জামালপুরের কাকলিকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে, বর্ধমানে এসে দাবি জাতীয় তফসিলি কমিশনের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের টিমের পর বাংলায় ভোট পরবর্তী হিংসা পরিস্থিতি দেখতে রাজ্যে এল জাতীয় তফসিলি কমিশন। বৃহস্পতিবার জাতীয় তফসিলি জাতি কমিশনের চেয়ারম্যান বিজয় সাম্পালা এবং ভাইস চেয়ারম্যান অরুণ হালদার যান পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরের নবগ্রামে। এখানেই ভোটের ফল প্রকাশের পর দিন ৩ মে কাকলি ক্ষেত্রপাল নামের এক মহিলা খুন হন। এদিন ওই এলাকায় যান কমিশনের দুই সদস্য। সঙ্গে ছিলেন বর্ধমানের জেলাশাসক প্রিয়াঙ্কা সিংলা ও জেলার পুলিশ সুপার কামনাশিস সেন।

কাকলিদের গ্রামে দাঁড়িয়েই সংবাদমাধ্যমের সামনে কমিশনের সদস্যরা দাবি করেন, তাঁকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছিল। কিন্তু এলাকায় আতঙ্কের আবহ থাকায় তফসিলি কমিশনের সদস্যরা নিহতের পরিজন কিংবা প্রতিবেশীদের কথা বলতে পারেননি বলে অভিযোগ।

কাকলিদেবীর ছেলে আশিস ক্ষেত্রপাল বিজেপির সক্রিয় কর্মী। আবার সিপিএম দাবি করে, কাকলি দীর্ঘদিন ধরে মহিলা সমিতি করতেন। তিনি বাম সমর্থক ছিলেন।

ভোটের ফল প্রকাশ হতেই পূর্ব বর্ধমানের জায়গায় জায়গায় রাজনৈতিক হিংসা ছড়িয়ে পড়ে। কোথাও হামলার অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের বিরুদ্ধে আবার কোথাও হামলার অভিযোগ ওঠে বিজেপির বিরুদ্ধে। হিংসা কবলিত সেইসব এলাকাগুলির মধ্যে আজ দুটি এলাকায় যান জাতীয় তফসিলি জাতি কমিশনের চেয়ারম্যান ও প্রতিনিধিরা। এদিন জেলা প্রশাসনের কর্তাদের কমিশনের সদস্যরা নির্দেশ দিয়েছেন, সাতদিনের মধ্যে হিংসায় ঘরছাড়াদের ঘরে ফেরাতে হবে।

জামালপুর ছাড়াও মিলিকপাড়ায় যেসব জায়গায় ঘরবাড়ি ভাঙা হয়েছে সেখানে গিয়েও লোকজনের কথা বলেন কমিশনের সদস্যরা। প্রসঙ্গত, ভোট পরবর্তী রাজনৈতিক হিংসায় জামালপুরে খুন হন ৩ জন। এছাড়াও কেতুগ্রামে খুন হন একজন।

এদিন ওই দুই জায়গা ঘুরে দেখার পর বিজয় সাম্পালা বৈঠক করেন জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারের সঙ্গে। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি জানান, “বহু মানুষ ঘরছাড়া। বহু ঘরবাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। এ নিয়ে অনেক অভিযোগ এসেছে। পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দিয়েছি, এক সপ্তাহের মধ্যে ঘরছাড়াদের তাঁদের ঘরে ফেরাতে হবে। পাশাপাশি যারা ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রশাসন কী ব্যবস্থা নিল তা সাত দিন পর দেখা হবে।”

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More