পাগড়ি খুলে গুলিবিদ্ধ অফিসারের পায়ে বেঁধে দিলেন আহত শিখ কম্যান্ডার! বীরত্বের অনন্য ছবি বিজাপুর এনকাউন্টারে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘পাগড়ি সমহাল জাঠঠা পাগড়ি সমহাল…’ — ব্রিটিশদের আনা ‘দোয়াব বারি’ আইনের বিরুদ্ধে একসময় সাড়া ফেলেছিল সর্দার অজিত সিংয়ের লেখা এই গান। শিখদের কাছে ‘পাগড়ি’ পরিচ্ছদ মাত্র নয়। তা শৌর্য, বীরত্ব আর মূল্যবোধের প্রতীকও বটে। মৃত্যু হয় হোক, কিন্তু পাগড়ির সম্মান কিছুতেই মাটিতে মিশতে দেওয়া যাবে না।

নিষ্ঠাবান শিখ কম্যান্ডার বলরাজ সিংও নিশ্চয় তেমনটাই মনে করেন। পাগড়ি তাঁর কাছেও বীরত্বের চিহ্ন। কিন্তু সেটাকে শুধুই মাথায় চড়িয়ে নিছক ‘প্রতীকী’ তকমা দিতে চাননি তিনি। তাই যুদ্ধক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়তে থাকা সহযোদ্ধার ক্ষত বুজতে অক্লেশে খুলে ফেলেছেন পাগড়ির গিঁট। নিজে আহত হয়েও রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে বেঁধে দিয়েছেন পাগড়ির কাপড়। রক্তরঞ্জিত সেই পরিচ্ছদ নিছক এক অফিসারের প্রাণই বাঁচায়নি। দেশের গৌরবকেও অনেকটা বাড়িয়েছে৷ সহমত জানিয়েছেন নেটিজেনদের একটা বড় অংশ।

ঠিক কী ঘটেছিল সেদিন? গত শনিবার সুকমা ও বিজাপুর জেলার সীমান্তে মাওবাদী অভিযান চালায় সেনা বাহিনী। কম্যান্ডো ব্যাটেলিয়ন ফর রেজোলিউট অ্যাকশন, সংক্ষেপে কোবরা-র অন্যতম সদস্য বলরাজ। বিজাপুরের গাঢ় অরণ্যে প্রায় ৪০০ জন মাওবাদীর চোরাগোপ্তা হানায় ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েন জওয়ানরা। একেই জনবলের ঘাটতি। তার উপর অতর্কিত হামলা। দুইয়ের জেরে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েন তাঁরা। রায়পুরের হাসপাতালে শুয়ে এমনটাই জানান বলরাজ। তিনি নিজেও মাওবাদী সংঘর্ষে ভয়ঙ্করভাবে জখম হন।

ঠিক এর পরেই ঢিলছোঁড়া দূরত্বে সাব-ইন্সপেক্টর অভিষেক পাণ্ডের গুলিবিদ্ধ দেহ নজরে আসে তাঁর। হাসপাতালের বেডে শুয়ে কাতরাতে কাতরাতে বলরাজ বলেন, “আমাদের ফার্স্ট এইড টিম স্পেশাল টাস্ক ফোর্সকে নিয়ে ব্যস্ত ছিল। ঠিক তখনই অভিষেক পাণ্ডে গ্রেনেড হানায় জখম হন। চারিদিক রক্তে ভেসে যাচ্ছিল। বেশি কিছু না ভেবে আমি পাগড়ি খুলে ফেলি। তারপর সেটা তাঁর পায়ের ক্ষতস্থান বরাবর পেঁচিয়ে দিই। পাঁচ ঘণ্টা ধরে এনকাউন্টার চলে!”

বলরাজ আরও বলেন, “২০ জনেরও বেশি মাওবাদী হামলায় নিকেশ হয়েছে৷ তা ছাড়া অনেককে আমরা তাড়া করে হাতেনাতে ধরেও ফেলি। চারিদিক থেকে গুলি ছোঁড়া হচ্ছিল। তল্লাশি চালানোর সময় প্রায় ২০০ জনের কোবরা টিম হানা দেয়৷ তারপর আমরা আহতদের বের করে আনি।”

ক্ষয়ক্ষতির হিসেব করতে গিয়ে ভেঙে পড়েছেন সিআরপিএফের সেকেন্ড-ইন-কম্যান্ড সন্দীপ দ্বিবেদী। সন্দীপ বলেন, “সাতসকালে আমরা অপারেশন চালিয়েছিলাম। ঠিক ফেরার পথে আমাদের আক্রমণ করা হয়। আসলে মাওবাদীদের কাছে আগাম খবর ছিল। আমাদের ছেলেরা প্রাণপণ লড়াই করেছে। কিন্তু যে ক্ষতি হয়ে গিয়েছে, সেটা কোনওদিন পূরণ হওয়ার নয়।”

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More