বিহারের গ্রামে ফিল্মসিটি বানাচ্ছেন পঙ্কজ ত্রিপাঠি, একদিন অভিনয়ের টানে বিহার থেকেই ছুটেছিলেন বলিউডে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘আমি হচ্ছি সেই গাছের বীজ, যে কিনা একদিন হাওয়ায় ভাসতে ভাসতে উড়ে এসেছিল। তারপর সে অনেকদিন মাটির তলায় চোখ বুজে থাকল। লোকে ভাবল, মাটির তলায় যখন, তখন একদিন না একদিন মরে যাবেই। কিন্তু আমি মারা যাইনি। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকি, ডালপালা মেলতে থাকি…’—এই ভরপুর আত্মবিশ্বাস বুকে নিয়েই বিহারের গোপালগঞ্জ থেকে একদিন পাটনার পথে পাড়ি দিয়েছিলেন তিনি। দু’চোখ ভরা স্বপ্ন… ‘অভিনেতা’ হতে হবে। এর আগে অভিনয়ের তেমন সুযোগ জোটেনি। গ্রামে ফি-বছর নাটকের আসর বসত। সেখানে মঞ্চে উঠে মেয়ের ভূমিকায় গ্রামবাসীর মনোরঞ্জন করতেন। মঞ্চ থেকে নেমে বিস্তর পিঠ চাপড়ানি জুটত। সেটাই অক্সিজেন জোগায়।

পণ্ডিত বেনারস ত্রিপাঠির ছোটছেলের ভাগ্য অবশ্য পুরোপুরি সদয় ছিল না। বিহারে হোটেল ম্যানেজমেন্টের পাট চুকিয়ে দিল্লিতে ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামায় ভর্তি হন। স্নাতকের ডিগ্রি নিয়ে বেরও হন। কিন্তু এরপরই শুরু হয় আসল যুদ্ধ। মুম্বইতে গিয়ে নিরন্তর স্ট্রাগল… যোগ্যতমের উদ্বর্তন… টিকে থাকার লড়াই!

পঙ্কজ ত্রিপাঠি। গ্যাংস অব ওয়াসিপুরের সুলতান কুরেশি, মির্জাপুরের কালিন ভাইয়া জানেন, বিহারের একটা ছোট ছেলের অভিনেতা হওয়ার জার্নি কতটা কঠিন। তাই এবার নিজের গ্রামে আস্ত ‘ফিল্ম সিটি’ তৈরির সিদ্ধান্ত নিলেন এই অভিনেতা। আকারে-আয়তনে ততটা বড় না হলেও তাঁর এই উদ্যোগ বলিউডের প্রয়োজন মেটাবে। বি-টাউন থেকে ফিল্ম নির্মাতারা এসে ছবি বানিয়ে যেতে পারবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

পঙ্কজ বলেন, ‘একটা ‘ফিল্ম-মহল্লা’ বা ‘ফিল্ম-পঞ্চায়েত’ বানানো হচ্ছে। সরকারি তরফে কিছুটা সাহায্য মিলেছে। বিহারের কাছে একটি গ্রামে এটি তৈরি হবে। যার ফলে শহরের সঙ্গে যোগাযোগও সহজ হতে চলেছে। আপাতত বিষয়টি ট্রায়ালের পর্যায়ে রয়েছে। গ্রামের পটভূমিতে চলচ্চিত্র বানাতে চাইলে ভারতের যে কোনও অংশের পরিচালকেরা এখানে আসতে পারেন। স্থানীয়দের সাহায্যে খুব সহজেই তাঁরা কাজ করতে পারবেন।’

এটা তো গেল মুদ্রার এপিঠ। মুদ্রার ওপিঠে আরেক ইতিবাচক সম্ভাবনা দেখছেন পঙ্কজ। তিনি বলেন, ‘গ্রামের উঠতি তরুণেরা শিক্ষানবিশ শিল্পী হিসেবে এখানে যুক্ত হবেন। কাজ শিখবেন। পাশাপাশি টাকা রোজগারের ব্যবস্থাও রয়েছে।’

উদয়াস্ত পরিশ্রম আর অধ্যবসায়ের জোরে বলিউডে নিজের জমি বানিয়ে ফেলেছেন পঙ্কজ ত্রিপাঠি। মূল ধারার পাশাপাশি সমান্তরাল ধারাতেও স্বচ্ছন্দে অভিনয় করেছেন তিনি। কিন্তু বিহারের ছোট গ্রামের ভূমিপুত্র এই অভিনেতা এখনও মনে করেন, ‘পেহলে জিনা জরুরি হ্যায়। উসকে বাদ আপকা ‘আর্ট’ আতা হ্যায়!’

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More