চিনকে ভয় পেয়েছেন মোদী, তামিলনাড়ুতে প্রচারে গিয়ে বললেন রাহুল

দ্য ওয়াল ব্যুরো : শনিবার তামিলনাড়ুর থুথুকুড়িতে ভোটের প্রচার করেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধ তিনি দু’টি অভিযোগ করেন। প্রথমত, প্রধানমন্ত্রী চিনকে ভয় পেয়েছেন। দ্বিতীয়ত, তিনি কেবল জনাকয়েক ব্যক্তির স্বার্থে কাজ করে চলেছেন।

তাঁর কথায়, “মোদী কাজের লোক কি না, সেটা আদৌ প্রশ্ন নয়। প্রশ্ন হল, তিনি কাদের স্বার্থে কাজ করছেন?” প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তিনি ফের অভিযোগ করেন, “মোদী দু’জনের হয়ে খুবই কাজ করছেন। হাম দো হামারা দো নীতি অনুযায়ী দু’জনের সম্পত্তি বাড়ছে ব্যাপক হারে। কিন্তু গরিবদের মোদীকে কোনও প্রয়োজন নেই।” রাহুল আগেও অভিযোগ করেছিলেন, মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কয়েকজন ঘনিষ্ঠ শিল্পপতির হয়ে কাজ করছেন।

পরে থুথুকড়ির এক কলেজে আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলেন রাহুল। তাঁর অভিযোগ, লাদাখ সংকটের সময় মোদী চিনকে ভয় পেয়েছিলেন। ২০১৭ সালে ডোকলাম সংকটের সময়ও তিনি চিনের কাছে নতি স্বীকার করেছিলেন। রাহুলের দাবি, “চিনারা আমাদের দেশের এমন কয়েকটি এলাকা দখল করে আছে যা রণকৌশলের দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা প্রথমে আমাদের এলাকায় ঢুকে পড়ে পরীক্ষা করছিল, ভারত সরকার কীরকম প্রতিক্রিয়া জানায়। তারা দেখেছে আমাদের সরকার কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি। এরপরেই তারা লাদাখে ভারতের জমি দখল করেছে। আমি মনে করি, তারা অরুণাচলেও আমাদের জমি দখল করে রয়েছে।”

তামিলনাড়ুতে বিধানসভা নির্বাচন হবে ৬ এপ্রিল। তার আগে ওই রাজ্যে তিনদিনের প্রচারে গিয়েছেন রাহুল। একটি জনসভায় তিনি বলেন, চিনা আগ্রাসনের কথা শুনে মোদী প্রথমে বলেছিলেন, “আমাদের দেশে কেউ ঢোকেনি।”

পরে তিনি বলেন, “মোদীর কথা শুনে চিনারা বুঝেছিল, তিনি ভয় পেয়ে গিয়েছেন। তারা বুঝেছিল, আমাদের প্রধানমন্ত্রী তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে পারবেন না। দেপসাং অঞ্চলে আমাদের জমি দখল করে রেখেছে চিন। ওই জমি আমাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই সরকার থাকলে দেপসাং-এর জমি ফেরত পাওয়া যাবে না। প্রধানমন্ত্রী সবাইকে বোঝাতে চাইছেন, সব সমস্যার সমাধান হয়ে গিয়েছে। কিন্তু আমরা ওই অঞ্চলটি হারাতে চলেছি।”

রাহুলের মতে, চিনারা যখন একবার বুঝেছে, প্রধানমন্ত্রী ভয় পেয়েছেন, তারা লাদাখেই থেমে থাকবে না। কংগ্রেস নেতার দাবি, তাঁর দল সব সময়েই চিনাদের কড়া হাতে মোকাবিলা করেছে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More