রবিবার, ফেব্রুয়ারি ১৭

আমাদের পছন্দের, ভরসার কত খাবারও বিপদ ডাকে ক্যানসারের!

দ্য ওয়াল ব্যুরোঃ ক্যানসার প্রতিরোধের জন্য যে সব খাবার আপনাকে ডাক্তাররা বারণ করেন, সেগুলোর পরেও একটা দীর্ঘ তালিকা আছে যা থেকেও আসতে পারে বিপদ, ক্যানসারের বিপদ।  জেনে নিন সেগুলো কী কী খাবারদাবার।  চেষ্টা করুন সেগুলো থেকে যথাসম্ভব দূরে থাকতে।
বাজারে হাজার একটা সোডা কিনতে পাওয়া যায়, তেষ্টা মেটাতে আপনি-আমি ঝটপট কিনে ফেলি সেগুলো।  কিন্তু এতে থাকা চিনি তো ক্ষতি করেই, তার উপর এতে যে রঙ মেশানো হয় তাতে বাইপ্রোডাক্ট হিসেবে থাকে কার্সিনোজেনিক কেমিক্যাল 4MEI।  যা থেকে হতেই পারে ক্যানসার।  তাহলে কী করবেন আপনি ? এমন কোনও পানীয় কিনুন যাতে ক্যারামেল কালার নেই।  ফলে তা থেকে 4MEI আপনার শরীরেও যাবে না।


রেডমিট খেতে ভালোবাসেন? ওটাও কম খান।  হোটেল রেঁস্তোরায় যে পোড়ানো বা বেক করা মাংস অর্ডার দেন, তা থেকেও ক্যানসারের জীবাণু বাসা বাধতে পারে আপনার দেহে।  কারণ পোড়ানোর ফলে ওতে হাইড্রোকার্বন তৈরি হয়, যা ক্যানসারের ক্যাটালিস্ট হিসেবে কাজ করে।  তাই ধোঁয়া ওঠা সিজ়লার জাতীয় খাবারের বদলে মেনুকার্ড থেকে অর্ডার দিন অন্য স্বাদের কোনও প্রিপারেশন।

খুব হতাশাজনক আরোও একটা নাম আছে এই তালিকায়।  পপকর্ন! হ্যাঁ ঠিকই পড়লেন, ব্র্যান্ডেড পপকর্ন মাইক্রোওয়েভে তৈরী হওয়ায় বাড়ছে বিপদ।  তাতে মাখন থেকে ডায়াসিট্যলের মতো বিষাক্ত উপাদান তৈরি হয় প্রথমে।  পরে সেগুলোই পপকর্নের ব্যাগের কার্সিনোজেনিক উপাদানের সঙ্গে বিক্রিয়া করে পেরফুওরুওক্টানোক অ্যাসিড তৈরী করে।  যা ক্যানসারের জন্ম দিতে পারে।  না ছেড়ে দিতে হবে না পপকর্ন খাওয়া, বরং চেষ্টা করুন শুকনো কড়াইয়ে নাড়া পপকর্ন খেতে।

ক্যানড বা প্রসেসড ফুড যে কতটা ক্ষতিকর তা হয়তো অল্পবিস্তর সকলেই জানেন।  তবে কেন ক্ষতিকর জানেন কি? প্রসেসড ফুড বিক্রি হয় যে কন্টেনারগুলোয়, তাতে BPA বা বিসফেনলের মতো রাসায়নিক থাকে।  ফলে তার সঙ্গে টোম্যাটোর মতো অ্যাসিড তৈরী করা কোনও ফল বা সব্জি থাকলে, রাসায়নিক বিক্রিয়ায় তার খাদ্যগুণ নষ্ট হয়ে যায়।  তাই এ জাতীয় খাবার খান টাটকা কিনে।  ক্যানসার থেকে দূরে থাকুন।

