মুক্ত বাণিজ্যের দরজা খুলে দিলে তা দেশের অর্থনীতির উপর বিরূপ প্রভাব ফেলবে, মনে করছেন সনিয়া

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশের ক্রমহ্রাসমান অর্থনীতির দিকে নজরই দিচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, তিনি এখন সংবাদের শিরোনামে থাকা নিয়ে ব্যস্ত – এই অভিযোগ তুললেন কংগ্রেসের অন্তর্বর্তীকালীন সভানেত্রী সনিয়া গান্ধী। তাঁর অভিযোগ, দেশের অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধানের ব্যাপারেও প্রধানমন্ত্রী উদাসীন। দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দশ দেশের সংগঠন আসিয়ানে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী মোদী এখন ব্যাঙ্ককে। ভারত রাজি হলে ১৬টি দেশের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সই হবে সোমবার। এই অবস্থার মধ্যে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীকে নিশানা করলেন কংগ্রেস সভানেত্রী।

নয়াদিল্লিতে শনিবার কংগ্রেসের সদর দফতরে সনিয়া অভিযোগ করেন, এখন সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম হওয়া নিয়ে দেশের প্রধানমন্ত্রী ব্যস্ত। তিনি বলেন, “দেশের একজন নাগরিক ও দায়িত্বশীল বিরোধী হিসাবে ভারতের অর্থনীতির বন্দিদশা আমাকে ব্যথিত করে। আরও উদ্বেগর বিষয় হল, সরকার এই পরিস্থিতির কথা পুরোপুরি অস্বীকার করছে। দেখে মনে হচ্ছে, সরকারের অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত দেশের অর্থনীতির যথেষ্ট ক্ষতি করছে না বলে এখন আরসিইপি সই করে তাতে আরও বড় ধাক্কা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।”

আরও পড়ুন: মুক্ত বাণিজ্যের জন্য ভারত কি খুলে দেবে বিশাল বাজার? প্রধানমন্ত্রীর দিকে তাকিয়ে ১৬টি দেশ

সনিয়া গান্ধী মনে করেন, এই চুক্তি সই হলে দেশের কৃষক, ছোট ব্যবসায়ী থেকে দোকানি – বহু মানুষের উপরে তার বিরূপ প্রভাব সালপড়বে, যা এখন সে ভাবে বোঝা যাচ্ছে না।

২০১২ সালে যে মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চলের ধারণা তৈরি হয়েছিল, একের পর আলোচনার পরে এখন তা চূড়ান্ত রূপ পাওয়ার অপেক্ষায়। ভারত রাজি হলে সোমবার এই চুক্তি সই হয়ে যাবে। দেশের বিশাল বাজার খুলে দেওয়ার আগে ভারতও বুঝে নিতে চাইছে, একই রকম বাজার ভারতও ধরতে পারবে কিনা। বাণিজ্যঘাটতি এখন ভারতের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ।

২০১২ সালে নম পেনে আরইসিপি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এই গোষ্ঠীতে রয়েছে আসিয়ান গোষ্ঠীভুক্ত ১০টি দেশ: ব্রুনাই, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া, লাওস, মালয়েশিয়া, মায়ানমার, ফিলিপিন্স, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম এবং মুক্তবাণিজ্য গোষ্ঠীভুক্ত ছয় দেশ: ভারত, চিন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া। ব্যাঙ্কক পোস্টকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, এই বৈঠকে সব দেশের স্বার্থ রয়েছে এবং দেখতে হবে যাতে প্রতিটি দেশেরই লাভ হয়।

প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেছেন, “আরসিইপির সদস্য দেশগুলির মধ্যে যে আলোচনা চলছে সেই আলোচনা থেকে যাতে ব্যাপক ও ভারসাম্যযুক্ত ফল পাওয়া যায়, সে ব্যাপারে ভারত দায়বদ্ধ। এই বৈঠককে ফলপ্রসূ করার পিছনে প্রতিটি দেশেরই স্বার্থ রয়েছে। তাই ভারত চাইছে পণ্য, পরিষেবা ও বিনিয়োগের মতো প্রতি স্তম্ভেই যেন ভারসাম্য থাকে।”

ভারত-আসিয়ান বৈঠক, পূর্ব এশিয়া বৈঠক (ইস্ট এশিয়া সামিট) ও আরসিইপি-তে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এখন থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাঙ্ককে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More