নিজে কোভ্যাকসিন নিয়ে দেশকে বার্তা দিয়েছেন মোদী, বললেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষবর্ধন

দ্য ওয়াল ব্যুরো : ভারতে দেশীয় গবেষণার মাধ্যমে তৈরি হয়েছে কোভিডের ভ্যাকসিন কোভ্যাকসিন। ওই প্রতিষেধক কতদূর কার্যকরী তা নিয়ে সন্দেহ ছিল অনেকের। তাঁরা ওই ভ্যাকসিন নিতে চাইছিলেন না। সোমবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজে কোভ্যাকসিনের টিকা নিয়েছেন। এরপর কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষবর্ধন বলেন, ওই ভ্যাকসিন নেওয়ার মাধ্যমে সারা দেশকে বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, ওই প্রতিষেধক সম্পর্কে যে সব ভুল তথ্য ছড়িয়েছে, তা ভুলে যাওয়াই ভাল।

এখনও পর্যন্ত ভারতে দু’টি ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে। কোভিশিল্ড ও কোভ্যাকসিন। হর্ষবর্ধন বলেন, “আমি প্রথম থেকে বলে আসছি, দু’টি ভ্যাকসিনই নিরাপদ ও কার্যকরী। প্রধানমন্ত্রী মোদীকে আমি ধন্যবাদ জানাই। তিনি সবসময় বলেন, অপরকে কিছু করতে বলার আগে নিজেকে করে দেখাতে হয়। তিনি নিজেও সেই নীতিতে চলেন। যখন ৬০ বছরের বেশি বয়সীদের ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু হয়েছে, মোদী নিজে কোভ্যাকসিন নিয়েছেন।”

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, তিনি নিজে ভ্যাকসিন নেওয়ার জন্য বুকিং করবেন সোমবার। সম্ভবত মঙ্গলবার তিনি ভ্যাকসিন নেবেন। তিনি এদিন বলেছেন, যাঁদের বয়স ৬০ বছরের বেশি তাঁদের দ্রুত ভ্যাকসিন নেওয়া উচিত। যাঁদের বয়স ৪৫ বছরের বেশি এবং নানা রোগ আছে, তাঁদের উদ্দেশেও তিনি একই আহ্বান জানান। প্রত্যেক সাংসদ, বিধায়ক, এমনকি বিরোধীদেরও তিনি ভ্যাকসিন নিতে বলেন। তাঁর দাবি, এর ফলে সাধারণ মানুষের কাছে বার্তা যাবে যে, দ্রুত টিকা নেওয়া উচিত।

সোমবার টিকা নেওয়ার পরে টুইটে মোদী বলেন, “এইমস-এ আমার কোভিড ১৯ টিকার প্রথম ডোজ নিলাম। এত কম সময়ের মধ্যে বিশ্বজুড়ে কোভিড-১৯ এর বিরুদ্ধে যেভাবে চিকিৎসক ও বিজ্ঞানীরা লড়াই করেছেন তা সত্যিই প্রশংসার যোগ্য। যাঁরা টিকা নেওয়ার যোগ্য তাঁদের সবাইকে টিকা নেওয়ার আবেদন করছি আমি। আমরা সবাই মিলে ভারতকে কোভিড মুক্ত করে তুলব।”

ভারতে টিকাকরণ শুরু হওয়ার পর থেকে প্রথম দুই পর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মী ও ফ্রন্টলাইন কর্মীদের দেওয়া হয়েছে টিকা। সেই কাজ এখনও চলছে। তবে তার মধ্যেই ১ মার্চ অর্থাৎ সোমবার থেকেই দেশজুড়ে ৬০ বছরের বেশি বয়সী মানুষ ও ৪৫ বছরের বেশি বয়সী যাঁদের কো-মর্বিডিটি রয়েছে তাঁদের টিকা দেওয়ার কাজ শুরু হবে।

সোমবার সকাল ৯টা থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের কোউইন অ্যাপ ও আরোগ্য সেতু অ্যাপে নাম নথিভুক্ত করা যাবে। এছাড়া সরাসরি কেন্দ্রে গিয়েও নাম নথিভুক্ত করে টিকা নেওয়া যেতে পারে। ১৬ জানুয়ারি থেকে ভারতে শুরু হওয়া টিকাকরণ কর্মসূচিতে এখনও পর্যন্ত ১ কোটি ৪৩ লাখ মানুষকে টিকা দেওয়া হয়েছে। অগস্ট মাসের মধ্যে ৩০ কোটি মানুষকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে কেন্দ্র। তাই টিকাকরণে আরও গতি আনতে চাইছে তারা। ফলে সরকারি মাধ্যমের সঙ্গে বেসরকারি মাধ্যমকেও টিকাকরণের সঙ্গে জুড়েছে সরকার।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More