সুজাতার ‘দাদাগিরি’ করার দরকার ছিল না, স্ত্রীর মার খাওয়া নিয়ে মন্তব্য সৌমিত্রর

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মনে পরে গত ২১ জানুয়ারির কথা?

দুপুর বেলা তৃণমূল ভবনে কুণাল ঘোষের সঙ্গে গাড়ি থেকে নেমেছিলেন বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁয়ের স্ত্রী সুজাতা মণ্ডল খাঁ। তার কিছুক্ষণ পরেই সৌগত রায়, কুণাল ঘোষরা সুজাতার হাতে তৃণমূলের ঝাণ্ডা ধরিয়ে দিয়েছেন।

এর পরে সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে বিষ্ণুপুরের সাংসদ কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন। ডুকরে উঠে উঠে বলেছিলেন, “ওরা আমার লক্ষ্মীকে চুরি করে নিয়ে গেল। সুজাতা তুমি এটা করতে পারলে?” বিবাহ বিচ্ছেদের কথাও বলেছিলেন সৌমিত্র। পাল্টা সুজাতা বলেছিলেন, “আমি সৌমিত্রর নামে সিঁদুর পড়েছি। তা কখনও মুছব না।”

কিন্তু গত আড়াই মাসে সৌমিত্রর চোয়াল যেন শক্ত হয়ে গিয়েছে অনেকটাই। তাই তৃতীয় দফার ভোটে যখন অভিযোগ উঠল, আরামবাগের আরাণ্ডিতে বিজেপির লোকজন সুজাতাকে বাঁশপেটা করেছে তখন সৌমিত্র কালক্ষেপ না করে জানিয়ে দিলেন, সুজাতার দাদাগিরি করতে যাওয়ার কোনও প্রয়োজন ছিল না।

বিষ্ণুপুরের সাংসদ সাফ জানিয়েছেন, তিনি খবর নিয়ে দেখেছেন সুজাতা গ্রামে গ্রামে ঢুকে সাধারণ মানুষকে হুমকি দিচ্ছিল। তাঁর কথায়, গত কয়েক বছরে আরামবাগের মানুষ ভোট দিতে পারেনি। পঞ্চায়েত ভোটে লুঠ হয়েছে। তাই তাঁদের মধ্যে যে ক্ষোভ জমে ছিল তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। সৌমিত্র যেমন প্রার্থীর উপর হামলা হওয়া ঠিক নয় বলে মনে করেন তেমনই মনে করেন, প্রার্থীরও সংযত থাকা উচিত।

সুজাতা এদিন অভিযোগ করেছেন, আরামবাগের আরান্ডি অঞ্চলে বিজেপির লোকজন এক তরফা ভোট করাচ্ছে খবর পেয়ে তিনি সেখানে গেলে তাঁর দিকে আসে দুষ্কৃতীরা। কোনও রকমে ধানক্ষেত পেরিয়ে একটি গ্রামে গিয়ে রাস্তায় বসে পড়েন আরামবাগের তৃণমূল প্রার্থী। তৃণমূল প্রার্থী বলেন, “ওরা আমাকে প্রচণ্ড মেরেছে। কাউকে ভোট যেতে দিচ্ছে না। আমি পাঁচবার গেছি, ঢুকতে পারিনি।”

তবে সৌমিত্রের বক্তব্যেই স্পষ্ট। প্রতিপক্ষ দলের প্রার্থী স্ত্রী সুজাতা নয়, তিনি বিজেপির পাশেই।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More