ব্রিটেনে জেমস বন্ডের শুটিং স্পট কিনছেন মুকেশ আম্বানি

দ্য ওয়াল ব্যুরো : ৭৯ কোটি ডলার। অর্থাৎ প্রায় ৬০০ কোটি টাকা। এই মূল্যে ব্রিটেনের বিখ্যাত স্টোক পার্ক কিনতে চলেছেন ধনকুবের মুকেশ আম্বানি। স্টোক পার্কে জেমস বন্ডের দু’টি ছবির শ্যুটিং হয়েছিল। রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের ট্যুরিজম ব্যবসায় এক উল্লেখযোগ্য সংযোজন হতে চলেছে ওই উদ্যান। স্টোক পার্কের মধ্যে আছে একটি হোটেল ও অন্যান্য বিনোদনকেন্দ্র। উদ্যানটি বাকিংহামশায়ারের অন্তর্গত।

১৯৬৪ সালের ফিল্ম ‘গোল্ডফিঙ্গার’-এ স্টোক পার্কে গলফ খেলেছিলেন জেমস বন্ড। ৩০০ একর বিস্তৃত ও উদ্যানের মধ্যে আছে একটি গ্রেগরিয়ান আমলের প্রাসাদ। বিখ্যাত ফিল্ম ‘ব্রিজেট জোনস ডায়েরি’ এবং নেটফ্লিক্সের ‘দ্য ক্রাউন’ ছবিরও শ্যুটিং হয়েছিল এখানে।

একটি সূত্রে জানা যায়, উদ্যানের মধ্যে আছে ৪৯ টি লাক্সারি বেডরুম ও স্যুইট সহ একটি হোটেল, চ্যাম্পিয়নশিপ গলফ কোর্স, ১৩ টি টেনিস কোর্ট এবং ১৪ একর প্রাইভেট গার্ডেন। সারা বিশ্বের ধনীদের অন্যতম আকর্ষণের কেন্দ্র স্টোক পার্ক। আম্বানি পরিবারও বহুবার ওই উদ্যানে ছুটি কাটাতে গিয়েছে।

স্টোক পার্ক অন্তত ৯০০ বছরের পুরানো। ১৯০৮ সাল অবধি ওই পার্কটি ছিল একটি বসতবাড়ির লাগোয়া সম্পত্তি।

ব্লুমবার্গ বিলিওনেয়ার ইনডেক্স অনুযায়ী, মুকেশ আম্বানির সম্পত্তির পরিমাণ ৭১৫০ কোটি ডলার। অর্থাৎ প্রায় সাড়ে পাঁচ লক্ষ কোটি টাকা। রিলায়েন্স জানিয়েছে, ওই হেরিটেজ সাইটে খেলাধুলো ও বিনোদনের ব্যবস্থা আরও বাড়ানো হবে।

গত বছর করোনার ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় রিলায়েন্স। ২০২০ সালের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর ত্রৈমাসিকে লাভের পরিমাণ কমে ওই সংস্থার। শুধু তাই নয়, রিলায়েন্সের আয়েও ঘাটতি দেখা দেয়। ২০১৯ সালের তুলনায় আয়ের ঘাটতি হয় ২৪ শতাংশ।

২০১৯ সালের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে ১১ হাজার ২৬২ কোটি টাকা লাভ হয়েছিল রিলায়েন্সের। সেই লাভের পরিমাণ ২০২০ সালে কমে হয় ৯৫৬৭ কোটি টাকা। শুধু তাই নয়, ২০১৯ সালে এই সময়ে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের মোট আয় ছিল ১ লাখ ৫৩ হাজার ৩৮৪ কোটি টাকা। তা ২০২০ সালে কমে হয় ১ লাখ ১৬ হাজার ১৯৫ কোটি টাকা।

কোম্পানির তরফে একটি প্রেস বিবৃতি জারি করে বলা হয়, করোনা সংক্রমণের কারণেই ‘২০ সালে কোম্পানির লাভে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। যদিও আয়কর, সুদ ও অন্যান্য কর বাদ দিলে ওই ত্রৈমাসিকে কোম্পানির লাভ ৭.৯ শতাংশ বেড়ে ২৩ হাজার ২৯৯ কোটি টাকা হয়েছে বলেই জানিয়েছে তারা।

‘২০-র জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর ত্রৈমাসিকে মূল ঘাটতি দেখা যায় রিলায়েন্সের তেলের দামে। এপ্রিল থেকে জুন ত্রৈমাসিকে প্রতি ব্যারেল গ্রস রিফাইনিং মার্জিন বা জিআরএম ছিল ৬.৩ মার্কিন ডলার। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর ত্রৈমাসিকে তা কমে হয় ব্যারেল প্রতি ৫.৭ মার্কিন ডলার।

তার মধ্যেই লাভ বৃদ্ধি পায় রিলায়েন্সের টেলিকম সংস্থা জিও-তে। এই সংস্থায় প্রায় তিনগুণ লাভ বাড়ে। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর ত্রৈমাসিকে লাভের পরিমাণ হয় ২৮৪৪ কোটি টাকা। লকডাউনের ফলে গ্রাহকদের ডেটা ব্যবফার বেড়ে যাওয়ায় লাভ বাড়ে জিও-তে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More