শূন্য মানে সিপিএম শেষ নয়, আমি হেরেছি খিদিরপুরের জন্য: রুদ্রনীল

দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্লোগান ছিল, ‘অব কি বার, দোশো পার।’ অমিত শাহরা বাংলায় এসে একুশের ভোটের আগে এই স্লোগানই তুলে দিয়েছিলেন। কিন্তু দেখা গেছে বিজেপি তিন অঙ্কও ছুঁতে পারেনি। থামতে হয়েছে ৭৭-এ। নিশীথ প্রামাণিক, জগন্নাথ সরকারের ইস্তফার পর তা দাঁড়িয়েছে ৭৫-এ।

ফলাফলের পর বিজেপি-র মনোবল যখন দুমড়ে গিয়েছে বাংলায়, দলের মধ্যেও যখন ক্ষোভ অসন্তোষের দাবানল তখন একুশের ফলাফলকে ইতিবাচক বলেই দেখাতে চাইলেন অভিনেতা তথা ভবানীপুর থেকে বিজেপির হয়ে ভোটে লড়া রুদ্রনীল ঘোষ। বিজেপির ফল ব্যাখ্যা করতে গিয়ে টানলেন তাঁর পুরনো দল সিপিএমকেও।

নাট্যকার সৌরভ পালোধী ফেসবুকে একটি লাইভ আড্ডার শো করেন। ‘বাম’ সৌরভের সেই আড্ডায় যোগ দিয়ে ‘রাম’ রুদ্রনীল যেন অকপট। তাঁর দলবদল, ভোটে হার, ভবানীপুরে মার খাওয়া—সব নিয়েই খোলামেলা জবাব দিতে চাইলেন ‘চ্যাপলিন।’

কী বললেন গেরুয়া শিবিরে নাম লেখানো অভিনেতা?

তাঁর কথায়, এবার ভোটে সিপিএম একটাও আসন পায়নি। তার মানে যাঁরা ভাববেন বাংলায় সিপিএম শেষ তাঁরা ভ্রান্ত ধারণা পোষণ করছেন। সেই রেশ ধরেই রুদ্র বোঝাতে চান, বাংলায় বিজেপির ফলাফলকে তিনি ইতিবাচক এবং সাফল্য হিসেবেই দেখছেন। কেন না ২০১৬-র ভোটে তিন বিধায়ক নিয়ে বিজেপি ছিল বাংলায় প্রান্তিক শক্তি। পাঁচ বছরের মধ্যে তিন থেকে বেড়ে ৭৫ এবং রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল হয়েছে বিজেপি।

কিন্তু অমিত শাহদের ২০০ আসন জেতার আস্ফালন?

রুদ্র এ ব্যাপারেও যুক্তি দিতে উদাহরণে টানেন সিপিএম রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্রকে। তিনি বলেন, সূর্য মিশ্রও তো বলেছিলেন ২০০ আসন পাবেন। প্রসঙ্গত, একুশের ভোটে নয়। গত ষোলর ভোটে সূর্যবাবু বলেছিলেন বাংলায় বাম-কংগ্রেস জোট ডবল সেঞ্চুরি করবেন। তা কি হয়েছিল?

অনেকের মতে, রুদ্র যেটা বোঝাতে চেয়েছেন তা হল নেতারা ভোটের আগে চাঙ্গা করার জন্য এমন অনেক কথা বলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দেখতে হয়, পাঁচ বছর আগে কোথায় ছিল এবার কোথায় এসে দাঁড়াল। বিজেপির অভ্যন্তরে একটা অংশও এ ভাবেই একুশের বাংলার ফলকে ব্যাখ্যা করতে চাইছেন। রুদ্রও যে সেই আশাবাদী শিবিরের লোক তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন।

ভবানীপুরে হার নিয়েও নিজের কথা বলেছেন রুদ্র। তাঁর কথায়, ৭৭ নম্বর ওয়ার্ড, যা কিনা খিদিরপুরে এবং যেখানে সংখ্যালঘুদের আধিক্য রয়েছে সেখানে সব ভোট তৃণমূল পেয়েছে। আমি ২৮ হাজার ভোটে হেরেছি। তার মধ্যে ২২ হাজার ওই ৭৭-এ। বাকি ভবানীপুরের মানুষ আমায় ঢেলে ভোট দিয়েছেন।

রুদ্রনীল একটা সময়ে হাওড়ার এনডি কলেজে এসএফআই করতেন। সিপিএমের পার্টি সদস্যও ছিলেন। কিন্তু তারপর বহুদিন আগেই সিপিএমের সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়ে যায় তাঁর। ষোলর ভোটের সময় তৃণমূলের সংস্পর্ষে আসেন রুদ্র। দ্বিতীয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের সময়ে তিনি সরকারি পদও পান। তারপর বিজেপি। অভিনেতার এই দল বদল নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় কম ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ হয়নি। ওই ফেসবুক আড্ডায় সৌরভ রুদ্রনীলের উদ্দেশে প্রশ্ন করেন, এটাই কি ফাইনাল নাকি এরপরে আবার…! আপাতত রুদ্র জানিয়েছেন বিজেপি-ই ফাইনাল। অর্থাৎ তিনি গেরুয়া শিবিরেই থাকছেন। সঙ্গে এও বলেছেন, “আসলে আমার ফাইনালটাকে রাজনৈতিক দলগুলো বদলে দেয়। তাই আমি বদলে যাই।”

Leave a comment

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More