শনিবার, ফেব্রুয়ারি ১৬

বুধবার পাঁচ ঘণ্টা ইডির জেরা রবার্টকে, ফের তলব বৃহস্পতিবার

দ্য ওয়াল ব্যুরো : কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়ঙ্কা গান্ধীর স্বামী রবার্ট বঢড়াকে বুধবার পাঁচ ঘণ্টা জেরা করল এনফোর্সমেন্ট ডায়রেক্টরেট। তাঁর বিরুদ্ধে টাকা তছরুপের অভিযোগ আছে। এদিনের জেরায় অবশ্য রবার্ট সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১০টায় তাঁকে ফের ডেকে পাঠিয়েছে ইডি।

৪৯ বছর বয়সী রবার্টকে আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত গ্রেফতার করতে পারবে না ইডি। আদালত তেমনই নির্দেশ দিয়েছে। এদিন প্রিয়ঙ্কা রবার্টকে সঙ্গে ইডির দিল্লির অফিসে পৌঁছে দেন। পরে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি আমার স্বামীর পাশে আছি। বেলা তিনটে বেজে ৪৭ মিনিট নাগাদ রবার্ট ইডির অফিসে ঢোকেন। তার আগেই সেখানে পৌঁছে গিয়েছিলেন তাঁর আইনজীবীরা।

রাত ১০টার পরে তিনি সেই অফিস থেকে বেরন। তাঁর আইনজীবী বলেন, তিনি লিখিতভাবে ইডিকে জানিয়েছেন, জেরার জন্য যখনই ডাকা হবে তিনি উপস্থিত হবেন।

রবার্ট আগেই দাবি করেছেন, তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, বেনামে কয়েক কোটি ডলার দিয়ে তিনি লন্ডনে কয়েকটি বিলাসবহুল ভিলা ও ফ্ল্যাটের মালিক হয়েছেন। ২০০৫ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে তিনি ওই সম্পত্তি কেনেন। ওই মামলায় আরও দুই অভিযুক্ত হলেন অস্ত্র ব্যবসায়ী সঞ্জয় ভান্ডারী ও তাঁর ভাইপো সুমিত চাড্ডা। তাঁদের সঙ্গে কোনোরকম যোগাযোগের কথা অস্বীকার করেছেন রবার্ট। অতীতে স্কাইলাইট হসপিটালিটি নামে এক সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন রবার্ট। সেই সংস্থার এক প্রাক্তন কর্মীর নাম মনোজ অরোরা। অভিযোগ, মনোজ অরোরা একসময় রবার্টের হয়ে ই-মেল লিখতেন। সঞ্জয় ভাণ্ডারীর বিরুদ্ধে অপর একটি মামলায় তদন্ত করার সময় সেকথা জানতে পারে আয়কর দফতর।

আদালতে ইডি জানিয়েছে, সঞ্জয় ১৯ লক্ষ পাউন্ড দিয়ে লন্ডনে একটি বাড়ি কেনেন। ২০১০ সালে একই দামে তিনি সেই সম্পত্তি বেচে দেন। যদিও বাড়িটির রক্ষণাবেক্ষণে তাঁর ব্যয় হয়েছিল ৬৫ হাজার ৯০০ পাউন্ড। ইডির বক্তব্য ভাণ্ডারীর নামে বাড়ি কেনা হলেও তার আসল মালিক ছিলেন রবার্ট।

প্রিয়ঙ্কা রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার কিছুদিন বাদেই ইডির জেরার মুখে পড়লেন তাঁর স্বামী। রবার্টকে নিয়ে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে এর আগেই আক্রমণ শানিয়েছে বিজেপি। দলের মুখপাত্র সম্বিত পাত্র বলেন, কংগ্রেসের মূল কর্মসূচিই হল দুর্নীতি। সকলেই জানে নেহরু-গান্ধী পরিবারের সকলেই এখন জামিনে মুক্ত আছেন। ২০১৯ সালের নির্বাচনে দুর্নীতিবাজদের সঙ্গে নরেন্দ্র মোদী সরকারের স্বচ্ছতার লড়াই হবে।

Shares

Comments are closed.