শব্দবাজির বদলে এবছর দীপাবলিতে ঘরে আনুন পরিবেশবান্ধব ‘সিড ক্র্যাকার’

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সামনেই কালী পুজো, আর কালীপুজোতে বাজি ফাটানো তো প্রায় ঐতিহ্য হয়ে গেছে ! কিন্তু এই বাজি পোড়ানোর ফলে নির্গত ধোঁয়া এবং বাজির প্রবল আওয়াজ যে পরিবেশ দূষণে মদত দেয় সে কথা আমরা ভুলেই যায়! বাতাসের ধূলিকণার সঙ্গে দূষিত পদার্থ মিশে বাতাসকে করে তোলে বিষাক্ত। ফলত শ্বাসকষ্টের মতো বহু সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় অনেকেই।

কী ভাবছেন, তাহলে বাজি পোড়াবেন না এই দীপাবলিতে? মনখারাপ করবেন না, হাতের কাছে রয়েছে দূষণমুক্ত ভাবে আনন্দ করার সহজ উপায়। বাজারে এসেছে ‘সিড ক্র্যাকার’, যা তৈরি হচ্ছে ফুল, ফল, শাকসবজির বীজ দিয়ে। ফলত এই বাজি যেমন আনন্দও দেবে তেমনই আপনার উপকারও করবে। রকেট বা আতসবাজি রাতের আকাশে ফাটার পর যখন মাটিতে পড়বে তখন তার ভেতরে থাকা বীজও মাটিতে পড়বে। এরফলে যে জায়গাতে বীজগুলো পড়বে সেখানেই ফুল, ফল বা সবজির গাছ হবে। একদিক থেকে তাই এই বাজি পরিবেশবান্ধবও।

করোনা আবহে বাজি পোড়ানো যে কতটা ক্ষতিকারক এবং পরিবেশের পক্ষেও হানিকারক, এই নিয়ে পরিবেশপ্রেমীরা চিন্তায় পড়েছেন। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্যে উদ্যোগীও হয়েছেন তাঁরা। তাঁদের চেষ্টাতেই আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত দিল্লির বহু অঞ্চলে শব্দবাজির উপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আনা হয়েছে।

‘ইন্ডিয়ান সিড পেপার’এর প্রতিষ্ঠাতা রওশন রায় বলেন যে বর্তমান পটকা বাজির বদলে ‘সিড ক্র্যাকার’এর দিকেই বেশি নজর দেওয়া হচ্ছে। শব্দবাজির ফলে প্রতি বছর যে পরিমাণ বায়ু দূষণ হয় তা মানুষ এবং অন্যান্য প্রাণীদের পক্ষেও যথেষ্ট ক্ষতিকারক। তাই এই দীপাবলিতে শব্দবাজির বদলে এই নতুন ধরণের সিড ক্র্যাকার ব্যবহার করার অনুরোধ জানিয়েছেন রওশন।

রওশন জানতে চেয়েছেন, যদি রকেট বোমার মশলার জায়গাতে গাঁদাফুলের বাজি হয় তাহলে কেমন হবে? বিজলি বোমের জায়গাতে যদি তুলসীপাতা বাজি থাকে অথবা হাইড্রোজেন বোমের জায়গাতে টমেটোর রস? ব্যাপারটা যে খুব একটা মন্দ হবে না সে বিষয়েও তিনি নিশ্চিত। রওশন জানান তাঁদের এই প্রচেষ্টা এখনও সদ্যজাত, তবে এর মধ্যেই এই চেষ্টা যথেষ্ট সাড়া ফেলেছে। ভবিষ্যতে আরও মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে, এবং শব্দবাজির বদলে সিড ক্র্যাকারকেই ব্যবহার করবেন, সেই আশা তিনি করছেন।

ফুলের বীজ বিক্রয় কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা দিব্যংশু আসোপা বলেন যে এই মুহূর্তে বীজ দিয়ে তৈরি বাজির দাম একটু বেশি হলেও, পরে আরও লোকজন উৎসাহিত হলে দামও নিশ্চয় কমবে। বিক্রিবাট্টা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, “আমরা দীপাবলির এক সপ্তাহ আগে ১৫০০ প্যাকেট বাজি বিক্রি করেছি,”।  পরবর্তী সময়ে এই ফুল, ফলের বীজ দিয়ে তৈরি বাজির চাহিদা আরও বাড়বে বলে আশা রাখছেন আসোপা।

 

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More