রাজ্যপালের আচরণের কথা প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছি, বললেন অশোক গেহলোট

দ্য ওয়াল ব্যুরো : পরপর দু’বার রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলোটের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন রাজ্যপাল কলরাজ মিশ্র। মুখ্যমন্ত্রী চান, অবিলম্বে বিধানসভার অধিবেশন ডাকা হোক। রাজ্যপাল তাতে রাজি নন। অশোক গেহলোট বলেন, “৭০ বছরে এই প্রথমবার কোনও রাজ্যপাল এই কাজ করলেন। আমি তাঁর আচরণের কথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে জানিয়েছি।” অশোক গেহলোটের মতে, কোনও নির্বাচিত সরকার যদি বিধানসভার অধিবেশন ডাকতে চায়, রাজ্যপাল তাতে অনুমতি দিতে বাধ্য।

গত সপ্তাহে প্রথমবার বিধানসভার অধিবেশন ডাকার জন্য রাজ্যপালের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যপাল জানান, ছ’টি কারণে এই অনুরোধ রক্ষা করা সম্ভব নয়। তার অন্যতম হল, কবে থেকে অধিবেশন চান, মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেননি। অধিবেশনে কী আলোচনা হবে তাও জানানো হয়নি। একইসঙ্গে রাজ্যপাল জানান, প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী শচীন পাইলট ও তাঁর অনুগামীদের বিষয়টি এখন কোর্টের বিবেচনাধীন। এর পরেই সোমবার সুপ্রিম কোর্ট থেকে কংগ্রেস তার পিটিশন তুলে নেয়।

মুখ্যমন্ত্রী দ্বিতীয়বার আবেদন করেন গত শনিবার। তাতে নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করেন, ৩১ জুলাই থেকে অধিবেশন শুরু হোক। সেখানে করোনা অতিমহামারী নিয়ে আলোচনা হবে। সোমবার সকালে মুখ্যমন্ত্রীর দ্বিতীয় আবেদন রাজ্যপাল নাকচ করে দেন। তিনি মনে করেন, করোনা অতিমহামারীর জন্য তিন সপ্তাহ বাদে অধিবেশন ডাকা উচিত। অশোক গেহলোট বলেন, “রাজ্যপাল ফের ছ’পাতার প্রেমপত্র পাঠিয়েছেন।”

রাজ্যপাল মুখ্যমন্ত্রীর দ্বিতীয় আবেদন নাকচ করে দেওয়ার কারণ হিসাবে উল্লেখ করেন, এত অল্প সময়ের নোটিসে বিধায়করা উপস্থিত হতে পারবেন না। অতিমহামারীর মধ্যে তাঁদের অন্তত তিন সপ্তাহ আগে নোটিস দেওয়া উচিত।

রাজ্যপাল মুখ্যমন্ত্রীকে প্রশ্ন করেছেন, আপনি কি বিধানসভায় আস্থাভোট নিতে চান? তিনি লিখেছেন, “আপনার আবেদনপত্রে কোথাও লেখা নেই বিধানসভায় আস্থাভোট হবে। অথচ আপনি প্রকাশ্যে বলে বেড়াচ্ছেন আস্থাভোট নিতে চান।”

একটি সূত্রে খবর, আস্থাভোট নেওয়ার জন্যই তাড়াহুড়ো করছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর ধারণা, শচীন পাইলটের শিবিরের যে বিধায়করা এখন হরিয়ানায় আছেন, অধিবেশন শুরু হলে তাঁদের কয়েকজনকে নিজের পক্ষে আনতে পারবেন। ২০০ আসনবিশিষ্ট বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষে আছেন ১০২ বিধায়ক। গরিষ্ঠতা প্রমাণের জন্য যতজনের সমর্থন দরকার, তার চেয়ে মাত্র একজন বেশি আছেন মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষে। অবশ্য তাঁর সমর্থকের সংখ্যা আরও কমতে পারে। কারণ বিএসপি নেত্রী মায়াবতী এদিনই রাজস্থানে তাঁর দলের বিধায়কদের নির্দেশ দিয়েছেন, তাঁরা যেন কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ভোট দেন।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More