মোদীর ঘনিষ্ঠ অবসরপ্রাপ্ত আইএএস অফিসার যোগ দিলেন বিজেপিতে

দ্য ওয়াল ব্যুরো : ২০ বছর ধরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঘনিষ্ঠ ছিলেন প্রাক্তন আইএএস অফিসার অরবিন্দ কুমার শর্মা। অবসর নেওয়ার পরে বৃহস্পতিবার তিনি যোগ দিলেন বিজেপিতে। তাঁকে উত্তরপ্রদেশে দলের কোনও বড় দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে। তাঁকে সম্ভবত উত্তরপ্রদেশের বিধান পরিষদের সদস্য করা হবে। আগামী ২৮ জানুয়ারি নির্বাচন হবে বিধান পরিষদের ১২ টি আসনে।

এদিন লখনউতে এক অনুষ্ঠানে বিজেপিয়ে যোগ দেন অরবিন্দ কুমার শর্মা। একসময় তিনি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প মন্ত্রকের সচিব ছিলেন। ১৯৮৮ সালের ব্যাচের ওই আই এ এস কেবল দিল্লি নয়, গুজরাতেও মোদীর সঙ্গে কাজ করেছেন। ২০০১ সালে মোদী যখন গুজরাতে মুখ্যমন্ত্রী হন, তখন তিনি ওই রাজ্যের সচিবালয়ে কাজ করতেন। মোদী তাঁকে মুখ্যমন্ত্রীর অফিসে নিয়োগ করেন। ২০১৪ সালে তাঁকে প্রধানমন্ত্রীর অফিসে নিয়োগ করা হয়।

কিছুদিন আগে শোনা যায়, প্রায় শতাধিক প্রাক্তন আইএএস উত্তরপ্রদেশে লাভ জেহাদ নিয়ে আইনের তীব্র সমালোচনা করে চিঠি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে। তাতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, উত্তরপ্রদেশ ঘৃণার রাজনীতির এপিসেন্টার অর্থাত্‍ উত্‍স স্থলে পরিণত হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের কাছে তাঁদের দাবি, অবিলম্বে এই অধ্যাদেশ প্রত্যাহার করুন।

প্রাক্তন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা শিবশঙ্কর মেনন, প্রাক্তন বিদেশ সচিব নিরুপমা রাও, প্রধানমন্ত্রীর প্রাক্তন পরামর্শদাতা টিকেএ নাইয়ারের মতো আমলারা সই করেছেন ওই চিঠিতে।

দীর্ঘ ওই চিঠিতে যোগীর উদ্দেশে মোট ১০৪ জন আমলা লিখেছেন, “একটা সময় উত্তরপ্রদেশকে সবাই গঙ্গা-যমুনার সভ্যতা ভূমি বলে জানত। আজ সেখানেই এত ঘৃণা, বিভেদ এবং গোঁড়ামি। শাসন ব্যবস্থার মধ্যে সাম্প্রদায়িক বিষ ছড়িয়ে পড়েছে।”

লাভ জিহাদের নামে কী ভবে উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন প্রান্তে তরুণ-তরুণীদের উপর হামলা হচ্ছে তার একটার পর একটা উদাহরণ তুলে ধরা হয়েছে প্রাক্তন আমলাদের চিঠিতে। স্পষ্ট লেখা হয়েছে, প্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে-মেয়েদের উপর যে বর্বরোচিত হামলা, নিপীড়ন চলছে সরকারি মদতে তা কোনও সভ্য সমাজে হতে পারে না। সম্প্রতি মুরাদাবাদের বীভৎস ঘটনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে চিঠিতে।

যোগী সরকারের জারি করা এই অধ্যাদেশ নিয়ে ইতিমধ্যেই একাধিক হাইকোর্ট বলেছে, কোনও প্রাপ্তবয়স্ক মহিলা যাঁর সঙ্গে ইচ্ছে থাকতে পারেন। এলাহাবাদ হাইকোর্টও একই কথা বলেছে। সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি মদন বি লকুর এই অধ্যাদেশকে অসাংবিধানিক বলে সমালোচনা করেছেন।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More