কোষ্ঠকাঠিন্য দূরে রাখতে কিছু সহজ পন্থা মেনে চলুন, জানালেন বিশেষজ্ঞরা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় ভুগছেন? মুড়ি মুড়কির মত অ্যান্টাসিড খাচ্ছেন অথচ অ্যাসিডিটি কমছে না? তাহলে সমস্যাটা হয়ত আপনার কোষ্ঠেই, এমনটাই মনে করছেন অভিজ্ঞ চিকিৎসকরা।

কোষ্ঠকাঠিন্য না থাকলেও হজমের অধিকাংশ সমস্যার উৎস কিন্তু বৃহদান্ত্র। নিয়মিত কোষ্ঠ পরিষ্কার না হলে অ্যাসিডিটির সমস্যা থাকবেই। এছাড়াও ফ্যাটি লিভার থেকে শুরু করে ক্যান্সার অবধি দেখা দিতে পারে, এমনটাই জানালেন বিশেষজ্ঞরা।

গ্যাস্ট্রিক হলে কীভাবে যত্ন নেবেন স্বাস্থ্যের? গ্যাস্ট্রো-এন্টেরলজিস্টদের এই পরামর্শগুলো মেনে চলুন।

ঠিক সময়ে ডায়েট : সারাদিনে বারেবারে খান এবং পরিমিত আহার করুন। মলত্যাগে অস্বস্তি আছে যাঁদের তাঁরা দিনে ৫-৬ বার ছোট ছোট ভাগে খাবার খেতে পারেন।

হাইপারটেনশন এর মত সমস্যা থাকলে দিনে তিনবার খাওয়াই যথেষ্ট, এমনটাই বলছে ভারতীয় পুষ্টি বিশারদ সংস্থা আইসিডিআর। মোটের ওপর একটা নির্দিষ্ট সময় বিরতিতে সকলকেই খাবার খেয়ে যেতে হবে। আর তাতেই নিয়ন্ত্রণে থাকবে রিফ্লাক্স অ্যাসিডিটি।

রান্নার পদ্ধতি বদলান: সেদ্ধ, কষা বা অল্প তেলে নাড়াচাড়া, খাবারের পুষ্টিগুণ বদলায় রান্নার ফেরেই। শরীর ঠিক রাখতে ভাজাভুজি একেবারে দূরে রাখাই ভাল। তাছাড়া, বিশেষজ্ঞরা বলছেন খোসা সমেত সবজি রান্নায় দিন। খোসায় থাকে অনেকখানি ফাইবার যা কোষ্ঠবদ্ধতা দূর করে শরীর থেকে যাবতীয় ক্ষতিকর পদার্থ বাইরে বের করে দেয়।

খাবার তালিকায় কী থাকবে: ‘ব্যালান্সড ডায়েট’ কথাটির সঙ্গে সকলেই পরিচিত। কিন্তু প্রোটিন, ফ্যাট আর কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ একটা খাবার খেলেই চলবে না। কোন উপাদান কতটা পরিমাণে খাচ্ছেন সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। আইসিডিআর জানায়, ময়দা, চিনি প্রভৃতি পরিশুদ্ধ শর্করা যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন। পরিবর্তে ভুসি যুক্ত আটা, বাদামি চাল, সবুজ শাক সবজি বেশি রাখুন ডায়েটে। এতে আপনার কোষ্ঠের সমস্যা দূর হবে। অ্যাসিডিটি নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

পরিশ্রম করুন: শরীর সঞ্চালনের মাধ্যমেই দ্রুত খাবার হজম হয়। পুষ্টিরস ছড়িয়ে পড়ে সারা শরীরে। অতএব, প্রতিদিন শারীরিক কসরৎ বজায় রাখুন। সকালে অন্তত তিরিশ মিনিট হেঁটে আসুন কাছেপিঠে। সময় থাকলে অতিরিক্ত ক্যালরি ঝরিয়ে আসুন জিমে। কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থাকলে পায়খানায় যাওয়ার আগে নিয়মিত শরীরচর্চা করুন। ঠিকমত পেট পরিষ্কার হওয়ার এটাই মূল টোটকা।

পর্যাপ্ত জল খান: জল ছাড়া যেমন রান্না হয় না, তেমনি শরীরের ভেতরকার অর্ধপাচ্য খাবার পরিপাক করতেও পর্যাপ্ত জল খেতে হবে। প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ প্রতিদিন ৩-৪ লিটার জল খাবেন, এমনটাই পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদরা। এতেই কোষ্ঠবদ্ধতার নিরাময় হবে সহজে।

নিয়মিত গভীর ঘুম: দিনের শেষে ভাল ঘুম জরুরি। ঘুমোতে বেশি রাত করবেন না, এমনটাই বললেন ডাক্তার। প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুম ফ্যাটি লিভার, ডায়াবেটিস থেকে শুরু করে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে। সেইসঙ্গে খাবার হজমও হয় যথাযথ।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More