ফাইবারের বদলে

বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
মৃত্যু যখন তোমার ত্বকের ভিতর প্রবেশ করে
আমি তোমার শরীরের কথা ভাবি…
সে কেমন অ্যাপ্যার্টমেন্ট,
             মেইন গেটে
                       নিজের নাম না লিখিয়ে,
উদ্দ্যেশ্য- ব্যক্তিগত না ব্যবহারিক ঘোষণা না করে
যে কেউ ঢুকে পড়তে পারে?
খুব মন করে একটা চিতাবাঘের মতো ঝাঁপিয়ে ওর ঘাড় ধরে তুলে আনি
যাতে তোমার চামড়া থেকে মাংস পর্যন্ত যাত্রাটা আর না ফুরোয়
                                             মৃত্যুর…
ওদিকে জীবন থেমে থাকা বাসের জানলার মতো চলতেই থাকে।

রাস্তায় তখন হয়তো শসা সাজিয়ে বসে পড়েছে একটা লোক
আর কোনও খরিদ্দার কাছে এসে বলছে “ বারুইপুরের পেয়ারা আর মেয়েগুলোর যা চেহারা”…
আমি কি একটা চেহারার খোঁজে অবহেলা করেছি তোমায়?
চাবুক মারো আমাকে।
চেহারা নিজে কি একটা ফলের ভিতর দিয়ে জাগরিত হয়েছে বোধে?
নিষিদ্ধ করো সেই ফল।
মহাবিশ্বের কোথাও না কোথাও সিদ্ধ হতেই থাকবে চাল
মস্ত কোনও কান্না বাঁক নেওয়ার মুহূর্তে
                       ঘিরে ধরবে তোমায়।
হালকা একটা বিচ্ছেদ নেমে আসবে দুটো হাত আর স্টিয়ারিং-এর মধ্যে…
তারপর তো সবটাই কুয়াশা।
নেই, কোথাও ভার নেই
কেবল একটা পুরনো সোফায় বসে লেজ নাড়াচ্ছে বেড়ালটা।

ভালবাসলেই যদি বিশ্বাসঘাতক হতে হয়, দাঁড়ানো যাবে না আয়নার সামনে।
যন্ত্রণার কথা বললেই যদি একঘেয়ে লাগে চালানো যাবে না রেডিও।
একজনের বেদনা যদি না রাস্তার হয়ে ওঠে
আমার ফাঁসির দড়িই না হয় দেশের পতাকা
তাহলে তো সেই ভণ্ডগুলোরই জিত
                       যারা,
“তোমার দুর্গা খেতে পায় আমার দুর্গা পায় না”
পোস্ট দিতে দিতে
স্কচে ডুবে থাকবে পুজোর পাঁচদিন
                                                     আর একহাতা বেশি খিচুড়ি খেয়ে লাফাতে লাফাতে
                       বস্তির ঘরে ফিরবে আমাদের উমা।

পুজোর পরপরই শিশির নামতে শুরু করবে আকাশ থেকে
বিছানার চাদরটা বদলে যাবে কম্বলে
যা সামান্য তা কখনও নিজের অপচয় করে না
যা স্পষ্ট তার কোনও বর্ম লাগে না শত্রু শিবিরেও...

শতাব্দীর পর শতাব্দী খোসা ছাড়িয়ে যদি হিংস্রতাই,
তবু আলোর খোসা ছাড়ালেই আলো
তোমার খোসা ছাড়ালেই আমার যৌবন।
যখন টিভিতে দুটোমাত্র চ্যানেল,
চশমায় ফাইবারের বদলে কাচ
স্বপ্ন এবং তিক্ততার মাঝখান দিয়ে রাস্তা হচ্ছে তো হচ্ছেই
যার একপাশে ঝাউগাছ আর অন্যদিকে সেই ঝাউই...

মাঝখানে প্রকৃতি এসে দাঁড়িয়েছে পুরুষের সামনে
মৃত্যু পরোয়ানায়, সই নয়, চুমু নেবে বলে।
অঙ্কন - মৃণাল শীল
শেয়ার করুন: