সতীশ বুঝি বাস্তবেও ‘চরিত্রহীন’? রাজনীতিতে পা দিতেই ভাইরাল ভিডিও, নিন্দার মুখে জবাব অভিনেতার

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিধানসভা নির্বাচনের আগে দলবদল বেশ জমিয়ে চলছে বাংলার রাজনীতিতে। নেতা থেকে অভিনেতা কেউ বাদ যাচ্ছেন না। অনেক শিল্পীরাও মানুষের জন্য কাজ করতে চেয়ে নিজেদের নাম লেখাচ্ছেন দলীয় রাজনীতিতে! এ ঘটনা তেমন বিরল কিছু না হলেও, কাউকে কাউকে নিয়ে যেন একটু বেশিই চর্চা হয়। যেমন অভিনেতা সৌরভ দাস। গতকালই রাজনীতির ময়দানে নেমে সামনে থেকে ব্যাটিং করার জন্য শাসক দলে নাম লেখান সৌরভ দাস। বাংলা সিনেমা বিশেষত ওয়েব সিরিজে চলে তাঁর একচ্ছত্র রাজত্ব! চরিত্রহীন, মন্টু পাইলটের মতো বহু সিরিজে তিনি নজর ও মন কেড়েছেন নেটিজেনদের।

তবে এই সৌরভকে নিয়ে চর্চার কারণও আছে। আসলে সৌরভ কখনও সামনে থেকে রাজনীতি না করলেও, তাঁকে অনেকেই বামমনস্ক বলেই জানতেন! তাঁর কথাবার্তা, আলোচনা, নানা বিষয়ে অংশগ্রহণ সেদিকেই ইঙ্গিত করত। কিন্তু হঠাত করে তাঁর কী এমন বদল ঘটল যে বাম-বিরোধী শাসকদলে নাম লেখালেন, সেটাই সকলের মধ্যে একটা কৌতূহল তৈরি করেছে।

আরও পড়ুন: তৃণমূলের ককপিটে মন্টু পাইলট, উড়ান নেওয়ার আগে বললেন, ‘জয় বাংলা’

আর এই কৌতূহল থেকেই শুরু হয়েছে মশকরা, ট্রোল, আক্রমণও। কয়েকদিন আগেই তিনি চে গুয়েভারার ছবির নীচে বসে একটি ছবি শেয়ার করেন! সে ছবি ব্যাপক জনপ্রিয় হয় যুবমহলে। কিন্তু গতকাল তাঁর রাজনীতিতে আসা নিয়ে মশকরা করতে গিয়ে নেটপাড়ার অনেকেই চে গুয়েভারার মুখের জায়গায় তাঁর দলনেত্রীর মুখ বসিয়ে দিয়েছেন। কেউ আবার মজার ছলে প্যারডি বেঁধেছেন, “ও মন্টু সোনা, ডিরেক্ট বিজেপিতে যা না!” আবার কেউ লিখেছেন, যে সৌরভ কোনও স্টেপ জাম্প করতে চাননি হয়তো, তাই তৃণমূলে এখন স্টপেজ দিচ্ছেন, মূল গন্তব্য হয়তো বিজেপি। যদিও এই সব মশকরার উত্তর হয়তো সময়ই দেবে।

এসব তো হয়েই থাকে। কিন্তু এমন কী হল যা নিয়ে ছি ছি রব উঠে গেল গোটা নেট-দুনিয়ায়! গতকাল, ২২ জানুয়ারি তৃণমূলের ককপিটে ওঠার পরেই, মন্টু পাইলটের একটি ভিডিও ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়াতে। সেখানে দেখা গেছে একটি মেয়ের সঙ্গে অশালীন আচরণ করছেন তিনি। ভিডিওটি একটি বড় ভিডিও থেকে কাটা ক্লিপ। কয়েক সেকেন্ডের। তাই দেখেই নিন্দার স্রোত বয়ে গেছে সোশ্যাল মিডিয়ার উঠোন জুড়ে।

