আপনারা ন্যায়বিচার পাবেন, আলোয়ারে গণধর্ষিতার বাড়িতে গিয়ে বলে এলেন রাহুল

দ্য ওয়াল ব্যুরো : ভোট চলছে। তাই এখন অপরাধীদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। এই বলে দলিত গণধর্ষিতাকে ফিরিয়ে দিয়েছিল আলোয়ারের পুলিশ। একথা জানাজানি হতে বিজেপির কড়া সমালোচনার মুখে পড়ে রাজস্থানের কংগ্রেস সরকার। এমনকী সরকারের সমর্থক বিএসপি-ও কংগ্রেসের নিন্দা করে। বৃহস্পতিবার কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী সেই ধর্ষিতার বাড়িতে গিয়ে বলে এলেন, চিন্তা নেই, আপনারা ন্যায়বিচার পাবেন।

এদিন রাহুলের সঙ্গে ছিলেন রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গহলোত, উপমুখ্যমন্ত্রী শচীন পাইলট এবং প্রদেশ কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অবিনাশ পাণ্ডে। আগে স্থির ছিল, রাহুল ধর্ষিতার বাড়িতে যাবেন বুধবার। কিন্তু তিনি গিয়েছেন একদিন বাদে।

আলোয়ারে রাহুল সংবাদ মাধ্যমকেও বলেন, আলোয়ারের ঘটনার কথা শোনার পরেই আমি অশোক গহলতজির সঙ্গে কথা বলেছিলাম। আমি এটাকে রাজনৈতিক ইস্যু বলে মনে করি না। আমি ধর্ষিতার সঙ্গে দেখা করেছি। তাঁর পরিবার ন্যায়বিচার চায়। বিচার নিশ্চয় হবে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গহলোতও বলেন, অপরাধীদের কঠোরতম শাস্তি দেওয়া হবে।

এর আগে বিএসপি নেত্রী মায়াবতী বলেন, ভোটের সময় যাতে অস্বস্তিতে না পড়তে হয়, সেজন্য রাজস্থানের কংগ্রেস সরকার ধর্ষণের কথা চেপে যেতে চেয়েছিল। ধর্ষিতার পরিবারকে ভয় দেখানো হচ্ছিল যাতে তারা চুপ থাকে। ওই ঘটনার নিন্দা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও।

গত ২৬ এপ্রিল ওই মহিলা তাঁর স্বামীর সঙ্গে মোটর বাইকে চড়ে যাচ্ছিলেন। অভিযুক্তরা ছিল দু’টি মোটর বাইকে। তারা মহিলার বাইকটি থামায়। তাঁকে নিকটবর্তী মাঠে টেনে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। তাঁর স্বামীকেও মারধর করে।

৩০ এপ্রিল মহিলার স্বামী পুলিশে অভিযোগ করেন। কিন্তু এফআইআর করা হয় ৭ মে। অভিযোগ, নির্বাচনের জন্যই পুলিশ দ্রুত কাজ করেনি। রাজস্থানে ভোট হয় ২৯ এপ্রিল ও ৬ মে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা ছ’জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। তারা হল ইন্দ্র রাজ গুজ্জর, মহেশ গুজ্জর, অশোক গুজ্জর, হংসরাজ গুজ্জর, ছোটেলাল গুজ্জর এবং মুকেশ গুজ্জর।

ওই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পরে রাজ্যে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। আলোয়ার, জয়পুর, দৌসা এবং তার আশপাশের অঞ্চলে অনেকে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানান। তাঁদের নেতৃত্বে ছিলেন বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ কিরোরিলাল মিনা। দৌসায় বিক্ষোভ হিংসাত্মক রূপ নেয়। অনেকে আহত হন।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More