বয়স ১৮-র ওপর, নিজের পছন্দের ধর্ম বাছতে পারেন যে কেউ, বলল সুপ্রিম কোর্ট

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কালা জাদু, ধর্মবদল নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্র, রাজ্যগুলিকে নির্দেশ দেওয়ার আবেদন সম্বলিত পিটিশন বিবেচনার জন্য গ্রহণ করতে চাইল না সুপ্রিম কোর্ট। আবেদনকারী অ্যাডভোকেট অশ্বিনী উপাধ্যায়ের পক্ষে সওয়ালকারী সিনিয়র আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণকে তিন বিচারপতির বেঞ্চ ক্ষোভের সুরে বলে, সংবিধানের ৩২ ধারার আওতায় এ কেমন ধরনের রিট পিটিশন! আমরা আপনার বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের জরিমানা ধার্য করব। নিজের ঝুঁকিতে সওয়াল করুন। ১৮র বেশি বয়সের একটি মানুষকে কেন নিজেদের ধর্ম বেছে নেওয়ার অধিকার থাকতে পারে না, তার কোনও কারণ নেই বলে অভিমত জানিয়েছে বিচারপতি আরএফ নরিমান, বিচারপতি বি আর গাভাই ও বিচারপতি হৃষিকেশ রায়ের বেঞ্চ। শঙ্করনারায়ণকে বিচারপতিরা আরও বলেন, সংবিধানে প্রোপাগেট বা প্রচার শব্দটা থাকার একটা কারণ আছে। শঙ্করানারায়ণ পিটিশনটি তুলে নিতে চান, আবেদন করেন তাঁকে এ ব্যাপারে সরকার ও আইন কমিশনের কাছে বক্তব্য পেশ করার অনুমতি দেওয়া হোক কিন্তু তাঁকে আইন কমিশনের দ্বারস্থ হওয়ার অনুমতি দেয়নি বেঞ্চ। বলেছে, না, এটা দেওয়া যাবে না
উপাধ্যায়ের পিটিশনটিকেই প্রত্যাহৃত বলে খারিজ করে দেয় বেঞ্চ।
‘ধর্মের অপব্যবহারে’র ওপর নজর রাখতে ধর্মান্তর আইন প্রয়োগে একটি কমিটি নিয়োগ করা যায় কিনা, সে ব্যাপারে নিশ্চিত হতেও নির্দেশ দেওয়ার আবেদন করা হয়েছিল উপাধ্যায়ের পিটিশনে।
যেন তেন প্রকারেণ, খেয়াল খুশি মতো ধর্ম বদলানো হলে সংবিধানের ১৪, ২১, ২৫ অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন তো হয়ই, তা ভারতীয় সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অবিচ্ছেদ্য অংশ ধর্মনিরপেক্ষতার মৌলিক নীতিরও পরিপন্থী। এই প্রেক্ষাপটেই উপাধ্যায়ের পিটিশনে বলা হয়েছে, আবেদনকারী ক্ষোভের সঙ্গে বলতে চান, ৫১ এ অনুচ্ছেদে তাদের কর্তব্য হওয়া সত্ত্বেও কেন্দ্র বা রাজ্য, উভয়েই কালা জাদু, কুসংস্কার, ছলেবলে ধর্মান্তর ঠেকাতে সফল হয়নি। এর বিরুদ্ধে সরকার সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ করতে পারেনি বলে সওয়াল করে পিটিশনে বলা হয়েছে, কেন্দ্র কোনও আইন চালু করতে পারে যাতে ন্যূনতম তিন বছর থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ দশ বছরের জেল, তার সঙ্গে বড় অঙ্কের জরিমানার সংস্থান থাকে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More