জাপানের আজব দ্বীপ এওশিমা, বিশ্ব চেনে ‘বিড়াল দ্বীপ’ নামে

এক কিলোমিটার লম্বা এই দ্বীপে বাস করেন মাত্র ছ'জন মানুষ।

 দ্য ওয়াল ব্যুরো: জাপানের সেতো সাগরে ভাসছে এওশিমা দ্বীপ। একসময় মৎস্যজীবীদের ডেরা ছিল। ১৯৪৫ সাল নাগাদ এই দ্বীপে বাস করতেন প্রায় ৯০০ মৎস্যজীবী। তারপরে হঠাৎই দ্বীপে কমতে শুরু করেছিল মানুষের সংখ্যা। দ্বীপের জনসংখ্যা কমতে কমতে ২০১৮ সালে এসে দাঁড়িয়েছিল মাত্র তেরো। ২০১৯ সালে জানা গিয়েছিল এক কিলোমিটার লম্বা এই দ্বীপে বাস করেন মাত্র ছ’জন মানুষ।

রোগ, প্রাকৃতিক বিপর্যয় বা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে দ্বীপে মানুষের সংখ্যা কমে যায়নি। মানুষের সংখ্যা কমে গিয়েছিল, আমাদের অতি পরিচিত চারপেয়েরা দ্বীপটির দখল নিয়ে নেওয়ায়। মৎস্যজীবীদের সঙ্গেই জাপানের মূল ভূখন্ড থেকে চলে এসেছিল এই চারপেয়েদের দল। তারপর তারা মা ষষ্ঠীর কৃপায় উল্কাগতিতে বংশবৃদ্ধি করে দ্বীপ ছাড়া করেছে মানবপ্রজাতিকে। এওশিমা দ্বীপে এখন চলে তাদের রাজত্ব, আমরা যাদের চিনি  বিড়াল নামে। এইমুহুর্তে দ্বীপে মানুষের সংখ্যা ছয়, বিড়ালের সংখ্যা প্রায় সাড়ে তিনশো।

নাগাহামা বন্দর থেকে সমুদ্রপথে তিরিশ মিনিট লাগে এওশিমা পৌঁছাতে। অপূর্ব সুন্দর দ্বীপটিকে ঘিরে আছে নীল সফেন সমুদ্র।
এওশিমা দ্বীপে মৎসজীবীদের গ্রাম। এখন প্রায় জনমানব শূন্য। মাত্র ৬ জন মানুষ থাকেন। বিড়ালদের দেখাশুনা করার জন্য।
ছজন বাসিন্দাকেও ঘর থেকে সাবধানে বের হতে হয়। পাছে বিড়ালদের গায়ে পা পড়ে যায়।
এওশিমা দ্বীপের যেদিকে তাকাবেন সেদিকে এই দৃশ্য দেখতে পাওয়া যাবে। যেন বিড়ালদের সভা চলছে। এই ছবিতে দেখতে পাওয়া যাচ্ছে, বিড়ালরা পর্যটকদের বোট দ্বীপে ভেড়ার জন্য অপেক্ষা করছে। তারা জানে পর্যটকেরা ওদের জন্য কিছু উপহার আনবেন।
পর্যটকরা নামার আগেই বোট ঘিরে ফেলে বিড়ালেরা। যে আগে যাবে সে আগে পাবে, এই ধারনা নিয়েই।
পর্যটকেদের অভিবাদন জানায় দ্বীপের বাসিন্দারা। তারা কিন্তু কেউ আক্রমণাত্মক নয়। বিড়ালরা জানে পর্যটকেরা তাদের দেখতেই  দ্বীপে পা রেখেছেন।
পর্যটকরা তাদের জন্য মুলত মাছ নিয়ে আসেন। কেউ কেউ আনেন চকোলেটও।
খাওয়া হয়ে গেলে খুশিমনে বসে পড়ে পর্যটকদের ক্যামেরার সামনে। কারণ তারা জানে,পর্যটকদের খুশি রাখলেই জুটবে মাছ।  বিড়ালরা তো আর সমুদ্রে নেমে মাছ ধরবে না।
মানুষের ছেড়ে যাওয়া বাড়িঘর এখন বিড়ালদের দখলে। পর্যটকদের সেখানেও নিয়ে যায় বিড়ালেরা।
তবে তারা বিছানায় ঘুমায় না। ভাঙা পিয়ানোর খোল, টিভি বা খাটের তলা হল তাদের পছন্দের জায়গা।
পর্যটকরা বিদায় নেওয়ার পরে বিড়ালেরা ফিরে চলে যে যার নিজের ঘরে। নয়ত খেলার মাঠে। না দ্বীপে কোনও খেলার মাঠ নেই। পুরো দ্বীপটাই যে তাদের খেলার মাঠ।

 

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.