পরবাসী

অমর মিত্র
কতদিন ধরে ষাট পেরুনো ভবতোষ কুণ্ডু তাকিয়ে আছে অপ্রবাস হাউজিং কমপ্লেক্সের দিকে। প্রবাসীরা নাম দিয়েছে অপ্রবাস। কত কত ফ্ল্যাট। আটটি টাওয়ার। আটতলা করে সবগুলি। এক এক টাওয়ারে বত্রিশটি ফ্ল্যাট।
ফ্লোরে চারটি করে। প্রায় সব ফ্ল্যাটেরই জানলা বন্ধ। ব্যালকনি শূন্য। রাতে আলো জ্বলে না। প্রায় ভূত-অন্ধকারে ডুবে থাকে অধিকাংশ অপ্রবাসের অনেকটা। ভবতোষের খুব ঈর্ষা হয়। হিংসে। ক্রোধ। এত বড় বড় ফ্ল্যাট, তিনখানি ঘর, ড্রইং, ডাইনিং, ব্যালকনি, অথচ মানুষ নেই। নেই মানে নেই। তারা সব বিদেশে। বিদেশে ঘরবাড়ি অথচ এখানেও করে রেখেছে। ফ্ল্যাটগুলির মালিকদের কারও বয়স চল্লিশ, কেউ ষাট পার হয়ে গেছে, কেউ পৌঁছে গেছে সত্তরে, বিদেশেই মরবে কিন্তু এখানে ফ্ল্যাট। এদের ছেলেমেয়েরাও বিদেশে আছে। তারা ইন্ডিয়া পছন্দ করে না, কলকাতা পছন্দ করে না, এলে পলিউশনে দম আটকে আসে, অথচ এখানে ফ্ল্যাট রেখে দেবে। বছরে একবার আসে, আবার আসেও না। একজন তিন বছর বাদে এসে তিন মাস থেকে গিয়েছিল একা। প্রবাল চন্দ। তার সঙ্গে আলাপ হয়েছিল ভবতোষের। মানে সে আলাপ করেছিল। বারমুডা, স্পোর্টস শু আর টি-শার্ট পরা সেই প্রবাল চন্দ থাকেন আমেরিকায়। প্রশান্ত মহাসাগরের তীরে। চন্দমশায়ের সঙ্গে খুব দোস্তি হয়ে গিয়েছিল ভবতোষের। তাঁর আমেরিকান স্ত্রী আর এক মেয়ে। মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে আর স্ত্রী তাকে ছেড়ে গেছে। এখন তিনি একা। লোকটা আসলে হুগলির মানুষ। মশাগ্রাম। মা-বাবা কেউ নেই। সম্পত্তি সব ভাইবোনেরা নিয়েছে। তাঁর সঙ্গে কোনও যোগাযোগ নেই। তিনি দাঁতের ডাক্তার। ওদেশে খুব পশার। এদেশে বক্তৃতা দিয়ে বেড়ান, যখন আসেন। সেমিনার করেন। ভবতোষ তাঁর খিদমদ খেটেছিল খুব, অ্যাসিস্ট্যান্ট হয়ে গিয়েছিল প্রায়। তার সঙ্গে দিল্লি গিয়েছিল উড়ে। ফিরে এসেছিল দু’দিন বাদে। সেমিনার আর তাজমহল হয়েছিল। ভবতোষকে তিনি কথা দিয়েছিলেন ফ্ল্যাটের চাবি দিয়ে যাবেন। কিন্তু শেষে কী হল ? আচমকা পাখি উড়ে গেল প্রশান্ত মহাসাগরের দিকে। জানতেই পারেনি ভবতোষ। অথচ লোকটা তাকে বলেছিল, তার ফ্ল্যাটে ভবতোষ নিশ্চিন্তে বাস করুক। একা। তিনি তখন ক’দিন রাতে ভবতোষকে রেখেও ছিলেন। সন্ধের পর তিনি সাদা ওয়াইন খেতেন, আবার এক একদিন সিঙ্গল মল্ট হুইস্কি। ভবতোষ সেই প্রথম ওয়াইন খেয়েছে। সিঙ্গল মল্ট হুইস্কি খেয়ে ভুল বকেছিল। প্রবাল স্যারের পা ধরেছিল, ‘স্যার, আমি আপনার ভৃত্য, পুরাতন ভৃত্য, ভূতের মতো চেহারা যেমন অদ্ভুত অতি ঘোর...। আমাকে রেখে দিন, কিছুই হারাবে না। কিছুই চুরি যাবে না। ফ্ল্যাট ধোয়ামোছা হবে সব দিন। আমি শুধু নিশ্চিন্তে ঘুমোব। ফ্যামিলি দেখবে আমি পারি, তাদের ঢুকতেই দেব না এখানে।’
আহা, কী সুন্দর সাজানো ঘর। এসি আছে পুরো ফ্ল্যাটে। বাইরে চল্লিশ ডিগ্রি, ভেতরে বাইশ। ভবতোষের খুব হিংসে হয়। এবার প্রবাল চন্দ এলে দেখিয়ে দেবে। কী দেখাবে ? আবার গিয়ে হাত কচলাবে। উঁহু, কুকুর লেলিয়ে দেবে। রাস্তার কুকুর। জীবন নরক করে দেবে।
"মামার অহংকারের কথা, কিন্তু বলা যাবে না"

