পাকিস্তানকে ধারে তেল দেবে না সৌদি, কাশ্মীর ইস্যুতে ওআইসি ভেঙে দেওয়া বিতর্কের জবাব

এমনিতেই অর্থনৈতিক সংকটের মোকাবিলা করতে গিয়ে জেরবার ইমরান সরকার। করোনা সংক্রমণ সেই সংকট আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তার মধ্যেই সৌদি আরবের এই পদক্ষেপ পাকিস্তানকে নতুন করে চাপের মুখে ফেলবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাকিস্তানকে ঋণ হিসেবে তেল দেবে না সৌদি আরব। মনে করা হচ্ছে, ইমরান খান সরকার কাশ্মীর নিয়ে বিবাদের জেরে অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কান্ট্রিজ (ওআইসি) ভেঙে দেওয়ার হুমকি দেওয়ার জবাবেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সৌদি আরব। আর তার জেরে রীতিমতো সংকটে পাক সরকার।

আরও পড়ুন

তিন ওষুধে সারতে পারে ঘরোয়া অর্থনীতির ব্যামো: মনমোহন

এমনিতেই অর্থনৈতিক সংকটের মোকাবিলা করতে গিয়ে জেরবার ইমরান সরকার। করোনা সংক্রমণ সেই সংকট আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তার মধ্যেই সৌদি আরবের এই পদক্ষেপ পাকিস্তানকে নতুন করে চাপের মুখে ফেলবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রবল অর্থনৈতিক সংকট থেকে বাঁচতেই ২০১৮ সালে সৌদি আরবের থেকে ৬.২ লক্ষ কোটি ডলার ঋণ নিয়েছিল পাকিস্তান। সেই ঋণে একটি শর্ত ছিল যাতে বলা হয়, ইসলামাবাদকে সৌদি আরব বছরে ৩.২ লক্ষ কোটি ডলার মূল্যের তেল ধারে সরবরাহ করবে। কিন্তু সেই চুক্তির মেয়াদ সম্প্রতি শেষ হয়ে গেলেও তা নবীকরণ করেনি সৌদি আরব।

পাক সংবাদমাধ্যমের দাবি, ওই তেল দেওয়ার শর্ত মাস দুয়েক আগেই শেষ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত রিয়াধ ওই শর্তে নতুন করে সই করেনি। কিছু পাক সংবাদমাধ্যমের দাবি, সৌদি আরবের এই সিদ্ধান্তের পিছনে রয়েছে পাকিস্তান বিদেশমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশির কাশ্মীর প্রসঙ্গে মন্তব্য।

উল্লেখ্য, কিছু দিন আগেই পাক বিদেশমন্ত্রী একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে বলেন, সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন ওআইসি কাশ্মীর নিয়ে বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠক যদি না-ডাকে তবে পাকিস্তান চুপ করে থাকবে না। সেক্ষেত্রে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান কাশ্মীর ইস্যুতে ইসলামিক দেশগুলির বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠক ডাকবেন।

ওআইসি বা অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কান্ট্রিজ হল বিশ্বের ইসলামিক দেশগুলির সবচেয়ে বড় সংগঠন। সদস্য দেশের সংখ্যা ৫৭। সেই সংগঠন যাতে কাশ্মীর ইস্যুতে বৈঠক ডাকে তার জন্য গত কয়েক বছর ধরে নাগাড়ে চাপ দিয়ে চলেছে পাকিস্তান। কিন্তু ইসলামাবাদের সেই চাপে কোনও লাভই হয়নি। আর তাতেই রাগ ইমরান প্রশাসনের।

২০১৯ সালের ৫ অগস্ট জম্মু-কাশ্মীরকে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া ৩৭০ ধারা প্রত্যাহার করে ভারত সরকার। নরেন্দ্র মোদী সরকার সেই সময়েই জম্মু-কাশ্মীর রাজ্য ভেঙে দু‌’টি পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ঘোষণা করে। তখন থেকেই এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সরব পাকিস্তান। এই ইস্যুতে অন্যান্য ইসলামিক দেশের থেকেও ভারতের বিরুদ্ধে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা চালায়। কিন্তু ইমরান খান সরকারের সেই মরিয়া চেষ্টাতেও কোনও ফল পায়নি ইসলামাবাদ।

তুরস্কের সঙ্গে পাকিস্তানের সুসম্পর্কের কথাও সকলেরই জানা। কাশ্মীর ইস্যুতে আগেই পাকিস্তানের অবস্থানকে প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছে তুরস্ক। আন্তর্জাতিক রাজনীতির বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করেন, পাক-তুরস্ক সখ্যতার কারণেও ইসলামাবাদ থেকে দূরত্ব বাড়াতে চায় রিয়াধ। কারণ, তুরস্ক সৌদি আরবের কাছে অন্য চ্যালেঞ্জ। অনেক দিন ধরেই তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইপ এর্ডোগান ওআইসির প্রধানের পদে বসতে চাইছেন। কিন্তু সৌদি আরব ইসলামিক দেশগুলির এই সংগঠনের কর্তৃত্ব ছাড়তে মোটেও তৈরি নয়।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More