নিজের ছেলের পরাজয়ের দায়িত্ব শচীনের ওপরে চাপাচ্ছেন গহলৌত

দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত ডিসেম্বরেই রাজস্থানে বিধানসভা ভোটে জিতে সরকার গড়েছে কংগ্রেস। এবার লোকসভা ভোটে তাদের ফল হয়েছে শোচনীয়। রাজ্যে একটিও লোকসভা আসনে জেতেনি রাহুল গান্ধীর দল। ভোটে খারাপ ফলের পরে রাজ্যে দলের সর্বোচ্চ স্তরে শুরু হয়েছে পারস্পরিক দোষারোপের পালা। মুখ্যমন্ত্রী অশোক গহলৌত প্রকাশ্যেই বলেছেন, যোধপুর কেন্দ্রে পরাজয়ের দায় তাঁর উপমুখ্যমন্ত্রী শচীন পাইলটকে নিতে হবে। ওই কেন্দ্রে প্রার্থী ছিলেন তাঁর ছেলে বৈভব।

এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, শচীন পাইলট বলেছিলেন, আমরা বিরাট গরিষ্ঠতা নিয়ে জিতব। তিনি বলতেন, যোধপুরে আমাদের ছ’জন বিধায়ক আছেন। সেখানে ভোটের জোরদার প্রচার হয়েছে। যোধপুর কেন্দ্রে পরাজয়ের দায় অন্তত তাঁকে নিতে হবে।

যোধপুর আসনে বৈভব বিজেপির গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াতের কাছে ২ লক্ষ ৭০ হাজার ভোটে পরাজিত হয়েছেন। ওই কেন্দ্রে টানা প্রচার করেছিলেন অশোক। অভিযোগ উঠেছিল, তিনি নিজের ছেলেকে জেতানোর জন্য এত সময় ব্যয় করছেন যে, অন্যান্য কেন্দ্রে প্রচারে যেতে পারছেন না। শচীন পাইলট এক জনসভায় বলেছিলেন, নিজের ছেলেকে প্রার্থী করার ব্যাপারে গহলৌতজি কোনও উচ্চবাচ্য করেননি। আমি বৈভবকে যোধপুরে প্রার্থী করার জন্য চাপ দিয়েছিলাম। সাক্ষাৎকারে অশোক গহলৌত বলেছেন, পাইলট বলেছিলেন, যোধপুরে আমাদের ‘শানদার’ জয় হবে। এবার পরাজয়ের দায়িত্বও তাঁকেই নিতে হবে। রাজ্যে আমরা মোট ২৫ টি আসনে হেরেছি।

পরে গহলৌত বলেন, পরাজয়ের জন্য সকলকেই দায়িত্ব নিতে হবে। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি এবং মুখ্যমন্ত্রী, কেউ বাদ যাবেন না। আমাদের এতবড় পরাজয় কেন হল বুঝতে পারছি না।

গত সপ্তাহে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে দলের সভাপতি রাহুল গান্ধী বলেছিলেন, অনেক প্রবীণ নেতা নিজেদের ছেলেকে প্রাত্থী করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছিলেন। তাঁরা দলের স্বার্থকে সবার ওপরে স্থান দেননি। নাম না করে অশোক গহলৌতের বিরুদ্ধেই ওই মন্তব্য করা হয়েছিল বলে মনে করা হচ্ছে। এসম্পর্কে প্রশ্ন করলে গহলৌত বলেন, এই ধরনের মিটিং-এ যে কথাবার্তা হয়, তা নিয়ে বাইরে আলোচনা হওয়া উচিত নয়।

গহলৌতের মন্তব্য নিয়ে কিছু বলতে অস্বীকার করেছেন শচীন। তবে কেন তিনি অমন মন্তব্য করলেন, তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। একটি সূত্রে জানা গিয়েছে, গহলৌত তাঁর নিজের বুথেই হেরেছেন ৪০০ ভোটে। তিনি তিনবার রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন, চারবার বিধায়ক হয়েছেন এবং যোধপুর কেন্দ্র থেকে এমপি হয়েছেন পাঁচবার। তার পরেও নিজের বুথেই হার ঠেকাতে পারেননি।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More