‘মোদী দেশ ও দলের শীর্ষ নেতা’, শিবসেনা নেতার মন্তব্যে নতুন জল্পনা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত আড়াই বছর ধরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্র সরকার, বিজেপির সমালোচনা করাকে কার্যত অভ্যেসে পরিণত করে নিয়েছে শিবসেনা। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে ততটা চড়া দাগে কিছু না বললেও শিবসেনা মুখপাত্র সঞ্জয় রাউত এ ব্যাপারে ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। কিন্তু কী হল কে জানে, হঠাৎ করে সেই সঞ্জয় রাউতই বলে বসলেন নরেন্দ্র মোদীই দেশের শীর্ষ নেতা। তাঁর দলেরও সর্বোচ্চ নেতা তিনিই।

সঞ্জয় রাউত একথা কখন বললেন?

মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে তাঁর রাজ্যের ‘কোটা’ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার একদিন পরেই এহেন মন্তব্য করলেন সঞ্জয়।

মোদী-উদ্ধবের বৈঠক ঘিরে নানা জল্পনা ডানা মেলেছে। অনেকেই বলছেন তাহলে কি আবার ভেঙে যাওয়া সম্পর্ক জোড়া লাগতে চলেছে? মহারাষ্ট্রের ভোটে কী হয়েছিল তা ভুলে যাওয়ার কথা নয়।

বিজেপি-শিবসেনা জোট করে ভোটে লড়ে জিতেওছিল। কিন্তু তারপর শরিকি কোন্দলে জোট ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। দেখা যায়, বিজেপির থেকে বেরিয়ে এসে কংগ্রেস আর এনসিপির সঙ্গে জোট করে সরকার গড়ছে শিবসেনা। কাকভোরে মহারাষ্ট্রের রাজভবনে দেবেন্দ্র ফড়নবিশের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে, অজিত পাওয়ারের উপমুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার সে দৃশ্য জাতীয় রাজনীতির সোনার ফ্রেমে বাঁধানো রয়েছে। তারপর সেই সরকার ভেঙে যাওয়ার ছবিটাও অটুট।

তারপর থেকে বিজেপি শিবসেনা সংঘাত নানান আঙ্গিকে দেখা গিয়েছে। কখনও রাম মন্দির ইস্যুতে, বা মূল্যবৃদ্ধি কিংবা ভ্যাকসিন। কিন্তু হঠাৎই দেখা গেল শিব সৈনিকরা আচমকা নরমপন্থী হয়ে পড়েছেন। তাঁদের গলা থেকে ঝরে পড়ছে মোদীর প্রতি প্রচ্ছন্ন প্রশংসা। আর উদ্ধব ঠাকরে বলছেন এর মধ্যে রাজনীতি দেখবেন না। আমরা হয়তো রাজনৈতিক ভাবে একজায়গায় নেই, কিন্তু আমাদের সম্পর্ক ভাঙেনি।

জাতীয় রাজনীতিতে যখন অনেক টানাপোড়েন শুরু হয়েছে, জিতিন প্রসাদের মতো যখন হাইকমান্ড ঘনিষ্ঠ কংগ্রেস নেতা এক লহমায় বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন, তখন মারাঠা মুলুকে শিব সৈনিকদের এই সব মন্তব্যকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল। তাঁদের মতে রাজনীতি সম্ভাবনার শিল্প। যখন তখন যা খুশি হতে পারে।

Leave a comment

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More