বিধায়ক রত্না, রাজনীতি থেকে অনেক দূরে শোভন, কেমন লাগছে ধর্মপত্নীর?

দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত আড়াই-পৌনে তিন বছরে বাংলার রাজনীতিতে অনেক জল গড়িয়েছে। অনেক খেলা ভাঙার খেলা হয়েছে। আর এই সময়টার মধ্যে তিনি যেন তেতে-পুড়ে নিজের চোয়ালকে শক্ত করে নিয়েছেন। তাই প্রথমবার বিধায়ক হওয়ার পর ভাল লাগার অনুভূতি থাকলেও রত্না চট্টোপাধ্যায় উচ্ছ্বসিত হয়ে ভেসে যাচ্ছেন না। আর গত আড়াই মাসে রাজনীতি থেকে অনেক দূরে চলে যাওয়া শোভন চট্টোপাধ্যায়ের প্রতি তাঁর কোনও বিহ্বলতাও নেই। বরং অনেক কঠোর।

এদিন বেহালা পূর্বের নবনির্বাচিত বিধায়ক রত্না চট্টোপাধ্যায়কে প্রশ্ন করা হয়, আপনি বিধানসভায় যাবেন। শোভনবাবু রাজনীতি থেকে দূরে। খারাপ লাগছে? পারিবারিক দ্বন্দ্বের ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে আসা রত্নার জবাব, “না না! খারাপ লাগবে কেন! বরং ভালই লাগছে।”

শোভনবাবুর রাজনীতি থেকে দূরে সরে যাওয়া নিয়ে রত্না কোনও মন্তব্য করতে চাননি। আগ্রহও দেখাননি।

যে সময় থেকে শোভনবাবু বান্ধবী বৈশাখীর টানে পৈতৃক ভিটে, সংসার ছেড়েছেন সেই সময় থেকেই বেহালা পূর্ব এলাকায় ‘মানুষের পরিষেবা’ দেওয়ার কাজ করে গিয়েছেন রত্না। তাঁর কথায়, “বাড়ির লোককে আমার স্বামীকে দেখেছি কাউন্সিলর, মেয়র, বিধায়ক, মন্ত্রী থাকতে। ফলে জনপ্রতিনিধি হিসেবে কাজ কী, পদ্ধতি কী– সে ব্যাপারে কিছুটা জানি।”

কথার পিঠে কথা হতে হতেই তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়, তাহলে কি এই সময়টায় আপনার রিহার্সাল হয়ে গিয়েছে? সহাস্য রত্নার জবাব, “হয়তো ভগবান এটাই চেয়েছিলেন। যে, আমি কিছু দিন রিহার্সাল করে নিই, তারপর বড় দায়িত্ব পাব।”

শোভনকে অত্যন্ত স্নেহ করতেন মমতা। কানন বলে ডাকতেন। শোভনের মোবাইলে নাকি দিদির নাম সেভ থাকত, ‘মা’ বলে। সেই শোভন দিদিকে ছেড়ে গিয়েছেন। বিজেপিতেও যোগ দিয়েছিলেন বান্ধবী-সহ। কিন্তু উনিশের অগস্টে যোগ দিলেও একুশের গোড়া পর্যন্ত শোভন-বৈশাখীকে রাজনীতিতে দেখা যায়নি। বরং বিজেপি নেতাদের অনেক সময় ব্যয় করতে হয়েছে তাঁদের মানভঞ্জনে।

সেসব মান-অভিমান পর্ব চলার পর এবছরের শুরুতে শোভন-বৈশাখী ম্যাচিং পোশাক পরে জেলায় জেলায় বিজেপির হয়ে কর্মসূচি করেছেন। কিন্তু প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর দেখা যায়, কারওরই নাম নেই। সেই যে শোভনরা গৃহবন্দি হয়েছেন আর দেখা যায়নি তাঁদের।

এদিকে রত্না শপথ নেবেন বিধায়ক হিসেবে। এদিন দিদির ডাকা বৈঠকেও ছিলেন। রত্না জানিয়েছেন, দিদি ৫ মে একাই শপথ নেবেন। আমাদের শপথ ৬ বা ৭ তারিখ হবে।

এবার যেদিন প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করছিলেন দিদি সেদিন বেহালা পূর্বের প্রার্থী হিসেবে রত্নার নাম ঘোষণা করতে গিয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছিলেন। মমতা বলেছিলেন, “বেহালা পূর্বে হেভিওয়েট প্রার্থী। রত্না চট্টোপাধ্যায়। মহিলাদের সুরক্ষার জন্য ওকে প্রার্থী করা হয়েছে।”

বিধায়ক হয়েছেন রত্না। এবার কি দিদি তাঁকে কোনও সরকারি পদও দেবেন? আনুগত্যের আরও বড় পুরস্কার পাবেন পর্ণশ্রীর চট্টোপাধ্যায় পরিবারের বউ? তা সময় বলবে। কিন্তু রত্নার এসবে কোনও মোহ নেই বলেই তাঁর ঘনিষ্ঠদের দাবি। তাঁদের কথায়, রত্নাদি একটা জিনিসই চান। দিদির সঙ্গে থেকে মানুষের কাজ করতে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More