মহিলাদের উদ্যোগে মদের ব্যবসা বন্ধ, ‘শরাব-মুক্ত পঞ্চায়েত’ অভিযান সাড়া ফেলেছে রাজস্থানের গ্রামে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোটযুদ্ধের আবহে এ এক অন্যধারা ভোটের ছবি। তাও আবার বাতিলের দাবিতে… গ্রামের সমস্ত মদের দোকান বন্ধ করতে হবে—এই স্লোগানকে সামনে রেখে এককাট্টা হলেন মহিলারা। ফলও মিলল হাতেনাতে! নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা। অর্থাৎ, গ্রামের সিংহভাগ মানুষই সমর্থন জানিয়েছেন। দু’হাত তুলে আশীর্বাদ করেছেন ‘শরাব-মুক্ত পঞ্চায়েত’ অভিযানকে। রাজস্থানের থানেটা গ্রামের প্রমীলাবাহিনীর এই উদ্যোগ নেটবিশ্বেও সাড়া ফেলেছে।

 

অবশ্য মরুরাজ্যে এহেন পরিকল্পনা এই প্রথম নয়। এর আগে রাজসমন্দ জেলারই তিনটি গ্রামে মদ্যপান-বিরোধী অভিযান চলে। সেখানেও ছিল ভোটাভুটির অঙ্ক। আর ফল বেরোতে মদের দোকান বন্ধের পক্ষে রায় দেন বেশিরভাগ মানুষ।

 

গত শুক্রবার থানেটাবাসীর মুখেও চওড়া হাসি। দীর্ঘদিনের দাবি অবশেষে পূরণ হচ্ছে। উদ্যোগ বাস্তবায়িত করতে পেরে খুশি গ্রামের সরপঞ্চ দীক্ষা চৌহানও। পঞ্চায়েতের বিশেষ ক্ষমতাকে এখানে কাজে লাগিয়েছেন তিনি। যার দৌলতে ৫০ শতাংশ বা তার বেশি ভোট পেলে মদের দোকানের ঝাঁপ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া যেতে পারে।

 

ভোটের কায়দাটাও অভিনব। বাড়ি বাড়ি ঘুরে মতামত সংগ্রহ। গ্রামবাসীরা ‘মদমুক্ত পঞ্চায়তে’র পক্ষে না বিপক্ষে, সেটা বুঝে নেওয়া। দীক্ষা জানান, মোট ২ হাজার ৩০৭ জন নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে বন্ধের সপক্ষে মত দিয়েছেন ২ হাজার ২০৬ জন।

 

তিনি বলেন, ‘আমি খুশি যে, গ্রামবাসীর অনেক দিনের দাবি শেষমেশ পূরণ হতে চলেছে। আমরা চেয়েছিলাম সমস্ত মদের দোকান বন্ধ হোক। থানেটার প্রতিটি মানুষ ক্যাম্পেনের বক্তব্য একে অন্যের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন। গত কয়েক মাসের প্রচেষ্টা শেষপর্যন্ত আশার আলো দেখল।’

 

ঠিক কী কারণে এই পরিকল্পনা নেওয়া হল? দীক্ষার মন্তব্য, ‘অনেক জায়গায় গিয়ে অভিযোগ শুনতাম। মহিলারা বলতেন, তাঁদের স্বামী রোজগারের টাকা মদের পেছনে উড়িয়ে ফেলে। এমনকী নেশা করে বাড়ি ফিরে মারধোর করে বলেও অভিযোগ। শুধু মহিলারা নন। এর ফলে বাড়ির বাচ্চাদের উপরেও খারাপ প্রভাব পড়ত। কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলাবে। রোজকার জীবনও আগের চাইতে ভালো হবে বলে আমার ধারণা।’

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More