ফিরছে আতঙ্কের স্মৃতি, মুম্বইয়ে অক্সিজেন সিলিন্ডারের অভাবে ১১ জন করোনা রোগীর মৃত্যু

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বছর ঘুরতেই ফের তাড়া করছে দুঃস্বপ্ন। অক্সিজেন সিলিন্ডারের আকাল, শয্যার ঘাটতি, আশঙ্কাজনক রোগীকে ফিরিয়ে দেওয়া—গত বছর দেশের সমস্ত সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে এটাই ছিল চেনা ছবি। এবার ফের সেই দৃশ্য দেখা গেল মুম্বইয়ের পালঘরে। দু’টি বেসরকারি হাসপাতালে অক্সিজেন সিলিন্ডারের অভাবে মৃত্যু হল ১১ জন কোভিড আক্রান্তের। সোমবারের এই ঘটনা সামনে আসতেই ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমেছে স্থানীয় প্রশাসন।

সূত্রের খবর, পালঘর জেলার নালাসোপাড়ার দু’টি হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা চলছে। একটি বিনায়ক হাসপাতাল। অন্যটি ঋদ্ধি বিনায়ক হাসপাতাল। প্রথমটিতে সাতজন আক্রান্ত মারা যান। দ্বিতীয় হাসপাতালে মৃত্যু হয় চারজনের।

মৃতদের পরিবারের অভিযোগ, অক্সিজেন সিলিন্ডারের সংকট শুক্রবার দেখা গিয়েছিল। যা সোমবার চরম আকার নেয়। অথচ সবকিছু জেনেও স্থানীয় প্রশাসন কোনও পদক্ষেপ নেয়নি।

এর জবাবে মুখ খুলেছে বাসাই বিহার মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন। রোগীমৃত্যুর ঘটনা স্বীকার করলেও অক্সিজেনের আকালের বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন কর্পোরেশনের আধিকারিকেরা। উলটে তাঁদের সাফাই, রোগীদের আশঙ্কাজনক অবস্থাতেই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এরই মধ্যে নতুন করে বিতর্ক উস্কেছেন ভিভিএমসি-র প্রাক্তন মেয়র রাজীব পাতিল। সোমবার তাঁর একটি অডিও ক্লিপ সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। যেখানে তিনি সাফ জানান, জেলাজুড়ে অক্সিজেন সিলিন্ডার কমতির দিকে৷ পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, কয়েক ঘণ্টার জোগান দেওয়াও হয়তো সম্ভব হবে না।

বস্তুত কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর আশঙ্কা সত্যি প্রমাণিত হয়। মৃত্যুর বিষয়টি জানাজানি হতেই পাতিল স্পষ্টভাষায় জানিয়ে দেন, অক্সিজেন দেওয়া যায়নি বলেই এই ঘটনা ঘটেছে। উল্লেখ্য, পালঘরে মোট আটটি বেসরকারি ও দু’টি সরকারি হাসপাতাল রয়েছে। আপৎকালীন পরিস্থিতিতে সোমবারই এসমস্ত জায়গায় রায়গড় থেকে অক্সিজেন সিলিন্ডার আনা হয়েছিল।

এই প্রেক্ষিতে স্থানীয় বিধায়ক ক্ষিতীশ ঠাকুর বলেন, ‘অক্সিজেনের আকালের জেরে রোগীরা মারা গিয়েছে কিনা জানি না৷ তবে আমি জেলার সরকারি আধিকারিকদের জাবাব চেয়েছি৷ পাশাপাশি মেডিক্যাল অফিসারের বক্তব্যও তলব করা হয়েছে।’

অন্যদিকে গোটা ইস্যুতে চিকিৎসকেরা অক্সিজেন-আকালকেই সমর্থন করেছেন। রায়গড় থেকে সিলিন্ডার এলেও তা যথেষ্ট নয় বলে সোজাসুজি জানিয়েছেন তাঁরা।

যদিও একথা মানতে নারাজ কর্পোরেশন। এক আধিকারিকের মন্তব্য, ‘ঋদ্ধিবিনায়ক হাসপাতালে রবি ও সোমবার মিলিয়ে মোট ১১০টি জাম্বো সিলিন্ডার আনা হয়। বিনায়ক হাসপাতালেও ১৩৯টি সিলিন্ডার আনা হয়েছে।’

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More