ভবতোষ বলল, ‘ভাগনা, তোমার মামার খুব অহংকার, অপ্রবাসে থাকে একা, তোমারেও মন থেকে নেয়নি, কী দারুণ সব ফ্ল্যাট, এন আর আই-রা কিনে ফেলে রেখেছে, অথচ আমার জায়গা নেই শোয়ার।’

‘জানি, আমার মা বলেছে।’ চায়ের কাপে ঠোঁট ছোঁয়াতে ছোঁয়াতে বলল শোভন।

‘আমার সম্বন্ধে ?’

শোভন গম্ভীর হয়ে গেল। ‘না, মামার অহংকারের কথা, কিন্তু বলা যাবে না, হাজার হলেও এক ফ্যামিলি হতে হতে হয়নি।’

‘আমার বোন নীলা নেই বলে তোমাকে আনতে পারলাম, এ বাড়িতে আমার কোনও ঘর নেই।’ ভবতোষ হাত কচলে বলল।

‘মামা যদি আমেরিকা যায়, তুমি থেকো আমার সঙ্গে।’ শোভন বলে।

‘যাবে আমেরিকা ?’ জিজ্ঞেস করে ভবতোষ।

শোভন মাথা নাড়ে, ‘ঠিক নেই, ক’দিন যাক, আমি এসে গেছি, আমি রাজি করাব।’

ভবতোষ বলল, ‘আমার বোন শুধু ফোন করে, প্রাইভেট টক, ফোন তার শেষ হয় না রাত এগারটার আগে, ফোন না শেষ হলে আমি এই ঘরে ঢুকতে পারি না।’

শোভন জিজ্ঞেস করে, ‘সে এখন কোথায় ভব আঙ্কেল ?’

‘ইস্কুল থেকে বন্ধুর বাড়ি, জন্মদিনের অনুষ্ঠান।’

‘তোমার বোনকে শ্বশুরবাড়ি রিটার্ন করে দাও, যদি বলো, আমি তার শ্বশুরঘরে যেতে পারি, ৪৯৩ ধারা দিলে একেবারে ঠান্ডা হয়ে যাবে।’

‘আমার বোন যাবে না।’

‘যাবে না কেন, শ্বশুরবাড়ি না গেলে তুমি ঘর পাবে কী করে ?’

‘আমার কপাল, এই বাড়িতেই থাকবে, বলে তার ভাগ আছে।’

শোভন বলল, ‘তোমার বোনের কি পরকীয়া আছে ?’

ভবতোষ বলল, এগারোটা অবধি ফোন চলে, কী আছে আমি জানি নে, তখন ডোর ক্লোজড।’

শোভন বলল, ‘নাম্বারটা দাও, আমি ফোন ট্যাপ করে জেনে নেব।’

‘সে তো পুলিশে করে শুনেছি।’

‘পুলিসে আমার জানা আছে, নর্থ বেঙ্গল থেকে ট্যাপ করাব, সব বের করে ফেলব।’

‘মাইরি ভাগনা, তুমি এইটা করো, আমি আবার কুকুর পুষব।’

‘কুকুর পুষবে মানে ?’

