভ ঘোষণার মাত্র চারদিনের মধ্যে বৈঠকে বসে গেলেন!
যদিও পাক প্ল্যানিং ও ডেভেলপমেন্ট মন্ত্রী ও এনসিওসি চেয়ারম্যান আসাদ উমর সাফাই দিয়েছেন, এসওপি-তে শুধুমাত্র আগাম সাবধানতামূলক ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে, তাছাড়া সেদিনের বৈঠকের অংশগ্রহণকারীরা ইমরানের বেশ কিছুটা দূরেই বসেছিলেন । যদিও তিনি কোয়ারান্টিন পর্বে এমন বৈঠক এড়ানোই শ্রেয় বলে মত দিয়েছেন । সেদিনের বৈঠকে থাকা ইউসুফ বেগ মির্জা সমালোচনা উড়িয়ে যাবতীয় সতর্কতাবিধি মেনেই বৈঠক হয়েছ বলে দাবি করেছেন । বলেছেন, ৪৫ মিনিটে বৈঠকে আমরা কেউ কাউকে স্পর্শ করিনি, সবার মুখে মাস্কও ছিল । আমরা কেউ কিছু খাইনি, এমনকী জলও নয় ।
যদিও পাকিস্তান মেডিকেল অ্য়াসোসিয়েশনের জেনারেল সেক্রেটারি ডঃ কায়সার সাজ্জাদের মতে, কোভিড-১৯ সংক্রমিত রোগীদের কারও সঙ্গে দেখা করাই উচিত নয়, কারণ তাতে সংক্রমণের ভয় থাকেই।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More