বিপদসীমা পেরিয়েছে শুধু মুম্বই, আইপিএল প্লে অফে তিনটি স্থানের জন্য লড়াই ছয় দলের

দ্য ওয়াল ব্যুরো :  আইপিএলের প্লে অফের লড়াই দারুণভাবে জমে উঠেছে। এবার আসরে এতটাই প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে যে আগে থেকে বোঝা যাচ্ছে না কোন চারটি দল শেষ চারে যাবে। প্রতিটি দল ইতিমধ্যেই ১২টি করে ম্যাচ খেলে ফেলেছে। এমনকি আনুষ্ঠানিকভাবে প্লে অফের সূচীও ঘোষিত হয়ে গিয়েছে।

মোট ৮টি দলের মধ্যে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স নিরাপদ স্থানে রয়েছে, তারা শীর্ষেই। আর টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গিয়েছে ধোনির চেন্নাই। বাকি ছয়টি দলের মধ্যে প্লে অফের বাকি তিনটি স্থানের লড়াই চলছে।

১৬ পয়েন্ট নিয়ে এককভাবে শীর্ষে মুম্বাই ইন্ডিয়ানস, তাদের প্লে-অফ প্রায় নিশ্চিতই বলা চলে। এছাড়া সমান ১৪ পয়েন্ট করে রয়েছে দুই দলের, ১২ পয়েন্ট করে রয়েছে দুই দলের ও ১০ পয়েন্ট করে রয়েছে দুই দলের।

কলকাতা নাইট রাইডার্স : ১২ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট পাওয়া কলকাতার দুটি ম্যাচ চেন্নাই (আজ বৃহস্পতিবার খেলা) ও রাজস্থানের বিপক্ষে। দুটি ম্যাচই জিতলে তাদের পয়েন্ট হয়ে যাবে ১৬। সেক্ষেত্রে তারা প্লে অফে নিশ্চিত হয়ে যাবে। সমস্যা হল, পাঁচটি দলের পয়েন্ট হতে পারে সমান ১৬। সেক্ষেত্রে বিবেচনায় আসবে নেট রানরেটের। যেখানে সবচেয়ে কম -০.৪৭৯ রয়েছে কলকাতার। তাই বাকি থাকা দুই ম্যাচে নেট রান রেটেই মনোযোগ দিতে হবে কিং খানের দলকে।

মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স : শীর্ষে থাকা মুম্বইয়ের শেষ দুই ম্যাচ দিল্লি ও হায়দরাবাদের বিপক্ষে। তাদের নেট রানরেট (১.১৮৬) দুর্দান্ত হওয়ায় দুই ম্যাচ হেরে গেলেও প্লে-অফ খেলা নিয়ে খুব একটা ভাবতে হবে না তাদের। বলা চলে, সেরা চারের টিকিট নিশ্চিতই হয়ে গেছে পোলার্ডদের। আর পরের দুই ম্যাচ জিতে গেলে শীর্ষে থেকেই প্লে-অফ পর্বের ম্যাচ খেলবে আইপিএলের চারবারের খেতাবজয়ীরা।

রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর : বিরাট কোহলিরা শেষ দুই ম্যাচ খেলবে হায়দরাবাদ ও দিল্লির বিপক্ষে, তাদের নেট রানরেট ০.০৪৮। শেষ দুই ম্যাচের একটি জিতলেই প্লে-অফ প্রায় নিশ্চিত হয়ে যাবে তাদের। এমনকি দুই ম্যাচ হেরে গেলেও, অন্যান্য দলগুলোর ম্যাচের ফলাফল পক্ষে এলে প্লে-অফ খেলতে পারবে তারা।

দিল্লি ক্যাপিট্যালস : টেবিলের তিন নম্বরে থাকা দিল্লির শেষ দুই ম্যাচে অপেক্ষা করছে কঠিন চ্যালেঞ্জ। যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ শীর্ষস্থানীয় দুই দল মুম্বই ও আরসিবি। দুই ম্যাচের দুইটি জিতলে কোনো সমীকরণ ছাড়াই প্লে-অফে চলে যাবে দিল্লি। একটি জিতলে প্রায় নিশ্চিতই থাকবে প্লে-অফ। আর দুইটি ম্যাচই বড় ব্যবধানে হারলে বাদ পড়ে যাওয়ার যাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে তাদের।

কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব : টানা পাঁচ ম্যাচ যেমন হেরেছে, তেমনি আবার টানা পাঁচ জয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে পাঞ্জাব। এখন ১২ ম্যাচে তাদের সংগ্রহ ১২ পয়েন্ট। শেষ দুই ম্যাচ খেলতে হবে রাজস্থান ও চেন্নাইয়ের বিপক্ষে। এই দুই ম্যাচ ভালভাবে জিতলে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে সরাসরি প্লে-অফ খেলার সুযোগ থাকছে তাদের সামনে। কিন্তু একটি ম্যাচও হেরে গেলে কঠিন সমীকরণের সামনে পড়ে যাবে লোকেশ রাহুলের দল।

সানরাইজার্স হায়দরাবাদ : হায়দরাবাদের সামনে অপেক্ষা করছে কঠিন চ্যালেঞ্জ। প্রথম ১২ ম্যাচে মাত্র ১০ পয়েন্ট পাওয়ায় শেষ দুই ম্যাচ (প্রতিপক্ষ ব্যাঙ্গালুরু ও মুম্বাইন) জিততেই হবে তাদের। একইসঙ্গে আশা করতে হবে, পাঁচ দলের অন্তত দুটি যেন ১৬ পয়েন্ট না পায়। কেননা প্রথম পাঁচ দলের চারটিও যদি ১৬ পয়েন্ট পায়, তাহলে ১৪ পয়েন্ট পাওয়া হায়দরাবাদকে বিদায় নিতে হবে টুর্নামেন্ট থেকে।

রাজস্থান রয়্যালস : প্লে-অফের দৌড়ে থাকা দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে পিছিয়ে রাজস্থান। কেননা একে তো তাদের পয়েন্ট মাত্র ১০, অন্যদিকে নেট রানরেটও দুর্বল (-০.৫০৫)। তবে তাদের শেষ দুই ম্যাচ পাঞ্জাব ও কলকাতার বিপক্ষে। রাজস্থান পরের দুই ম্যাচ জেতা মানে পাঞ্জাব ও কলকাতা তাদের একটি করে ম্যাচ হেরে যাওয়া। আর এমনটি হলে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে একটা সুপ্ত সম্ভাবনা থাকবে, হারলে স্বপ্ন শেষ হয়ে যাবে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More