মমতা শুধুই ছোট বোনের সঙ্গে? নাকি দুই বোনেরই পাশে, কৌতূহল আকাশ ছুঁয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি শুধুই ‘ছোট বোনের’ সঙ্গে থাকবেন? নাকি ছোট, মেজ দু’জনেরই পাশে থেকে আরও একবার ঝাঁপ দেবেন ভোট পরীক্ষায়?

বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের পূর্ণাঙ্গ প্রার্থী তালিকা প্রকাশ হতে পারে শুক্রবার। তার আগে রাজ্য রাজনীতিতে এই কৌতূহল যেন আকাশ ছুঁতে চাইছে।

ছোট বোন মানে নন্দীগ্রাম। মেজ বোন ভবানীপুর। জানুয়ারি মাসের ১৮ তারিখ পূর্ব মেদিনীপুরের তেখালিতে সভা করেছিলেন মমতা। সেই সভাতেই তিনি ঘোষণা করেছিলেন এ বার নন্দীগ্রামে প্রার্থী হবেন তিনি। সে দিন তিনি প্রথমে বলেছিলেন, নন্দীগ্রাম সিটে কারও নাম আমি এখনই বলছি না। পরে বলব। তবে নন্দীগ্রাম সিটে ভাল মানুষ দেব, যিনি সত্যিই আপনাদের কাছে পড়ে থেকে কাজ করবেন।”

পর মুহূর্তে আবার বলেন, “এমনিতে এটা জেনারেল সিট। আচ্ছা আমিই যদি নন্দীগ্রামে দাঁড়াই, কেমন হয়? একটু ভাবছিলাম, মানে কথার কথা, একটু বললাম, একটু ইচ্ছে হল, একটু গ্রামীণ জায়গা, একটু আমার মনের জায়গা।… আমি হয়তো ভোটের সময় বেশি থাকতে পারব না। তার পর যা কাজ আমি সব করে দেব”। কোনও বিরতি না দিয়েই তিনি বলে চলেন,–“ভবানীপুরকেও আমি অবহেলা করছি না। সেখানেও ভাল প্রার্থী দেব। তবে বক্সীকে (তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী) বলব নন্দীগ্রামে যেন আমার নামটা থাকে।”

তার পর দিদির কী মনে হয়েছিল, তিনিই জানেন। বক্তৃতার একদম শেষে আবার বলেন,“ভবানীপুর আমার মেজ বোন, নন্দীগ্রাম আমার ছোট বোন। পারলে আমি দুটো আসনেই লড়ব। তবে নন্দীগ্রামে দাঁড়াবই।”

এ বার ভোটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোথা থেকে প্রার্থী হবেন তা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে গত প্রায় এর বছর ধরেই জল্পনা রয়েছে। লোকসভা ভোটে ভবানীপুরে মাত্র ৩ হাজারের সামান্য বেশি ভোটে এগিয়েছিল তৃণমূল। সেই কারণেই মূলত জল্পনার সূত্রপাত। কেউ কেউ আন্দাজ লাগাতে শুরু করেন যে দিদি ভবানীপুরের পরিবর্তে বালিগঞ্জ, কসবা বা মেটিয়াবুরুজ থেকে প্রার্থী হতে পারেন। আবার তৃণমূলের অনেক নেতা বলছিলেন, এ সব বাজে কথা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভবানীপুরেই ফের প্রার্থী হবেন। লোকসভা ভোটে যাই হোক, দিদি প্রার্থী হলে সমস্ত সমীকরণ বদলে যায়।

এহেন পরিস্থিতিতে মমতা নন্দীগ্রামে দাঁড়ানোর কথা ঘোষণা করতেই অনেকে বলতে শুরু করেন, মাস্টারস্ট্রোক দিয়েছেন দিদি। নন্দীগ্রাম থেকে বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হবে। মমতা নন্দীগ্রামে প্রার্থী হয়ে গোটা মেদিনীপুরে প্রভাব ফেলবেন।

কিন্তু এর পাল্টা প্রচারে নামে বিজেপি। প্রথমে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, নন্দীগ্রামে মাননীয়াকে হাফ লাখ ভোটে হারাব। পরে তিনি বলেন, নন্দীগ্রামেই আপনাকে প্রার্থী হতে হবে। দুটি আসনে প্রার্থী হওয়া চলবে না। পরে অমিত শাহর নির্দেশে মুকুল রায় সহ চোদ্দ জন বিজেপি নেতা একই টুইট করে বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রাম থেকে প্রার্থী হবেন বলে ঘোষণা করেছেন ঠিক। কিন্তু ওনাকে এও বলতে হবে উনি শুধু নন্দীগ্রামেই প্রার্থী হবেন। নইলে বুঝতে হবে নন্দীগ্রামের মানুষের উপর তাঁর ভরসা নেই।

অনেকের মতে, এটা ঠিক যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রাম ছাড়া অন্য কোনও আসলে প্রার্থী হলে বিষয়টা লঘু হয়ে যেতে পারে। তাতে এটাই বোঝাবে যে নন্দীগ্রামে জয়ের ব্যাপারে তিনি নিশ্চিত নন। এর পাল্টা যুক্তি অবশ্য তৃণমূলের রয়েছে। তাঁদের কথায়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী চোদ্দ সালের লোকসভা ভোটে দুটি আসন থেকে লড়েছিলেন। তা হলে কি তখন মোদীর আত্মবিশ্বাসে ঘাটতি ছিল!

এ সবের চাপানউতোরের উর্ধ্বে অবশ্য সার সত্য এখন একটাই। তা হল, দিদি কি একটি আসনে লড়বেন, না দুটি আসন থেকে! কালই হয়তো তার জবাব পাওয়া যেতে পারে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More