কপিল সিব্বল, শশী তারুরের মতো নেতা বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন, বিস্ফোরক রাহুল, কংগ্রেসে তোলপাড়

দ্য ওয়াল ব্যুরো : আমাদের চাই ‘ফুল টাইম, ভিসিবল লিডারশিপ’। অর্থাৎ দলের শীর্ষ নেতা যিনি হবেন তাঁকে রাজনীতিতেই পুরো সময় দিতে হবে। কর্মীরাও যেন নিয়মিত তাঁর দেখা পান। গত ৭ অগাস্ট একটি চিঠি দিয়ে কংগ্রেস হাইকম্যান্ডের কাছে এমনই দাবি জানিয়েছিলেন দলের শীর্ষস্থানীয় ২৩ জন নেতা। তাঁদের মধ্যে ছিলেন কপিল সিব্বল, শশী তারুর, গুলাম নবি আজাদ, পৃথ্বীরাজ চৌহান, বিবেক তানখা ও আনন্দ শর্মা। সোমবার কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে প্রাক্তন সভাপতি রাহুল গান্ধী সরাসরি মন্তব্য করলেন, ওই চিঠিটি যাঁরা লিখেছেন, তাঁরা গোপনে হাত মিলিয়েছেন বিজেপির সঙ্গে।

প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি ওই মন্তব্য করার কিছুক্ষণের মধ্যে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে টুইট করেন কপিল সিব্বল। তিনি বলেন, “রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, আমরা গোপনে বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়েছি। আমি রাজস্থান হাইকোর্টে সাফল্যের সঙ্গে কংগ্রেসের হয়ে সওয়াল করেছি। মণিপুরে দল যাতে বিজেপি সরকারের পতন ঘটাতে পারে, তার ব্যবস্থা করেছি। গত ৩০ বছরে একবারও বিজেপির হয়ে বিবৃতি দিইনি। তবু বলা হচ্ছে, আমি নাকি বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়েছি।”

এদিন ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে সনিয়া জানান, তিনি আর দলের শীর্ষপদে থাকতে চান না। কংগ্রেস এবার গান্ধী পরিবারের বাইরে কাউকে সভাপতি পদে খুঁজে নিক। এরপরেই সরব হন রাহুল। তিনি প্রশ্ন তোলেন, দল যখন মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থানে সংকটের মুখে, সভানেত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন, ঠিক সেই সময়ে এমন চিঠি পাঠানো হল কেন? এর পরেই তিনি বলেন, যাঁরা ওই চিঠিটি লিখেছেন, তাঁরা গোপনে বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন।

প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং এদিন সনিয়ার কাছে আর্জি জানান, তিনিই যেন সভানেত্রী থাকেন। যাঁরা হাইকম্যান্ডকে চিঠি লিখেছেন, তাঁদের সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর কথায়, “চিঠিটি দুর্ভাগ্যজনক। হাইকম্যান্ডকে দুর্বল করা মানে দলকেই দুর্বল করা।” দলের আর এক প্রবীণ নেতা এ কে অ্যান্টনি বলেন, “চিঠির বিষয়বস্তু খুবই নিষ্ঠুর।” কংগ্রেসের জন্য সনিয়া যে আত্মত্যাগ করেছেন তা মনে করিয়ে দেন অ্যান্টনি। সেই সঙ্গে তিনি রাহুলের কাছে আর্জি জানান, তিনি যেন কংগ্রেস সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

বিক্ষুব্ধরা চিঠিতে লিখেছেন, কংগ্রেস যৌথ নেতৃত্বে বিশ্বাসী। গান্ধী পরিবারকেও সেই নেতৃত্ব মেনে চলতে হবে। চিঠিতে স্বাক্ষরকারীরা কার্যত গান্ধী পরিবারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা।

ওই চিঠি ফাঁস হওয়ার পরেই কংগ্রেসে গুরুতর মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। কংগ্রেসের চারজন মুখ্যমন্ত্রী ও কয়েকজন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি চিঠি লিখে সনিয়া গান্ধীকে নেতৃত্ব দিতে অনুরোধ করেছেন। প্রথম সারির কংগ্রেস নেতা অমরিন্দর সিং, ভূপেশ বাগেল ও সিদ্দারামাইয়া বলেছেন, “সনিয়া গান্ধী যতদিন চান ততদিনই কংগ্রেসের শীর্ষস্থানে থাকতে পারেন। তাঁর পরে ওই পদে আসবেন রাহুল গান্ধী। কারণ কংগ্রেস সভাপতি হওয়ার যোগ্যতা তাঁর আছে।”

অনেকের ধারণা, রাহুল যাতে ফের কংগ্রেস সভাপতি না হতে পারেন, সেজন্যই ‘বিদ্রোহীরা’ চিঠি লিখেছেন। রাহুলকে সভাপতি পদে ফিরিয়ে আনার জন্য কয়েক সপ্তাহ ধরে জোর চেষ্টা চলছে কংগ্রেসের অভ্যন্তরে। রাহুল অবশ্য ঘনিষ্ঠ মহলে জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি আর কংগ্রেসের শীর্ষপদে ফিরছেন না।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More