ক্ষমতায় থাকার লক্ষ্যে আরও দুবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দাঁড়াতে আইনে সই পুতিনের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০৩৬ পর্যন্ত রাশিয়ায় ভ্লাদিমির পুতিন! সোমবার রুশ প্রেসিডেন্ট এমন একটি আইনে সই করলেন যা ২০৩৬ পর্যন্ত তাঁকে ক্ষমতা হাতে রাখার ছাড়পত্র দেবে। গত বছরের ১ জুলাইয়ের সংবিধান ভোটে নিয়মের যে বদল অনুমোদিত হয়, তাকেই আনুষ্ঠানিক  রূপ দিলেন পুতিন। সাংবিধানিক নির্বাচনে একটি ধারা ছিল যাতে পুতিনের আগের মেয়াদের সময়সীমায় বদল করা হয়। তিনি আরও দুবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দাঁড়ানোয় ছাড়পত্র পান। সেই বদলে সিলমোহর দেয় ক্রেমলিন নিয়ন্ত্রিত আইনসভা।

পুতিনের সই করা সংশ্লিষ্ট আইনটি সরকারি পোর্টালে পোস্ট করা হয়েছে।

দুদশকেরও বেশি প্রেসিডেন্ট পদে আছেন ৬৮ বছরের পুতিন। সোভিয়েত একনায়কতন্ত্রী  শাসক জোসেফ স্তালিনের পর আর কেউ এতদিন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পদে থাকেননি। তবে বর্তমানের ৬ বছরের মেয়াদ শেষে ২০২৪ সালে ফের প্রেসিডেন্ট পদে ভোটে লড়বেন কিনা, সেটা পরে স্থির করবেন বলে জানিয়েছন পুতিন। তিনি ক্ষমতায় থাকার মেয়াদ নতুন করে ঠিক করার সমর্থনে সওয়াল করেন, নিজের ‘অধীনস্থ প্রশাসনিক কর্তাদের যাতে সম্ভাব্য উত্তরাধিকারীদের সন্ধানে হা-হুতাশ করতে না হয়’, তাঁরা  নিজেদের কাজে মন বসাতে পারেন, সেজন্যই এমন ভাবনা।  সাংবিধানিক রদবদলে আন্তর্জাতিক আইনের ওপর রুশ আইনকে অগ্রাধিকার, গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, সমকামী বিয়ে নিষিদ্ধ হয়েছে, ‘ঈশ্বর বিশ্বাস’কে মৌলিক মূল্যবোধ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে চলার পর ১ জুলাই শেষ হওয়া ভোটাভুটিতে ৬৮ শতাংশ ভোট পড়েছিল। তাদের ৭৮ শতাংশই সাংবিধানিক সংশোধনীগুলিকে ছাড়পত্র দেন। ভোটাভুটির পর রুশ আইনপ্রণেতারা জাতীয় আইনে বদল ঘটান, সংশ্লিষ্ট আইনে অনুমোদন দেন।

বিরোধীরা অবশ্য সাংবিধানিক ভোটের সমালোচনা করে সওয়াল করে, ভোটারদের চাপ দেওয়ার পাশাপাশি নানা ধরনের বেনিয়ম হয়েছে, ভোটপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ছিল না, নিরপেক্ষ ভাবে ভোটপ্রক্রিয়ায় নজরদারি চালানোর পথেও বহু প্রতিবন্ধকতা ছিল।

ভোটের কয়েক মাস বাদে রাশিয়া বিরোধী শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা আলেক্সি নাভালনিকে বন্দি করে। নার্ভ এজেন্ট পয়জনিং বা বিষক্রিয়ার রেশ কাটিয়ে জার্মানি থেকে ফিরতেই জানুয়ারিতে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। জার্মানিতে ৫ মাস ছিলেন তিনি। বিষক্রিয়ার জন্য ক্রেমলিনকে দায়ী করেন নাভালনি। যদিও অভিযোগ খারিজ করেছে রাশিয়া।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More