চ্যাম্পিয়নস লিগ: নিষ্প্রভ বায়ার্নকে ছিটকে দিল পিএসজি, সেমিফাইনালে চেলসিও

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সেকেন্ড লেগ জিতেও শেষরক্ষা হল না। হোম-অ্যাওয়ে ম্যাচ মিলিয়ে গোলের অঙ্কের কাটাকুটিতে চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে বিদায় নিল বায়ার্ন মিউনিখ ও পোর্তো। গতবারের ইউরোপ বিজয়ী ক্লাব বায়ার্নকে এবছরেরও অন্যতম দাবিদার বলে মনে করছিলেন অনেকে। কিন্তু পিএসজি-র কাছে প্রথম হোম লেগে ৩-২ গোলে হেরে যাওয়ার সুবাদে ১-০ গোলে জিতেও সুবিধে হয়নি। দু’টি লেগ মিলিয়ে ৩-৩ স্কোর থাকা সত্ত্বেও ফরাসি ক্লাবটির ঝুলিতে অ্যাওয়ে গোল বেশি থাকায় সেমিফাইনালে পৌঁছে গেল তারা।

অন্যদিকে দু’বারের চ্যাম্পিয়ন পোর্তোকে দু’টি লেগ মিলিয়ে ২-১ গোলে হারাল চেলসি। প্রথম লেগে ২টি অ্যাওয়ে গোল করায় ফিরতি ম্যাচে সুবিধাজনক জায়গায় ছিল ইংল্যান্ডের ক্লাবটি৷ পোর্তোকে পরের রাউন্ডে যেতে হলে ৩টি গোল করতে হত। তাই ইনজুরি টাইমে ইরানের ফুটবলার মেহতি টেরামির অবিশ্বাস্য গোলেও শিঁকে ছেঁড়েনি। রুডিগার-থিয়াগো সিলভার নেতৃত্বে আঁটসাঁট রক্ষণ আর মিডফিল্ডে এনগোলো কান্তের পরিশ্রমী ফুটবলের সৌজন্যে সাত বছর পর সেমিফাইনালের মুখ দেখল ‘দ্য ব্লুজ’।

গতকালের প্রথম ম্যাচে ফ্রান্সের পার্ক দেঁ প্রিন্সেস স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয় বায়ার্ন-পিএসজি। ঘরের মাঠে ৩-২ গোলে হেরে যাওয়ায় এদিন আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিল এই জার্মান দল। ৪-২-৩-১ ফর্মেশনে ঘুঁটি সাজান কোচ হান্সি ফ্লিক। স্ট্রাইকার রবার্ট লেবেনডস্কি চোটের কারণে অনুপস্থিত থাকায় তাঁর জায়গা নেন এরিক চুপো-মোটিং। প্রাক্তন পিএসজি ফুটবলার এরিক নিজের পুরোনো দলের বিরুদ্ধে খেলতে নেমে শুরু থেকেই তেতে ছিলেন।

ফার্স্ট হাফে দু’দলই ঘর সামলে আক্রমণে যাওয়ার নকশা বুনেছিল। তাই মোটের উপর সমস্ত লড়াই ছিল মাঝমাঠকে ঘিরে। যদিও বায়ার্ন ‘হাই লাইন ডিফেন্স’ সাজানোয় কাউন্টার অ্যাটাকের ফিকির খুঁজছিল ফরাসি ক্লাবটি। এমবাপে, নেইমার, ডি-মারিয়ার ত্রিভুজ আক্রমণের জেরে বেশ কয়েকবার আধা সুযোগ এলেও গোলরক্ষক ম্যানুয়েল ন্যয়ারের তৎপরতায় বায়ার্ন রক্ষা পায়। উলটে প্রথম অর্ধ শেষের মুখে এগিয়ে যায় তারা। গোল করেন চুপো-মোটিং।

