২৪ শে অগস্ট থেকে খুলে যাচ্ছে তারাপীঠ মন্দির

দীর্ঘ পাঁচ মাস পর খুলছে তারাপীঠ মন্দির। এ মাসের ২৪ তারিখ থেকেই দর্শনার্থীরা যেতে পারবেন মায়ের মন্দিরে। আজ সেবায়েত সংঘের বৈঠকের পর ঘোষণা...

দ্য ওয়াল ব্যুরো, বীরভূম: ভক্তদের জন্য আবার খুলতে চলেছে তারাপীঠ মন্দির। জেলার এই প্রাচীন সতীপীঠটি শুধুমাত্র ধর্মস্থান হিসাবেই নয়, সপ্তাহান্তে বেড়াতে যাওয়ার জায়গা হিসাবেও খুব জনপ্রিয়।
করোনার জেরে দুদফায় প্রায় পাঁচ মাস বন্ধ ছিল তারাপীঠ মন্দির। জুলাই মাসের কুড়ি-একুশ তারিখ নাগাদ মন্দির খুললেও সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কায় দশ-বারো দিন পরেই প্রশাসনের তরফ থেকে আবার বন্ধ করে দেওয়া হয় মন্দির চত্বর।
দীর্ঘ টালবাহানার পর এবার পাকাপাকি খুলতে চলেছে মায়ের মন্দির। আজ সেবায়েত সংঘের বৈঠকের পর সাংবাদিকদের জানানো হয়েছে এ মাসের ২৪ তারিখ থেকেই খুলে যাচ্ছে তারাপীঠ মন্দিরের দরজা। নিয়মিত পুজোপাঠের পাশাপাশি সেদিন থেকেই আবার আগের মতো মা’কে দর্শন করতে পারবেন সাধারণ ভক্তেরা

চেনা তারাপীঠের ছবিটাই যেন বদলে গেছিল গত পাঁচমাসে। দর্শনার্থীদের ভিড় নেই। পুজোর লাইন ধূ ধূ ফাঁকা। প্রতিদিন পুজোর সামগ্রী বিক্রি করে পেটের সংস্থান করতেন যাঁরা, ভক্তরা না আসায় বেজায় সমস্যায় পড়েছিলেন তাঁরাও। টানা পাঁচমাস ধরে রুজিরোজগার বন্ধ থাকায় রাতের ঘুম উড়ে গিয়েছিল স্থানীয় সেবায়েত ও ছোটো ব্যবসায়ীদের।
তারাপীঠে বর্তমানে হোটেল, লজ, গেস্টহাউস মিলিয়ে সংখ্যাটা পাঁচশ’র অধিক, মা তারার মন্দির সংলগ্ন পূজা-সামগ্রীর দোকানই প্রায় দু’শটি এবং পান্ডা, সেবায়েত মিলে প্রায় 300টি পরিবার মায়ের মন্দিরের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তার সঙ্গে রয়েছে খাবার হোটেল, রেস্তোরা, অটো, টোটো, ছোট গাড়ি, বাস প্রভৃতি গণপরিবহন এবং অন্যান্য দোকান। মা তারার মন্দিরে ভক্তসমাগমের উপরেই এই সমস্ত মানুষজনের রুজিরুটি নির্ভর করে।
মন্দির অনির্দিষ্টকাল বন্ধ থাকায় মার খাচ্ছিলেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। সেবায়েত ও মন্দিরের সঙ্গে যুক্ত মানুষজনের জীবনেও আর্থিক অনটনের ছায়া বড় হচ্ছিল। এই অবস্থার মধ্যেই মায়ের ভক্তদের জন্য এল সুখবর। অগস্টের চব্বিশ থেকেই আবার আগের মতো পুরোনো নিয়ম মেনে পুজো দিতে পারবেন ভক্তরা। তবে করোনা আতঙ্কের কথা মাথায় রেখে কিছু সামাজিক নিয়মবিধি মেনে চলা হবে মন্দিরে। নিয়ন্ত্রণ করা হবে অতিরিক্ত জনসমাগমও।
সব মিলিয়ে মন্দির খোলার খবরে এইমুহূর্তে খুশির রেশ ভক্তদের মধ্যে এবং স্থানীয় মহলে।
You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More