কংগ্রেসের নয়া কৌশল, রাজস্থানে শচীন পাইলট ও অন্য বিদ্রোহীদের নোটিস ধরালেন স্পিকার

দ্য ওয়াল ব্যুরো : বুধবার রাজস্থানে বিদ্রোহী নেতা শচীন পাইলট ও তাঁর অনুগামীদের ডিসকোয়ালিফাই করার প্রক্রিয়া শুরু করল কংগ্রেস। দলবিরোধী কাজের অভিযোগে বিধানসভার স্পিকার তাঁদের নোটিস ধরিয়েছেন। আগামী শুক্রবারের মধ্যে তাঁদের জবাব দিতে হবে। বিদ্রোহীদের ডিসকোয়ালিফাই করলে বিধানসভায় গরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে কম সংখ্যক বিধায়কের প্রয়োজন হবে। তাতে সুবিধা হবে কংগ্রেসের। শচীন পাইলট অবশ্য আগেই দাবি করেছেন, বিধানসভায় গরিষ্ঠতা হারিয়েছে কংগ্রেস। এদিন তিনি সাংবাদিক বৈঠক করবেন বলে জানা গিয়েছে।

স্পিকার তাঁর চিঠিতে শচীন পাইলট ও অপর বিদ্রোহীদের বলেছেন, তাঁরা দলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছেন। দলের দু’টি বৈঠকে উপস্থিত হননি। এরপরে দলবিরোধী কাজের অভিযোগে তাঁদের ডিসকোয়ালিফাই করা হবে না কেন? তাঁরা যদি জবাব দিতে না পারেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মঙ্গলবার শচীনকে উপমুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। শচীনের অনুগামী দুই মন্ত্রীও পদচ্যুত হন। তারপর শচীন টুইট করে বলেন, “যারা সত্যের পথে থাকে তাদের হেনস্থা করা যায় ঠিকই কিন্তু তা বলে সত্যকে পরাজিত করা যায় না।” রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলোট এদিনই তাঁর মন্ত্রিসভার পুনর্বিন্যাস করবেন বলে জানা গিয়েছে।

গত রবিবার দলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন শচীন। এর পরেই গেহলোট সরকার সংকটে পড়ে।

২০০ আসনবিশিষ্ট রাজস্থান বিধানসভায় কংগ্রেসের বিধায়ক ছিলেন ১০৭ জন। ১৩ জন নির্দল বিধায়ক কংগ্রেসকে সমর্থন করেছিলেন। এছাড়া সরকারের পক্ষে ছিলেন ছোট দলগুলির আরও পাঁচজন বিধায়ক। কিন্তু মঙ্গলবারের পর মনে হচ্ছে, সরকারের পক্ষে আছেন ৯০ জন কংগ্রেস বিধায়ক, সাতজন নির্দল বিধায়ক এবং ছোট দলগুলির পাঁচ বিধায়ক।

সোমবার রাতে রাজস্থানের পর্যটন মন্ত্রী বিশবেন্দ্র সিং সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ১০ সেকেন্ডের ভিডিও পোস্ট করেন। তাতে দেখা যায়, ১৬ জন বিধায়ক বসে আছেন। সেখানে অবশ্য শচীন পাইলটকে দেখা যাচ্ছে না। ভিডিও-র নীচে লেখা হয়েছে, ‘ফ্যামিলি’। একটি সূত্রে খবর শচীন পাইলটের সঙ্গে এখন আছেন ২০ জন বিধায়ক। তাঁদের ১৭ জন কংগ্রেস নেতা। বাকিরা নির্দল। বিদ্রোহী কংগ্রেস বিধায়কদের মধ্যে দু’জন রাজস্থানের মন্ত্রী।

ভারতীয় ট্রাইবাল পার্টি নামে এক ছোট দলের দু’জন বিধায়ক আছেন রাজস্থানে। ওই দল কংগ্রেসকে সমর্থন করেছিল। কিন্তু কয়েকদিন আগে তারা সমর্থন তুলে নিয়েছে। দুই বিধায়ককে বলা হয়েছে, নিরপেক্ষ থাকতে হবে। অশোক গেহলোট বা শচীন পাইলট, কাউকে সমর্থন করা চলবে না। দুই বিধায়ক অবশ্য ইঙ্গিত দিয়েছেন, তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষে থাকতে পারেন।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More