দ্বিতীয় হাফে বায়ার্ন অল অ্যাটাকে চলে যায়। পাশাপাশি রক্ষণ মজবুত করতে জাভি মার্টিনেজকে মাঠে নামান ফ্লিক। পালটা চাল হিসেবে একই জায়গায় আন্দের হেরেরাকে নিয়ে আসেন পিএসজি কোচ পচোতিনো। দু’দলের অ্যাটাক বনাম কাউন্টার অ্যাটাকে উত্তেজনার পারদ চড়তে থাকে। এরই মধ্যে বিপক্ষ রক্ষণের ফাঁক গলে দলকে এগিয়ে দেওয়ার সুযোগ পান এমবাপে। কিন্তু অফসাইডের কারণে তাঁর গোল বাতিল হয়।

সেকেন্ড হাফের বাকি সময়জুড়ে বায়ার্ন নিশ্চিত সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। শেষ মুহূর্তে উইঙ্গার লিরন সানে গোলের সামনাসামনি এলেও বল জালে জড়াতে ব্যর্থ হন। ম্যাচ শুরুর আগে বিশেষজ্ঞদের অনেকেই এই তরুণ জার্মানকে বায়ার্নের তুরুপের তাস হিসেবে দেগে দিয়েছিলেন। যদিও এদিনের ম্যাচে বেশ নিষ্প্রভ ছিলেন তিনি। ম্যাচের শেষে জার্মানির প্রাক্তন ফুটবলার-কোচ যুরগেন ক্লিনম্যান গোলের মুখে সানের খেই হারিয়ে ফেলাকে কাঠগড়ায় তোলেন। পাশাপাশি সেমিফাইনালের আগেই ছিটকে যাওয়াকে ঔদ্ধত্যের পরিণতিও বলেছেন কেউ কেউ।

অন্য ম্যাচে পোর্তোর হাই প্রেসিং ফুটবলের বিষদাঁত অকেজো করল চেলসি কোচ টমাস টুচলের রক্ষণাত্মক নীতি। ৩-৪-৩ ফর্মেশনে এদিন দল সাজান টুচল। আক্রমণে সাবেকি স্ট্রাইকারের বদলে কাই হাভার্টজকে ‘ফলস নাইন’ হিসেবে ব্যবহার করেন। সেই সঙ্গে মেসন মাউন্ট-ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচের জোড়া সঙ্গত। রক্ষণ মজবুত করতে ক্রিশ্চিয়ানসেনের বদলে ব্রাজিলের পোড়খাওয়া ডিফেন্ডার থিয়াগো সিলভাকে ফিরিয়ে আনেন টুচল।

জিততে গেলে দরকার ছিল ৩ গোল। তাই রেফারির বাঁশি বাজতেই চেলসিকে ধাওয়া করতে শুরু করে পোর্তো-বিগেড। কিন্তু দুই উইঙ্গ ব্যাককে ডিফেন্সে এনে রক্ষণে মোট পাঁচজনের দেয়াল বানিয়ে ফেলে চেলসি। জেসুস করোনা, মৌসা মারেগা-রা যা ভেদ করতে ব্যর্থ হন। দু’অর্ধ মিলিয়ে কোনওদলই নিশ্চিত গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। তবে ম্যাচের অন্যতম আকর্ষণ মজুত ছিল ইনজুরি টাইমে। নেপথ্য নায়ক মেহতি টেরামি। উইং থেকে ভেসে আসা বল ডিফেন্সের জঙ্গল এড়িয়ে ওভারহেড কিকে জালে জড়ান তিনি। বিশেষজ্ঞদের মতে, একক দক্ষতায় টেরামির এই গোল চলতি চ্যাম্পিয়নস লিগের অন্যতম সেরার দাবিদার হতে চলেছে।

আজ কোয়ার্টার ফাইনালের অন্য দুই ম্যাচে মুখোমুখি হবে বরুসিয়া ডর্টমুন্ড-ম্যাঞ্চেস্টার সিটি এবং লিভারপুল-রিয়াল মাদ্রিদ। প্রথম ম্যাচের বিজয়ীরা সেমি ফাইনালে পিএসজির মুখোমুখি হবে। আর চেলসির লড়াই দ্বিতীয় ম্যাচের জয়ী ক্লাবের বিরুদ্ধে। তারপরই ঠিক হবে ফাইনালের ভাগ্য। ইস্তানবুলে কাপ হাতে মঞ্চ দাপাবে কোন দল!

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More