বিজয়ন ও তাঁর তিন মন্ত্রী আরব থেকে সোনা স্মাগলিং-এর কথা জানতেন, কোর্টে বলল কাস্টমস

দ্য ওয়াল ব্যুরো : গতবছর জুলাই মাসে তিরুঅনন্তপুর বিমানবন্দরে ৩০ কেজি সোনা সহ এক ব্যক্তিকে আটক করে শুল্ক দফতর। সংযুক্ত আরব আমিরশাহি থেকে চোরাপথে ওই সোনা আনা হচ্ছিল। ওই মামলায় প্রধান অভিযুক্ত স্বপ্না সুরেশ জানান, মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের প্রাক্তন প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি এম শিবশংকর ওই স্মাগলিং চক্রে জড়িত ছিলেন। তিনিই স্মাগলিং সিন্ডিকেটের হয়ে রাজনীতিক ও কনস্যুলেট কর্মীদের যোগাযোগ রাখতেন। স্বপ্না সুরেশের বক্তব্য উদ্ধৃত করে শুক্রবার শুল্ক দফতর কেরল হাইকোর্টে জানায়, মুখ্যমন্ত্রী, তাঁর অপর তিন মন্ত্রী ও বিধানসভার স্পিকার সোনা চোরাচালানের কথা জানতেন।

স্বপ্না সুরেশ জানান, তিনি আরবী ভাষা শিখেছিলেন। স্মাগলারদের সঙ্গে যখন রাজনীতিকরা বৈঠকে বসতেন, তাঁকে দোভাষীর কাজ করতে হত। কাস্টমসের কর্তা সুমিত কুমার এদিন হাইকোর্টে হলফনামা দিয়ে বলেন, “স্বপ্না সুরেশ খোলাখুলি জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী নিজে ও তাঁর তিন মন্ত্রী বেআইনি কার্যকলাপে যুক্ত ছিলেন।” বিজয়নের দল সিপিএম স্থির করেছে, শনিবার কাস্টমস অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখাবে। তাদের অভিযোগ, কেরল সরকারের বদনাম করার জন্য কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করা হচ্ছে।

স্বপ্না সুরেশ যে তিন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন তাঁদের অন্যতম কে টি জলিল বলেন, “এক অভিযুক্তের বিবৃতির ওপরে ভিত্তি করে কেউ আমাদের ভয় দেখাতে পারবে না।”

রাজ্যে বিরোধী কংগ্রেস ও বিজেপি অবিলম্বে মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছে। বিরোধী নেতা রমেশ চেন্নিথালা বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর আর এক মিনিটও ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই। তিনি আমাদের রাজ্যকে লজ্জায় ফেলেছেন।” রাজ্য বিজেপির সভাপতি কে সুদর্শন বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রীরা যে অবৈধ কার্যকলাপে যুক্ত ছিলেন তাতে সন্দেহ নেই। বিজয়নের আর ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে থাকা উচিত নয়।”

কেরল সরকারের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, কাস্টমসের ওই হলফনামা নিয়ে শীঘ্রই প্রতিক্রিয়া জানানো হবে। একইসঙ্গে তিনি বলেন, পরিকল্পিতভাবে হলফনামার কিছু অংশ ফাঁস করা হয়েছে। ভোটের আগে রাজ্য সরকারের বদনাম করাই তার উদ্দেশ্য।

এখন তিরুঅনন্তপুরমের জেলা মহিলা সংশোধনাগারে বন্দি আছেন স্বপ্না সুরেশ। ওই মামলার তদন্তের দায়িত্বে আছে এনআইএ। এখনও পর্যন্ত সোনা চোরাচালান মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন ৩০ জন।

কিছুদিন আগেই কেরলে প্রচারে এসেছিলেন রাহুল। ওয়ানাড়ে একটি কৃষক জমায়েতে ট্রাক্টর নিয়ে গিয়েছিলেন। মৎস্যজীবীদের সঙ্গে জলে নেমে সাঁতারও কাটেন তিনি। কয়েকদিন আগে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথও কেরল গিয়ে ভোটের প্রচার শুরু করে এসেছেন।

এরপর সিপিএমের একটি কর্মসূচিতে কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন বলেন, “ওয়ানাড়ের সাংসদ রাহুল গান্ধী এবং উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের কেরল সম্পর্কে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থাকতে পারে তবে বামেদের বিরুদ্ধে তাঁদের অনুভূতি এক। বামেদের বিরুদ্ধে তাঁরা ঐক্যবদ্ধ।

সিপিএম পলিটব্যুরোর এই সদস্য বলেন, “কংগ্রেসের কোনও লজ্জা আছে? নয়ের দশকে যে অর্থনীতি কংগ্রেস চালু করেছে তার ফলেই লক্ষ লক্ষ কৃষকের প্রাণ গিয়েছে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More