লকডাউনের মধ্যেও কর্মচারীদের মাইনে দিচ্ছি, সরকার আমাকে সাহায্য করুক, দাবি বিজয় মালিয়ার

দ্য ওয়াল ব্যুরো : ২০১৬ সালে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন ‘লিকার ব্যারন’ বিজয় মালিয়া। তাঁর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার জন্য এনফোর্সমেন্ট ডায়রেক্টরেট মামলা করেছে সুপ্রিম কোর্টে। এরই মধ্যে ভারত সরকারের কাছে তাঁকে সাহায্যের দাবি জানালেন পলাতক শিল্পপতি। তাঁর বক্তব্য, করোনাভাইরাসের জেরে বিশ্ব জুড়ে যে লকডাউন চলছে, তাতে তাঁর বিভিন্ন কোম্পানির কাজকর্মও বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এর মধ্যেও কর্মচারীদের তিনি মাইনে দিচ্ছেন। তাঁদের অনেকে বাড়ি ফিরতে পারছেন না। সরকার তাঁদের ফেরার ব্যবস্থা করুক।

৬৩ বছরের শিল্পপতি বিজয় মালিয়া মঙ্গলবার টুইটারে লিখেছেন, “ভারত সরকার যা করেছে, তা এককথায় অভাবনীয়। পুরো দেশকে লকডাউন করে দিয়েছে। আমরা এই সিদ্ধান্তকে সম্মান করি। আমার সব কোম্পানিতে উৎপাদন বন্ধ। কিন্তু আমরা কর্মীদের বেতন বন্ধ করিনি। সরকারের উচিত আমাদের সাহায্য করা।”

অভিযোগ, ভারতের বিভিন্ন ব্যাঙ্ক থেকে ন’হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করে বিদেশে পালিয়েছেন বিজয় মালিয়া। তিনি নিজে অবশ্য বলেছেন, সুযোগ পেলেই সব ঋণ শোধ করে দেবেন। কিন্তু তাঁকে ‘পলাতক অর্থনৈতিক অপরাধী’ ঘোষণা করার জন্য আদালতে আবেদন জানিয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডায়রেক্টরেট।

পলাতক অর্থনৈতিক অপরাধী’ আইনে ২০১৮ সালের আগস্টেই সই করেছেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। যাঁরা ভারতে নানা অর্থনৈতিক অপরাধ করে বিদেশে পালিয়ে গিয়েছেন, তাঁদের ধরার জন্যই ওই আইন করা হয়েছে। আইনে বলা হয়েছে, ১০০ কোটি টাকা বা তার বেশি পরিমাণ অর্থ তছরুপের জন্য যাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে এবং পুলিশের হাত এড়াতে যাঁরা বিদেশে পালিয়ে গিয়েছেন, তাঁদের পলাতক অর্থনৈতিক অপরাধী বলে গণ্য করা হবে। ওই মামলার বিচার হবে বিশেষ দুর্নীতি দমন আদালতে।

গত কয়েক বছরে বেশ কয়েকজন শিল্পপতির নাম জানা গিয়েছে যাঁরা এদেশে বিপুল পরিমাণ টাকা তছরুপ করে বিদেশে পালিয়ে গিয়েছেন। তাঁদের অন্যতম হলেন নীরব মোদী ও মেহুল চোকসি। মেহুল ও তাঁর ভাইপো তথা হিরে ব্যবসায়ী নীরবের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁরা পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের ১৩ হাজার কোটি টাকা চুরি করে বিদেশে পালিয়ে গিয়েছেন। মেহুল এখন অ্যান্টিগুয়া এবং বারবুডায় বাস করেন। তিনি অ্যান্টিগুয়ার নাগরিকত্বও নিয়েছেন। এই অবস্থায় তাঁকে বন্দি করে ভারতে আনা কতদূর সম্ভব হবে তা নিয়ে সন্দেহ আছে অনেকেরই।

বিজয় মালিয়া এখন রয়েছেন ব্রিটেনে। তাঁকে বন্দি করে ভারতে আনার জন্য সেদেশের আদালতে আর্জি জানিয়েছে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাগুলি। গত মাসে ব্রিটেনের আদালতের বিচারক বলেন, জালিয়াতির মামলায় বিচারের জন্য বিজয় মালিয়াকে ভারতে নিয়ে যাওয়া যেতে পারে।

মালিয়া আদালতে বলেছিলেন, ভারতের জেলের ভিতরে বন্দিদের খুব খারাপ পরিবেশে রাখা হয়। সেখানে নিয়ে গেলে তাঁর গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ার সম্ভাবনা আছে। তখন ভারতের গোয়েন্দারা জেলের ভিতরকার ভিডিও চিত্র আদালতে পেশ করেন।

২০১৬ সালে স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড তাঁর বিরুদ্ধে বন্দি প্রত্যর্পণের ওয়ারেন্ট জারি করে। তিনি এখন জামিনে মুক্ত আছেন।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More