নেটিজেনদের একাংশের মধ্যে অবশ্য এ প্রশ্নও উঠতে শুরু করেছে, রাজনীতিতে আসার পরেই কেন এই ভিডিও প্রকাশ্যে এল? ভিডিওটি সৌরভের জন্মদিনের মানে একদিন আগের। ২১ জানুয়ারির। সেদিন তা কেউ দেখেনি। ২২ তারিখ সন্ধে থেকে এই ভিডিও ছড়িয়ে পড়ল। যে দেখে আবার অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, সৌরভ বলেছিলেন “ঘরে ঢুকে কাজ করব”– এটাই কি সেই ঘরে ঢুকে কাজ করার নমুনা? এসবের মধ্যেই জানা গেছে, ভিডিওয় দেখা যাওয়া মেয়েটি সৌরভের নিজের বোন! আরও জমেছে তরজা। অনেকেই ভীষণ বিরক্ত এবং হতাশ! কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন যদি বাড়ির বোনের এই অবস্থা হয় তাহলে বাকিদের কী হবে? বোনের সঙ্গেও কি এমন আচরণ করা যায়?

যদিও এর পরেই সৌরভ তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া পেজ থেকে একটি ভিডিও শেয়ার করেন, লেখেন, “ট্রেলার দেখেছেন, এবার পুরোটা দেখুন।” অর্থাত ভাইরাল হওয়া সেই ক্লিপিংটির বাকি অংশটা সমেত পুরোটা শেয়ার করেন তিনি। সেখানে দেখা যায় তিনি সকলের সঙ্গে খুবই ভাল ব্যবহার করছেন। সকলকে সম্মান দিচ্ছেন। সকলেই উচ্ছ্বসিত তাকে ঘিরে। তিনি সেই আবেগেই জড়িয়ে ধরছেন বোনকে! সেখানে ওই অশ্লীল আচরণের অংশটি নেই। কিন্তু…..

এখানেও এসে যায় একটা ‘কিন্তু’। নেটিজেনদের মধ্যে অনেকেই তাঁর ভিডিও নিচে কমেন্ট করে লেখেন যে এটা কেমন আবেগ, যেখানে বোনের সঙ্গে এমন আচারণ করা যায়? আবার অনেকেই লিখেছেন, ‘পুরো শ্যুটিং যখন করলেন, এডিট করে বাকিটা বাদ দিলেন কেন?’

শিল্পী মহলের বহু মানুষও প্রতিবাদ করেছেন সৌরভের আচরণের। অভিনেত্রী সুদীপ্তা চক্রবর্তী যেমন তাঁর ফেসবুক ওয়ালে লেখেন, “আমি সৌরভের সঙ্গে কাজ করিনি। তবে দেখা হয়েছে মাঝেমধ্যে। ভাবতেই খারাপ লাগছে আমার জুনিয়র, কলিগ এরকম কোনও কাজ করেছেন। আর সেটাও নিজের বোনের সঙ্গে!” এর পাশাপাশি তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, এরকম আচরণ কি বোনের সঙ্গেও করা যায়?

ঠিকই, করা যায় না। এ কথা যে কোনও সুস্থ রুচি সম্পন্ন স্বাভাবিক বোধের মানুষই বলবেন। তবে প্রশ্ন উঠেছে, সৌরভের জন্মদিনের ভিডিওটি যখন তোলা হয় তখন পাশে তাঁর বাবাও ছিলেন, মেয়ের হেনস্থা দেখে বাবা কিছু বলেননি কেন? বোনই বা কোনও প্রতিবাদ করলেন না কেন? এছাড়াও সেখানে আরও অনেকেই ছিলেন, তাঁরা কি শুধুই ভিডিও করছিলেন? প্রতিবাদ কেন করেননি? এইরকম অনেক প্রশ্নই এসেছে সাধারণের তরফ থেকে!

তবে সবকিছুর পরেও অনেকেই মনে করছেন, সৌরভের নামের পাশে ‘চরিত্রহীন’ শব্দটা যেন মানিয়েই গেছে! এখন দেখার বিষয়, এতটা নিন্দা-সমালোচনার মধ্যে দিয়ে তাঁর রাজনীতি জীবনে প্রবেশ কতটা সুখের হয়। তাঁর দলই বা তাঁকে কী চোখে দেখে পরবর্তী সময়ে। সৌরভ নিজেই বা এ নিয়ে আর কিছু বলবেন বা করবেন কিনা, তা নিয়েও কৌতূহল রয়েছে জনমানসে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More