‘চলছে না চলবে না’-র ব্রিগেডে ‘ফিউচার সিটি’র মডেল দেখালেন প্রধানমন্ত্রী, তাতেই দীর্ঘ হল বক্তৃতা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সেই কবে থেকে কাটমানি সিন্ডিকেট নিয়ে তৃণমূলের সমালোচনায় অবতীর্ণ বিজেপি। ইদানীং নতুন সংযোজন বলতে ‘ভাইপো’ প্রসঙ্গ। তাও এখন বহু ব্যবহারে জীর্ণ হচ্ছে ক্রমশ। উল্টে এ প্রশ্নও উঠছে, বিজেপি ক্ষমতায় এলেই বা নতুন কী হবে বাংলায়!

রবিবাসরীয় ব্রিগেডে সেই নতুনেরই খোঁজ দিতে চাইলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বহু লক্ষাধিক কর্মী সমর্থকের জমায়েতে দাঁড়িয়ে বোঝাতে চাইলেন, দিদির শাসন ব্যবস্থার স্রেফ সমালোচনা করা নয়, বাংলার উন্নয়নের বিকল্প ভাবনাও রয়েছে তাঁর। কী সেই ভাবনা?

এদিন ব্রিগেডের ভিড় দেখে অভিভূত হয়ে যান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “এত বড় সভা জীবনে দেখিনি। আজকের ব্রিগেড ঐতিহাসিক। তবে কিনা এই ব্রিগেডের ইতিহাসও দীর্ঘ। বাংলার উন্নয়নে বাধা দেওয়ার সাক্ষীও এই গ্রাউন্ড। কিন্তু দেখতে পাচ্ছি, এ বার আড়াআড়ি বিভাজন তৈরি হয়েছে। একদিকে তৃণমূল, বাম ও কংগ্রেস এবং তাদের উন্নয়ন বিরোধী অ্যাজেন্ডা। অন্যদিকে জনতা। যারা বাংলার উন্নতি চাইছে, শান্তি চাইছে।”

এর পরই তাঁর বিকল্প মডেলের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন:

  • “এই ব্রিগেড গ্রাউন্ড থেকেই বাংলার পুননির্মাণের আশ্বাস দিতে চাই আমি। এমন পরিবেশ গড়ে তুলব যেখানে বাংলার সংস্কৃতিকে রক্ষা করা হবে, উন্নয়ন হবে, বিনিয়োগ বাড়বে, কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। এখানকার ছেলেমেয়েদের জন্য, শিল্পের জন্য, বাংলার জন্য ২৪ ঘন্টা লড়াই করব”।
  • “বাংলায় আসল পরিবর্তন আনাই বিজেপির পরিশ্রমের আধার হবে। আসল পরিবর্তনের মানে, এমন বাংলা যেখানে যুবকদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ পাওয়া যাবে, এমন বাংলা যেখানে মানুষকে রাজ্য ছেড়ে যেতে হবে না, আসল পরিবর্তন মানে এমন বাংলা যেখানে শিল্প বাণিজ্যের উন্নতি হবে, বিনিয়োগ আসবে, এমন বাংলা যেখানে একুশ শতকের আধুনিক পরিকাঠামো হবে, যেখানে গরিবদের অগ্রসর হওয়ার সুযোগ থাকবে, যেখানে সমাজের সব শ্রেণির মানুষের সমান ভাগিদারি থাকবে”।
  • “উত্তরবঙ্গ, দক্ষিণবঙ্গ, পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে কোনও পার্থক্য করা হবে না। সবাই গুরুত্ব পাবে। সবার কল্যাণ করাই প্রশাসনের মন্ত্র হবে। কারও তুষ্টিকরণ হবে না”।
  • “স্বাধীনতার পর গত ৭৫ বছরে বাংলা থেকে যা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে, তা আমার থেকে আপনারা ভাল জানেন। বাংলা থেকে যা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে, তা ফেরত দেব। আমার কথা লিখে রাখুন”।
  • “গোটা দেশের মতো আগামী ২৫ বছর বাংলার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই এবারের ভোটের পৃথক মাহাত্ম্য রয়েছে। কারণ, আগামী পাঁচ বছরে সেই বৃহত্তর উন্নয়নের আধার তৈরি হবে। যাতে ২০৪৭ সালে দেশ যখন স্বাধীনতার শতবর্ষ পালন করবে, তখন যাতে বাংলা দেশের পয়লা নম্বর স্থানে”।
  • কলকাতাকে ‘সিটি অব জয়’ বলা হয়। কিন্তু শহর কলকাতায় আধুনিক পরিকাঠামো কতটা গড়ে উঠেছে? কেন তাকে ‘সিটি অব ফিউচার’ বানানো যাবে না? কদিন আগে একটা সমীক্ষা হয়েছে। তাতে বাংলার মানুষ বলেছে, কলকাতাকে তারা ভবিষ্যতের শহর হিসাবে দেখতে চায়।
  • বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাংলায় আরও স্মার্ট সিটি হবে। সেখানে পড়াই কামাই এবং মানুষের চিকিৎসার জন্য দাওয়াইয়ের ব্যবস্থা থাকবে। পরিকাঠামো উন্নতি হবে। গ্রাম ও শহরের প্রশাসনিক ব্যবস্থাতেও সংস্কার করা হবে।
  • বাংলায় পঞ্চায়েত ও পুর ব্যবস্থার গণতান্ত্রিক কাঠামোকে তছনছ করা হয়েছে। বিজেপি ক্ষমতায় এলে তা ঠিক করবে। পুলিশ ব্যবস্থায় মানুষের আস্থা ফেরাবে।
  • বাংলায় চাকরির পরীক্ষা স্বচ্ছতার সঙ্গে হবে। স্কিল ডেভেলপমেন্ট স্বচ্ছতার সঙ্গে হবে। কারিগরী, চিকিৎসার মতো বিষয়ে পঠনপাঠন যাতে বাংলায় হয়, তার ব্যবস্থাও করা হবে। ইংরেজি না জানলেও গরিবের ছেলেমেয়েরা যাতে ডাক্তারি পড়তে পারে, ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে পারে, সেই ব্যবস্থাও করব আমরা।

বস্তুত তাঁর এই বিকল্প ভাবনা তুলে ধরতেই প্রধানমন্ত্রী এদিন দীর্ঘ সময় নেন। সেই সঙ্গে ব্যক্তি আক্রমণ না করেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পর্কে আম ধারণাতেই জোরদার আঘাত হানেন মোদী। বারবার বোঝাতে চান, বাংলায় যে সরকার চলেছে তা দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিয়েছে, তাত জাতপাতের রাজনীতি করে সমাজকে ভেঙেছে, তা স্বজনপোষণও করেছে নির্লজ্জ ভাবে। এমন ব্যবস্থায় আর যাই হোক, আধুনিক বাংলা গঠন সম্ভব নয়।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More