ভবতোষ বলল তার কুকুর-প্রীতির কথা। বোন এসে কুকুর বের করে দিয়েছে। সেইটা সে মুখুজ্জে বাড়িতে দিয়ে এসেছিল তখন। ঘর পেলে ফেরত আনবে। আহা, হাউজিংয়ে কত ঘর, কুকুর পোষে না কেন ভাগনা তোমার মামা?’

শোভন বলল, ‘একটা ঘরে কুকুর, তুমি আর তোমার বোন, কুকুর থাকত কোথায় ?’

ভবতোষ বলল, মেঝেতে, তক্তপোশের নীচে, কিছুই করত না ভাগনা, ঘুমের ঘোরে ভুক ভুক শুধু আর পা আঁচড়াত, মেল ডগ তো।’

শোভন বলল, সে কুকুর ভালোবাসে কিন্তু তার মা ডাজ নট লাইক ফিমেল ডগ। ‘সমস্যা আছে কাকা, আই লাইক ফিমেল ডগ, তার নাম বিউটি, স্প্যানিয়েল, কী আদর না খায়, উম্মম উম।’

ভবতোষ আচমকা জিজ্ঞেস করে, ‘কুকুর কি নেকড়ে ছিল আগের জন্মে ?’

‘কে বলল?’ শোভনের চা শেষ, সে সিগারেট ধরায়। ভবতোষ নিল না। তার বউ যদি দেখে পরে খুব অনত্থ করবে। তার থাকার জায়গা নেই, সিগারেট টেনে যদি মরে— ‘তাহলে কার কী বলো দেখি ভাগনা ?’

শোভন আবার জিজ্ঞেস করল, ‘কে বলেছে কুকুর নেকড়ে ছিল ?’

‘আমার বোন, আর সেই কারণেই কুকুরটাকে রাখতে দিল না, ঘুমের ঘোরে নাকি নেকড়ের স্বপ্ন দ্যাখে আমার প্রিন্স।’

‘প্রিন্স তোমার কুকুরের নাম ?’

‘হ্যাঁ ভাগনা, কিন্তু সে মুখুজ্জে বাড়িতে ভালো নেই মনে হয়, তাদের তিনটে কুকুর আছে, এইটা নিয়ে চার, কেউ কাউকে সহ্য করতে পারে না।’ ভবতোষ দুঃখিত হয়ে বলল, ‘আমার বোন আমার জীবনের সব কেড়ে নিয়েছে, প্রিন্স আর আমি বন্ধু ছিলাম ভাগনা।’

"প্রিন্স তোমার কুকুরের নাম ?"

শোভন দেখল বাইরে মেঘ করেছে। বিকেলবেলা। ঘ্যানঘ্যান করছে ভবতোষ আঙ্কেল। মামা মানে অনুপম বসু তার দিদিমার সইয়ের ছেলে। মায়ের সঙ্গে নাকি বিয়ের ঠিকই হয়ে গিয়েছিল। এসব তাকে দিদিমা বলে গেছে। দিদিমাও নয়, দিদিমার ছোট মেয়ে, তার মাসি। কিন্তু তা হয়নি। এইরকম কত হয়। মা বলেছে, একদম সত্যি নয়, ভাইবোনের মতো বড় হয়েছিল তারা। ছোটমাসি সুচিত্রা তার মা সুমিত্রাকে হিংসে করে, তাই এসব বলে। ছি। একদম সত্যি না। শোভন এই ব্যাপারে খোঁজ নেয়নি। এখন মামার ফ্ল্যাটের আশ্রয়টা পাকা করা দরকার। মামার ছেলেমেয়ের সাপোর্ট আছে। তারা চায় তাদের বাবা যেন একা না থাকে। বয়স হচ্ছে। আর বয়সে মানুষের কত বিপদ হয়। শরীর যেমন খারাপ হতে পারে আচমকা, তেমনই বৃদ্ধের স্খলন হতে পারে। তাদের মায়ের নাকি ঠিকঠাক চিকিৎসা হয়নি। বাবা বড় হাসপাতালে দেয়নি। তাদের এই নিয়ে ক্ষোভ আছে, যদিও তারা তখন এই শহরে ছিল না কেউ। শোভন বলল, ‘ওয়েট আঙ্কেল ওয়েট, আমি যদি ওই ফ্ল্যাটে একা থাকি, তোমাকে নিয়েই থাকব।’

