চারটি কবিতা

ঋজুরেখ চক্রবর্তী
প্যাগান ট্র্যাজেডি
কী ভীষণ ক্লান্তি থেকে উঠে আসে মুগ্ধ বিনোদন!
গাছেরা প্রশান্তি জানে,
তরুদল ক্ষুব্ধ আলোড়ন,
বৃক্ষ সমাহৃত আলো,
মহীরুহ ধ্যান।
মিথ্যা গৌরবের ভার বয়ে চলে বংশপরম্পরা–
প্রতিভার দ্যুতি চেনে সালোকসংশ্লেষ।
হৃদয় অশান্ত হলে ছায়া মেলে যার কাছে,
ক্লান্তি তার অহং-এর শেষতম নিশ্চিন্ত আশ্রয়।

পায়ের তলার মাটি অবক্ষয়ে সরে গেছে যার,
ভূমিকম্পে তার আর আতঙ্ক জাগে না–
মনুষ্যজন্মের এই মহোত্তম প্যাগান ট্র্যাজেডি।
জোকার
প্রতিটি জিজ্ঞাসা থেকে আলো হয়ে ঝরে পড়ে খুশি–
লেডিজ সিটের মতো অবিমিশ্র এই যে সারল্য,
এও এক আত্মপ্রতারণা।

এক স্বপ্ন থেকে ক্রমে অন্য এক স্বপ্নের কিনারে,
এক প্রেম থেকে নিঃস্ব অন্য এক প্রেমে,
এক প্রতিবাদ থেকে অন্য এক ব্যর্থ প্রতিবাদে
অনায়াস অভিন্ন তরল যাতায়াত –
সাঁতার শেখার মতো এইসব জাদুবিদ্যা, দেখো,
আমাদের অনশ্বর সামাজিক স্মৃতি হয়ে আছে।

কাগজে নির্মিত শোক
কাগুজে নৌকার কাছে ভরাডুবি শিখে চিরঋণী –
ইচ্ছাপূরণের গল্পে জোকারই নায়ক হয়ে ওঠে।
মিউচুয়াল ডিভোর্স
প্রলোভন ভারী হলে দাঁড়িপাল্লা ভুলে যায়
ক্রমিক ক্রান্তিতে তারও মোহন দায়িত্ব কিছু ছিল।
তারপর
অশান্ত ঝঞ্ঝায় কিংবা ঝোড়ো অশান্তিতে–
সমার্থক হতে হতে যারা,
ব্যর্থ দাম্পত্যের মতো,
অলীক ডিভাইডারে সবুজায়নের কাছে ঋণী–
ভুলে ভরা ক্যাশমেমো বিপ্লবের ভ্যাট ধার্য করে।

এই সেই নীরবতা, এই সেই কুসুমপ্রয়াণ, যার
আশরীর ঘ্রাণ থেকে
ইতিহাস রচিত হবে না কোনওদিন।

জয় নিরাকার হলে উদযাপন কদর্য দেখায় সমারোহে।
ফুল মার্কস
অগতি নির্ণয় ঘিরে মহাকালে গণিত সভ্যতা গড়ে ওঠে।
ক্রমিক সংখ্যায় জাগে মহাশ্বাস,
জরায়ুর অন্ধকারে দিব্য বিভা মূর্ত সমাসীন,
মৃত্যু নাচে জন্মের শিয়রে।
পূর্ণ হলে চলাচল,
ধার্য হবে মানুষের জয়?

কী বিরাট ব্যাপ্ত ব্যোম!
কী প্রাচুর্য অন্ধলোক অরণ্যের, আহা!
সসাগরা ধরিত্রীর মোট ভর
অযুত সাধনার শেষে অনির্ণেয় থেকে যাবে তবু!

জ্ঞাত হলে আয়ুষ্কাল,
মাটি ও জলের কাছে পূর্ণমান ঋণ পরিশোধ হয়ে যেত?
অঙ্কন - সৌজন্য চক্রবর্তী
শেয়ার করুন: