শুভেন্দুর মতোই যেন ‘শৃঙ্খলাপরায়ণ’ রাজীব, পার্থর সঙ্গে সেকেন্ড রাউন্ড বৈঠকের পর বাইরে কিছু বললেন না

দ্য ওয়াল ব্যুরো: এর আগে একবার তিনি বলেছেন। আজ সোমবার তৃণমূলের মহা সচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে সেকেন্ড রাউন্ড বৈঠকের পরেও সেই একই কথা বলেছেন বনমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, “শুভেন্দুবাবুর বিষয়টি তাঁর ব্যক্তিগত। দলে প্রত্যেকের জায়গা থাকে। দল যে আমার সঙ্গে আলোচনা করছে এটাও আমার ব্যক্তিগত। কারও সঙ্গে তুলনা করা ঠিক নয়।”

পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নাকতলার বাড়ি থেকে বেরিয়ে রাজীব এও বলেছেন, “দলীয় নেতৃত্ব আমায় ডেকেছিলেন। আমি কর্মী হিসেবে এসেছিলাম। দলের মধ্যে কী আলোচনা হয়েছে তা সংবাদমাধ্যমে বলার বিষয় নয়। দলের শৃঙ্খলাপরায়ণ কর্মী হিসেবে আমি সেটা করতে পারি না।”

দলের অভ্যন্তরীণ আলোচনার বিষয় বাইরে না বলা সবকটি রাজনৈতিক দলেরই শৃঙ্খলার মধ্যে পড়ে। সে দিক থেকে সদ্য তৃণমূল ছেড়ে যাওয়া শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে রাজীবের মিল অনেকেরই নজর এড়ায়নি এদিন।
দল ছাড়ার আগে প্রথমে সৌগত রায় ও পরে সৌগত-সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রশান্ত কিশোর, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়দের সঙ্গে আলোচনায় বসেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু সৌগতবাবু বিভিন্ন সময়ে ওই বৈঠকের ব্যাপারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দিলেও, শুভেন্দু বাইরে কিছু বলেননি। যা বলার, তা দল ছাড়ার পরেই বলেছেন।

রাজ্য রাজনীতিতে রাজীবের ব্যাপারে অনেকেরই ইতিবাচক ধারণা রয়েছে। কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা বলেন, তৃণমূলের মধ্যে জেন্টলম্যান রাজনীতিকদের মধ্যে রাজীব অন্যতম। তা ছাড়া অনেকে এও বলেন, রাজীব টিপিক্যাল রাজনীতিক সুলভ আচরণ করেন না। দেখানোর ব্যাপারটা নেই। অনেক সময়েই প্যান্ট শার্ট পরে ঘোরেন। মুড ভাল থাকলে গান করেন। সুফিয়ানা সঙ্গীত নিয়েও আগ্রহ রয়েছে।

কিন্তু এহেন রাজীবের কথা গত কিছুদিন ধরে রাজনৈতিক ভাবে কিছুটা বেসুরো শোনাতেই তাঁকে নিয়ে বিপুল আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এক সময়ে রাজ্যের সেচমন্ত্রী ছিলেন রাজীব। তাঁকে প্রথমে অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ ও তার পর বন দফতরে বদলি করা হয়। এক জন উচ্চবর্ণের নেতাকে অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণে পাঠানো নিয়ে রাজীব ঘনিষ্ঠদের ক্ষোভ রয়েছে। তা ছাড়া রাজীবও খোলাখুলি বলেছেন, “আমি ঠান্ডা ঘরে বসে থাকার কর্মী নই। দক্ষতা ও যোগ্যতার সঙ্গে কাজ করতে চাই। যেখানে মানুষ মনের কথা বলতে পারবে সেখানেই থাকব!”

বস্তুত তার পর থেকেই রাজীবের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চেয়েছে দল। দিন দশেক আগে তাঁর সঙ্গে একবার দীর্ঘ আলোচনা করেছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও প্রশান্ত কিশোর। আজ সোমবার ফের তাঁর সঙ্গে আলোচনা করেন পার্থ। তবে বৈঠকের পর রাজীবের কথা শুনে অনেকেই গতিপ্রকৃতি স্পষ্ট বুঝতে পারছেন না। তাঁদের মতে, দলকে হয়তো উৎকণ্ঠাতেই রেখে দিয়েছেন রাজীব।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More