হাত কচলায় ভবতোষ, বলে, ‘নীলা বলেছে শুধু রাতটুকু অ্যালাউ করবে, বাকিটা আমি যেখানে পারি যেন থাকি, আমার ঘর ছেলে নিয়েছে, তোমার আন্টি মেড সারভেন্টকে তার মেঝেতে শুতে দেয়, সে ঘরে আমার জায়গা নেই, রান্নাঘরে খুব গরম আর ভ্যাপসা বাতাস।’

‘ওক্কে ওক্কে আঙ্কেল, আমার ওপর ভরসা রাখো, আমি তোমাকে দেখব, মামাকে আমেরিকা পাঠাতেই হবে, একধাক্কায় ছ’মাস, তারপর ফিরে এলে আমরা তিন মাস রেখে ও দেশে শীতের সময়ই আবার পাঠিয়ে দেব, ঠান্ডায় বিদেশে টেঁসে যাবে, ওর মেয়েকে এর ভেতরে বলেইছি, অনুপম বসু উপরতলার মেয়েছেলেটার ঘরে গিয়ে বসে থাকে সবসময়, এত ঘন ঘন এদিক সেদিক যায় কেন ?’

"তখন কিন্তু ভুলে যেও না ভাগনা"

ভবতোষ অবাক হয়ে দেখে ভাগনেকে, হাসে, বলে, ‘তখন কিন্তু ভুলে যেও না ভাগনা, তুমি আমার নিজের ভাগনা না হলেও তার চেয়ে আপন, আমার বোন সংসার করল না, ভাগনা হবে কী করে ?’

শোভন জানে, এই লোকটা এই শহর চেনাচ্ছে তাকে। উত্তরবঙ্গ থেকে অনুপম বসুর বাড়িতে এসে সে বিপদে পড়েছিল। লোকটা সব জেনেও মেদিনীপুর চলে গিয়েছিল। তখন যত বুদ্ধি দিয়েছিল ভবতোষ রায়, যেচে তার সঙ্গে আলাপ করে। এখন সে যা বলে তা পালন করে। এমন কেউ আজ্ঞাবাহী না থাকলে কাজ করা খুব অসুবিধে। রাজনীতি করে সে। অভ্যাস এমন লোক নিয়ে চলাফেরায়। সে বলল, ‘আমি আসি আঙ্কেল, তোমাকে ফোন করব।’

‘আচ্ছা এসো।’ ভবতোষ বেরিয়ে এল শোভনকে নিয়ে। সে এখন যাবে চঞ্চলার বাড়ি ভগবত পাঠ শুনতে। সেও একা থাকে তার ঠাকুর নিয়ে। ঠাকুরই তার সব। ভবতোষের মনের বাসনা, চঞ্চলার ফ্ল্যাটে আশ্রয় নেয়। তিন ঘরের ফ্ল্যাটে সে একা থাকে ভগবান নিয়ে। প্রস্তাব দিয়েছে, ‘হ্যাঁ’ শোনেনি। ‘না’ও না। এমন হতে পারে চঞ্চলা ভুলে গেছে। তবে একা মেয়েমানুষ, তাকে কী করে রাখবে। হাঁটতে হাঁটতে ভবতোষের মনে হলো, নারীজন্ম হলেই বোধ হয় ভালো হত।

