৮টি মাত্র আইসিইউ নিয়ে করোনা যুদ্ধ ছত্তীসগড়ের এই জেলায়, গত বছরের চেয়ে সংক্রমণ ১০ গুণ বেশি

দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত বছর অক্টোবরে, দেশ জুড়ে করোনা সংক্রমণের হার যখন ছিল এক্কেবারে শীর্ষে, ছত্তীসগড়ের বেমেতারা জেলায় তখন ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন ১০০০ জন। আর আজ, ২০২১ সালের এপ্রিল মাসে বেমেতারার করোনা সংক্রমিতের সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার ছাড়িয়েছে। সরকারি এই পরিসংখ্যানই বলে দেয় ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ের ভয়াবহতা ঠিক কতটা।

দেশজুড়ে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে হু হু করে বাড়ছে সংক্রমণ। কিন্তু গত বছর ভাইরাস নিয়ে যে সতর্কতা আর আতঙ্কের ছবি দেখা গিয়েছিল, এখন তার কিছুই প্রায় নেই। শিকেয় উঠেছে সামাজিক দূরত্ববিধি। মুখের উপর মাস্কটুকুরও বালাই নেই। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে যেন গা-সওয়া হয়ে গেছে করোনা। কিন্তু দ্বিতীয় পর্যায়ে অতিমহামারী যেন হয়ে উঠেছে আরও বেশি ভয়ানক।

ছত্তীসগড়ের বেমেতারায় রয়েছে একটাই মাত্র করোনার আইসিইউ ব্যবস্থা। আর সেখানে হাতে গুনে রয়েছে ৮টি বেড। জেলা হাসপাতালের আইসিইউতে সেই ৮টির মধ্যে এখন খালি পড়ে আছে যে দুটো বেড, বেমেতারার মৃত্যু আর হাহাকারের গল্প যেন বলছে তারাই। সোমবার সকালেই করোনার বলি হয়েছেন সেই বেডের রোগীরা। পরিস্থিতি যে দিন দিন হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে, বেমেতারার পরিসংখ্যান ইঙ্গিত দিচ্ছে তেমনটাই।

দিনে এখন গড়ে ২০০ জন ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছেন বেমেতারায়। পুরো ছত্তিসগড়ে সংক্রমণের সংখ্যা ৯৮ হাজার ৮৫৬ জন। এ প্রসঙ্গে বেমেতারা জেলা হাসপাতালের এক চিকিৎসক বলেছেন, “সমস্ত রোগীর প্রায় একই ধরনের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। বেশ কয়েক মাসের ঢিলেমির জন্য সকলেই ভেবেছিল করোনা মিটে গেছে। ফলে যখন রোগীদের শরীরে করোনার লক্ষণ দেখা গেছে, তখনও তারা ভেবেছে এটা হয়তো সাধারণ ঠান্ডা লাগার মতো ব্যাপার। বিপদ যখন একেবারে ঘাড়ে এসে নিঃশ্বাস ফেলেছে, তখন শেষ মুহূর্তে হাসপাতালে এসেছে সবাই।”

সচেতনতা না বাড়লেও বেড়েছে আতঙ্ক। আর সেই ছবি স্পষ্ট দেখা যায় হাসপাতালের আইসিইউ সেকশনের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা রোগীর আত্মীয়দের উদ্বিগ্ন চোখে মুখে। প্রিয়জন ঘরে ফিরবে, নাকি রোল উঠবে কান্নার, কেউ জানে না। এর শেষ কোথায়? উত্তর খুঁজছে বেমেতারা।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More