সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর, সিবিআই তদন্ত চলবে

দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত ৫ এপ্রিল বম্বে হাইকোর্ট মহারাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিল দেশমুখের বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেয়। তারপরেই ইস্তফা দেন অনিল। হাইকোর্টের নির্দেশ নাকচ করার জন্য তিনি সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিলেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার শীর্ষ আদালত তাঁর আর্জি মঞ্জুর করল না।

মুম্বইয়ের প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার পরমবীর সিং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছিলেন। তার ভিত্তিতেই হাইকোর্ট সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেয়। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এস কে কাউল এবং বিচারপতি হেমন্ত গুপ্তের বেঞ্চ এদিন বলেন, “একটি অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন পুলিশ কমিশনার। এক্ষেত্রে কি সিবিআই তদন্ত হওয়া উচিত নয়?”

বিচারপতিরা বলেন, অভিযোগ ওঠার সঙ্গে সঙ্গে অনিল দেশমুখ পদত্যাগ করেননি। হাইকোর্ট তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার পরে তিনি পদত্যাগ করেছেন। অর্থাৎ তিনি ক্ষমতা আঁকড়ে থাকতে চেয়েছিলেন। এই প্রেক্ষিতে বিচারপতিরা মনে করেন, প্রাক্তন পুলিশ কমিশনারের অভিযোগ নিয়ে স্বাধীন তদন্ত হওয়া উচিত।

অনিল দেশমুখের হয়ে এদিন সওয়াল করেন কংগ্রেস নেতা কপিল সিব্বল। তিনি বলেন, যে কেউ অভিযোগ করতে পারে। তাঁর কথায়, “আমি বলছি না যে, প্রাথমিক তদন্তের দরকার নেই। কিন্তু বাইরের সংস্থাকে দিয়ে তদন্ত করাবেন না।”

অনিল দেশমুখের বক্তব্য ছিল, পরমবীর সিং তাঁর অভিযোগের পক্ষে কোনও প্রমাণ দেখাতে পারেননি। সঞ্জয় ভাজ নামে এক পুলিশকর্মী ভুজবল নামে এক ব্যক্তির কাছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কিছু কথা বলেছিলেন। ভুজবল সেই কথাগুলি পরমবীর সিংকে বলেন। নিছক শোনা কথার ওপরে ভিত্তি করে পুলিশকর্তা অভিযোগ করেছেন।

পরমবীর সিং অভিযোগ করেছিলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর ঘনিষ্ঠ পুলিশকর্মীদের সাহায্যে তোলাবাজ চক্র চালান। সেই চক্রের অন্যতম সদস্যের নাম সঞ্জয় ভাজ। তিনি শিল্পপতি মুকেশ আম্বানি বাড়ির সামনে বিস্ফোরকভর্তি গাড়ি রাখার মামলায় বন্দি হয়েছেন।

বুধবার সঞ্জয় ভাজ অভিযোগ করেন, অনিল দেশমুখ তাঁকে বলেছিলেন, পুলিশে চাকরি বজায় রাখতে গেলে ২ কোটি টাকা দিতে হবে। অপর মন্ত্রী অনিল পরব তাঁকে ঠিকাদারদের থেকে টাকা তুলতে বলেছিলেন। শিবসেনা নেতা অনিল পরব এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

এদিন মহারাষ্ট্রের শীর্ষ বিজেপি নেতা চন্দ্রকান্ত পাতিল সাংবাদিকদের বলেন, “আগামী ১৫ দিনের মধ্যে রাজ্যের আরও দু’জন মন্ত্রী ইস্তফা দেবেন। কয়েকজন মিলে আদালতে দুই মন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করবে। ফলে তাঁরা ইস্তফা দিতে বাধ্য হবেন।” তিনি প্রশ্ন করেন, “রাজ্য সরকার যদি সব ব্যাপারেই কেন্দ্রীয় সরকারকে দোষ দেয়, তাহলে রাজ্য সরকারটাকেই কেন্দ্রের হাতে তুলে দিচ্ছে না কেন?”

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More