সেদিন রাত ন’টার সময় ভবতোষের ফোন পায় শোভন। সে তখন ইন্টারনেটে ফেসবুক চ্যাট করছিল এক পুরুলিয়ার মেয়ের সঙ্গে। ছবি চাইছে। দিচ্ছে না। মেয়েটা বহুত হারামি। কিন্তু সেক্সি। তখন ভবতোষ বলল, ‘ভাগনা, আমার খুব বিপদ, বোনের বন্ধু এসেছে, বনগাঁ বাড়ি, আজ থেকে কাল সকালে যাবে।’

শোভন বলল, ‘চলে এসো, একরাত্তির তো।’

"বাঁচালে ভাগনা, নইলে শর্মাবাড়ির বাইরের রোয়াকে শুতে হত ভিখিরি, ভবঘুরেদের সঙ্গে।"

‘বাঁচালে ভাগনা, নইলে শর্মাবাড়ির বাইরের রোয়াকে শুতে হত ভিখিরি, ভবঘুরেদের সঙ্গে।’ বলল ভবতোষ ক্রুদ্ধ গলায়।

ভবতোষ এল রাত সাড়ে দশটা নাগাদ। অনুপম তখন নৈশাহার শেষ করে ঘরে ঢুকে গেছেন। তাঁর ঘর থেকে পুরনো দিনের গান ভেসে আসছে, সিনেমার গান, ইউ টিউবে বাজছে, ওরে ও বাঁশি…। এই গান শোভনের মা শোনে। ঢাকার বাংলা সিনেমার গান। সে কালের। গায়ক, সুরকার, নায়ক, নায়িকা, সবাই মরে গেছে। বেঁচে আছে শুধু...। উফ! শোভনের মনে হল গান বন্ধ করে দিয়ে আসে।

ঘরে এসি চলছে। নীল আলো। ঘরের মেঝেতে শুতে হবে ভবতোষকে। ড্রয়িং কাম লিভিংরুমের সোফায় শুতে পারত, কিন্তু এসি বন্ধ করে দিয়েছেন অনুপম। পাখাও। চালালে তিনি টের পেয়ে অনত্থ করবেন। বুড়োরা খুব কৃপণ আর খ্যাপাটে হয়। কৃপণ তো হবেই। এখন সব দিয়ে যাওয়ার টাইম হয়েছে। টাকাপয়সা, ফ্ল্যাট, গাড়ি— সব।

ভবতোষ একটা তোশকের উপর বালিশ ফেলে শুয়ে পড়ল। ঘর ঠান্ডা। কী সুখ। এই সুখ কত মানুষ প্রতিনিয়ত ভোগ করে। তার নেই। নেই তো নেই। এখন তো হল। শুয়ে কুকুরটার কথা মনে পড়ল। প্রিন্স। প্রিন্স ঘুমোত এমনই। ভবতোষ ঘুমিয়ে পড়ল। শোভন খাটে শুয়ে জেগে আছে। ভিডিও চ্যাট করবে। ভবতোষ শুনলে শুনবে। পুরুলিয়ার মেয়ে অনলাইন হয়নি এখনও। দেরি করছে। দেরি করছে কেন ? গতকালই ভিডিও চ্যাট হয়েছে। আজও হবে। আঙ্কেল ঘুমালি ? তোর জন্য গ্র্যান্ড হোটেলে ঘর বুক করা হবে। ভাবতেই হেসে ফেলেছে শোভন। তখন শুনল গরগর আওয়াজ। ঘুমের ঘোরে রুখে যাচ্ছে ভবতোষ। শোভন অবাক হয়ে দেখল, স্পষ্ট দেখল, ভবতোষের হাতে, মুখে রোম ফুটে উঠেছে, গরিলার মতো সে ঢাক বাজাচ্ছে বুকে। শোভন মোবাইল বন্ধ করে দিল। দেখতে লাগল ভবতোষকে। স্বপ্ন দেখছে ভবতোষ। পূর্বজন্মের স্বপ্ন। আগামী জন্মের স্বপ্ন। স্বপ্নের ভেতরে মানুষ ভবতোষ মনুষ্যেতর জীবনের জন্য কাঁদতে লাগল। জঙ্গল, প্রান্তর, পাহাড়, উপত্যকা… ঘরবাড়ি, স্মৃতি।
অঙ্কন - দেবাশীষ সাহা
শেয়ার করুন: