তুষারাবৃত প্রান্তরে স্নো বুট দিয়ে অবিশ্বাস্য ছবি আঁকেন এই ইঞ্জিনিয়ার

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বরফের প্রতি মানুষের আকর্ষণ দূর্নিবার। উত্তর গোলার্ধের বেশিরভাগ দেশেই শীতকালে হয় তুষারপাত।  কোনও কোনও জায়গায় এতই বরফ পড়ে, বন্ধ হয়ে যায় স্কুল কলেজ, অফিস কাছারি, দোকান পাট। সেই সময় মানুষ মেতে ওঠেন ‘স্নো-আর্ট’ নিয়ে। সমুদ্র সৈকতে যেমন বালি দিয়ে বিভিন্ন অপূর্ব সব ভাস্কর্য গড়েন শিল্পীরা। তেমনই দুধসাদা বরফের সাথে মনের মাধুরী মিশিয়ে, শিল্পীরা গড়ে তোলেন দৃষ্টিনন্দন মূর্তি ও ভাস্কর্য। বেলচা, গাঁইতি, ছুরি ও নানান সরঞ্জাম দিয়ে। অন্যদিকে কেউ আবার বরফের বুকে ফুটিয়ে তোলেন অবিশ্বাস্য কিছু ছবি।

এঁদের মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত শিল্পী হলেন ব্রিটেনের সাইমন বেক। বাষট্টি বছরের সাইমন বেক এখনও পর্যন্ত  এঁকেছেন কয়েকশো  স্নো-পেন্টিং। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের  তুষারাবৃত প্রান্তরে এঁকেছেন স্নো-পেন্টিং।

তাঁর ছবিতে ফুটে ওঠে বিভিন্ন জ্যামিতিক আকার। যা তিনি যা খুঁজে নিয়েছেন প্রকৃতি থেকে। যেমন তুষার কণার আকার, ক্যাকটাসের ফল,গাঁজা গাছের পাতা। তাই তাঁর চিত্রকলায় প্রকৃতির প্রভাব অপরিসীম।

পেশায় প্রাক্তন ইঞ্জিনিয়ার ছবি আঁকার জন্য কোনও বিশেষ ধরণের  যন্ত্রপাতি ব্যবহার করেন না। তিনি ছবিগুলি আঁকেন কেবলমাত্র একজোড়া স্নো বুট, কম্পাস ও অঙ্কের সাহায্যে।

সাইমন বেক বরফে ছব আঁকছেন প্রায় ১৫ বছর ধরে। বরফের সমুদ্রে ছবি আঁকার আগে কয়েকঘন্টা ধরে সমতল স্থানটির দিকে তাকিয়ে থাকেন। তারপর তিনি ছবি আঁকা শুরু করেন। আঁকা শুরু করেন ছবির কেন্দ্র থেকে।

কম্পাসের সাহায্যে সোজা লাইন এঁকে নেন। তারপর স্নো-বুট পরে হাঁটেন  লাইনের ওপর দিয়ে। ভারী স্নো-বুটের চাপ দিয়ে বরফের ওপর তৈরি করেন গভীর সরলরেখা। তবে বক্ররেখা আঁকার ক্ষেত্রে কম্পাসের সাহায্য পান না। সেক্ষেত্রে তাঁর  ভরসা ইঞ্জিনিয়ারের চোখ ও অনুমান। তবে কাজটা ভীষণ কঠিন। এর জন্য নিরবিচ্ছিন্ন অভ্যাসের প্রয়োজন।

একটি ছবি আঁকতে প্রায় একদিন সময় লাগে সাইমন বেকের। যদি ক্লান্ত  না হন, হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় সারা রাত ধরে ছবি আঁকেন তিনি। নির্জন প্রান্তরে তাঁর সৃষ্টির সাক্ষী হয়ে থাকে রাতজাগা তারার দল।

তাঁর সবচেয়ে বড় ছবিটি এঁকেছিলেন ছিল ফ্রান্সের এক জমে যাওয়া জলাধারের ওপরে। ছবিটি আঁকতে সময় লেগেছিল বত্রিশ ঘন্টা। চার থেকে আট ঘন্টার এক একটি শিফটে ছবিটি এঁকেছিলেন। প্রায় ছ’টি ফুটবল মাঠের মতো বড় ছিল ছবিটি।

ছবি আঁকার ক্ষেত্রে সাইমনকে বিপদে ফেলে পাহাড়ের খামখায়ালি আবহাওয়া। অনেক সময় ছবি আঁকার জন্য দীর্ঘদিন  তাঁবুতে অপেক্ষা করতে হয়। কখনও ফিরে আসতে হয়। কখনও গিয়ে দেখেন তুষারপাত বা ধসের কারণে চাপা পড়ে গিয়েছে তাঁর সৃষ্টি। কখনও ছবি নষ্ট হয়ে যায় স্কি চালকদের অসাবধানতায়। 

একটি অসামান্য ছবি এঁকে পরদিন গিয়ে দেখেন ছবি নেই। ছবি শেষ হওয়ার পর নষ্ট হলে বেক হতাশ হন না। হতাশ হন অসমাপ্ত ছবি সমাপ্ত করতে না পারার জন্য। তবে বেকের আঁকা সব ছবি ক্যামেরা ও ভিডিয়োতে ধরে রাখা হয়।

বেকের পছন্দের জায়গা হল লা মার্লো। ফ্রান্সের ভাগে পড়া আল্পসের একটি বিখ্যাত স্কি রিসোর্ট। রিসোর্টের বাইরে থাকা একটি বরফ জমা হ্রদে তিনি এঁকেছেন তাঁর কয়েকটি বিখ্যাত চিত্র এঁকেছেন।ছবি।

প্রকৃতির অঙ্গনে আঁকা ছবি একদিন হারিয়ে যায় প্রকৃতির ইচ্ছায়। অন্য জায়গায়, মনের মাধুরী মিশিয়ে আলপনা দেন  সাইমন বেক। প্রকৃতিরই মন্দিরে।

Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More