যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ভ্যাকসিন নিন, দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার পরে দেশবাসীর উদ্দেশে আহ্বান মোদীর

দ্য ওয়াল ব্যুরো : প্রথম ডোজ নেওয়ার ৩৭ দিন বাদে, বৃহস্পতিবার কোভিড ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এদিন দিল্লি এইমসে ভ্যাকসিন নেওয়ার পরে মোদী দেশবাসীর উদ্দেশে আহ্বান জানান, যাঁরা ভ্যাকসিন নেওয়ার উপযুক্ত বিবেচিত হবেন, তাঁরা দ্রুত নিয়ে নিন।

গত ১ মার্চ থেকে ৬০ বছরের বেশি বয়সী ও ৪৫ বছরের বেশি বয়সের যাঁরা প্রাণঘাতী রোগে আক্রান্ত, তাঁদের করোনা ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু হয়। মোদীও তখনই ভ্যাকসিন নেন। এদিন ভ্যাকসিন নেওয়ার একটি ছবি টুইট করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তাতে দেখা যাচ্ছে, টিকা নেওয়ার সময় তিনি মাস্ক পরেছেন। টুইটারে তিনি লিখেছেন, “আজ এইমসে কোভিড ১৯ ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজ নিলাম। টিকাকরণের মাধ্যমেই আমরা ভাইরাসকে পরাজিত করতে পারি। যদি আপনি ভ্যাকসিন নেওয়ার উপযুক্ত হন, দ্রুত নিয়ে নিন।”

বৃহস্পতিবার সকালে জানা যায়, তার আগের ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ২৬ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। দৈনিক সংক্রমণ শুধু নয়, করোনা অ্যাকটিভ রোগীর সংখ্যাও ঘুম কেড়ে নিয়েছে স্বাস্থ্যমন্ত্রকের। অ্যাকটিভ কেসের হার সাত শতাংশ, আক্রান্ত ৯ লাখের বেশি। এত বিপুল সংক্রমণ গত বছরও হয়নি দেশে।

গত ২৪ ঘণ্টায় ভাইরাস সংক্রমণে মৃত্যু হয়েছে ৬৮৫ জনের। অথচ এক মাস আগেই দৈনিক মৃত্যু ২০০-র নীচে নেমে গিয়েছিল। তবে মৃত্যুহার এখনও দুই শতাংশের নীচেই আছে।

করোনার এই লাগামছাড়া দশা মহারাষ্ট্র দিয়ে শুরু হয়েছিল। নতুন সংক্রমণ ৩০ হাজার থেকে বাড়তে বাড়তে ৫০ হাজারের চৌকাঠে এসে হাজির হয়েছিল দুদিন আগেই। এখন ফের তা শীর্ষে উঠে গেছে। মহারাষ্ট্রে একদিনেই আক্রান্ত ৬০ হাজারের কাছাকাছি। মুম্বইতে দৈনিক সংক্রমণ ১০ হাজার, পুণেতে ১১ হাজার, মাথায় হাত পড়ে গেছে রাজ্য সরকারের। অন্যদিকে, দিল্লি, কর্নাটক, কেরল, পাঞ্জাব, ছত্তীসগড়, উত্তরপ্রদেশ, তামিলনাড়ুতেও করোনা গ্রাফ গত দু’মাস থেকে সপ্তমে চড়ে আছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক জানিয়েছে, দেশে নতুন করে মোট আক্রান্তের ৮১.৪২ শতাংশই এসেছে এই ৮ রাজ্য থেকে।

মহারাষ্ট্রের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাজেশ তোপী বলেন, “রাজ্যে যে পরিমাণ ভ্যাকসিন মজুত করা আছে, তাতে তিনদিন চলতে পারে। খোদ মুম্বইতেও আগামী তিনদিনের বেশি ভ্যাকসিন দেওয়া যাবে না। আমরা কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছি যাতে দ্রুত আরও ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। এই রাজ্যে করোনা সংক্রমণের হার দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি।” পরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী নির্দিষ্ট হিসাব দিয়ে জানান, বুধবার রাজ্যে রয়েছে ভ্যাকসিনের ১৪ লক্ষ ডোজ। তাতে আর তিনদিন চলবে। প্রতিদিন যদি পাঁচ লক্ষ লোককে ভ্যাকসিন দিতে হয়, প্রতি সপ্তাহে আমাদের ৪০ লক্ষ ডোজ ভ্যাকসিন লাগবে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More