সেনাবাহিনীর জন্যই প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক খারাপ হয়েছে, পাকিস্তানে বলছেন বিরোধীরা

দ্য ওয়াল ব্যুরো : প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান মিলিটারির হাতের পুতুল ছাড়া কিছু নন। পাকিস্তানে এমনই মন্তব্য করেছেন বিরোধীরা। তাঁদের বক্তব্য, সেনাবাহিনীর জন্যই পাকিস্তানের কোনও নিরাপত্তা নেই। প্রতিবেশী দেশের সঙ্গেও পাকিস্তানের সুসম্পর্ক তৈরি হয়নি। পাশতুন নেতা ও পাকিস্তানের সেনেটের প্রাক্তন সদস্য আফরাসিয়াব খট্টক বলেন, পাকিস্তানে এখন অঘোষিত সেনা শাসন চলছে। সাউথ এশিয়ানস এগেইন্সট টেররিজম অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস সংগঠনের পঞ্চম বার্ষিক কনফারেন্সে তিনি ওই মন্তব্য করেন।

আমেরিকায় পাকিস্তানের প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত হুসেন হাক্কানি এবং আমেরিকা প্রবাসী কলামিস্ট মহম্মদ তাকি যৌথভাবে ওই সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন। এর আগে লন্ডনে ও ওয়াশিংটনে ওই সংগঠনের সম্মেলন হয়েছিল। কিন্তু এবার করোনা অতিমহামারীর মধ্যে ভার্চুয়াল সম্মেলন হয়। সেখানে সংগঠনের প্রতিনিধিরা ইমরানকে সেনাবাহিনীর হাতের পুতুল বলে চিহ্নিত করেন।

পাকিস্তানের নিরাপত্তারক্ষীরা এই সংগঠনের সদস্যদের ভাল চোখে দেখে না। অনেকসময় তাঁদের বিদেশে যেতে বাধা দেওয়া হয়। কিন্তু এবার ভার্চুয়াল সম্মেলন হওয়ার ফলে দেশ-বিদেশের বহু গণতান্ত্রিক মনোভাবাপন্ন পাকিস্তানি নাগরিক তাতে অংশগ্রহণ করেন।

খট্টক বলেন, পাকিস্তানে এখন মার্শাল ল চলছে। তা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে বিকৃত করছে। সেনাবাহিনী দেশে রাজনীতি করাই নিষিদ্ধ করে দিয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থার কর্তারা সাংসদদের নির্দেশ দিচ্ছেন, কখন তাঁরা অধিবেশনে অংশগ্রহণ করবেন আর কখন করবেন না।

হাক্কানি বলেন, ইমরান খান অভিযোগ করেছিলেন, তাঁদের সংগঠনের জন্য আন্তর্জাতিক মহলে পাকিস্তানের বদনাম হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, পাকিস্তান সরকার যেভাবে সন্ত্রাসবাদকে প্রশ্রয় দিচ্ছে, নাগরিকদের স্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছে, তাতেই সম্মান নষ্ট হচ্ছে দেশের।

কিছুদিন আগেই জম্মু-কাশ্মীর সীমান্ত দিয়ে ভারতে বিপুল পরিমাণে অস্ত্র পাচারের চেষ্টায় ছিল পাকিস্তান। কিন্তু সেনাবাহিনীর তৎপরতায় তাদের চেষ্টা সফল হয়নি।

ভারত-পাক সীমান্তে নিয়ন্ত্রণরেখা তথা এলওসি-র ওপারে দিনকয়েক ধরেই সন্দেহজনক গতিবিধি টের পেয়েছিলেন সেনা জওয়ানরা। পাক সেনাদের মদতে কিছু লোক নিয়ন্ত্রণরেখার কাছাকাছি ঘোরাঘুরি করছিল। সেনা সূত্রে জানা গেছে, এদিন ভোর রাতে তিন থেকে চারজন লোক কয়েকটি টিউব দড়ি দিয়ে বেঁধে কিশেনগঙ্গা নদী পেরোবার চেষ্টা করছিল। সঙ্গে সঙ্গেই সেখানে পৌঁছে তাদের ঘিরে ফেলে সেনাবাহিনী।

টিউবের মধ্যে ছিল বিপুল পরিমাণ আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র। সেনা সূত্র জানাচ্ছে, চারটি একে-৪৭ রাইফেল, আটটি ম্যাগাজিন, ২৪০ রাউন্ড কার্তুজ ছাড়াও অন্যান্য আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র টিউবে করে নদী পার করিয়ে উত্তর কাশ্মীররের কুপওয়ারার কেরন সেক্টরে পৌঁছে দেওয়ার ছক কষেছিল ধৃতরা। তবে তাদের প্রচেষ্টা বানচাল করে দেওয়া গেছে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More