এমনকি যেসব ভেজিটেবল অয়েল আজকাল খুব কিনি আমরা, তাতেও লুকিয়ে বিপদ! সেগুলোতো সরাসরি ভেজিটেবল থেকে বাজারে আসে না।  তাতে রাসায়নিক মেশানো হয়।  দেখতে যাতে ভালোলাগে, আপনি দেখলেই যাতে কিনে ফেলেন সেই ব্যবস্থাই করেন ব্যবসায়ীরা।  ফলে ওমেগা ৬ এর মতো ক্ষতিকর ফ্যাট থাকে এতে।  তাহলে ভেজিটেবল অয়েলের বদলে কিনুন অলিভ বা  সোয়া তেল।  এতে ক্যানসারের সমস্যা কম হবে।

খেয়ে উঠে মুখে দেন মৌরি বা কোনও মুখশুদ্ধি? ভেবেচিন্তে মুখে দিন সেগুলো।  আর্টিফিশিয়ালি তৈরী করা এই মুখশুদ্ধি যা হোটেল রেঁস্তোরায় পান, তাতে DKP র মতো টক্সিন থাকে।  যা থেকে ব্রেন টিউমারের সূচনা হতে পারে! তাই চেষ্টা করুন পানের মতো প্রাকৃতিক মুখশুদ্ধি ব্যবহার করতে।  কিন্তু অবশ্যই সুপুরি এবং জর্দা বাদ দিয়ে খান।

Close-up of packets of sugar

ময়দার জিনিস খেতে খুব পছন্দতো করেন।  কিন্তু এই ময়দা থেকে বিপদ হতে পারে অনেক।  ক্লোরিন গ্যাস থাকে এতে, ব্যবসায়ীরা আমাদের আকর্ষণ করতেই ক্লোরিন মেশান এতে।  ফলে সহজেই দেখতে বেশ সাদা ধবধবে হয় ময়দা।  ময়দা থেকে ‘সিম্পল সুগার’ তৈরী হয়, যা ক্যানসার হতে সাহায্য করে।  তাহলে কী করবেন আপনি ? না , ময়দা খাওয়া ছাড়তে বলছি না, তবে তাতে আটা মিশিয়ে খান।  সহজ হবে বিষয়টা।  ক্যানসারকে অনেকটাই দূরে রাখতে পারবেন।  আবার ফল খান যারা, ভাবেন এতে কোনও সমস্যা নেই, আসলে কিন্তু সমস্যা লুকিয়ে আছে সেখানেও।  কীটনাশক যা থাকে ফলে, তাতে ক্যানসারের সম্ভাবনা বেড়ে যায়।  কীটনাশক এড়াতে খান অর্গানিক ফল।

মুখ চালাতে চিপ্স বা হটডগ, বেকন, সসেজে ডুব দেন? আপনি নিজের কতটা ক্ষতি করছেন জানেন? চিপ্সের প্রিসারভেটিভ এবং যেভাবে ভাজা হয় তাতে তৈরী হওয়া ট্রান্সফ্যাট মারাত্মক ক্ষতিকর।  অন্যদিকে বেকন সসেজে যে পরিমাণ নুন, নাইট্রেট , এবং নাইট্রাইট ব্যবহার করা হয়, তা ক্যানসার হতে সাহায্য করে।  এগুলো ব্যবহার করাই হয় যাতে সহজে এগুলোর প্রতি আপনি লোভে পড়ে যান।  কিন্তু সেখানেই বিপদ ওঁত পেতে থাকে।  তাই এর বদলে এমন কিছু খান যাতে প্রিসারভেটিভ কম ব্যবহার করা হচ্ছে, বা প্রসেসড ফুড নয়।

Hot dogs and french fries

জাতীয় ক্যানসার ইনস্টিটিউশনের সমীক্ষা বলছে, মদ খাওয়া ক্যানসারের কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম।  কোলন, লিভার, খাদ্যনালি, ব্রেস্ট, মাথার বা ঘাড়ের ক্যানসারের কারণ খুঁজলে মদ খাওয়া অন্যতম একটি কারণ হিসেবে উঠে আসে।  যাঁদের মদ্যপানের প্রতি দুর্বলতা আছে, তাঁরাও বিপদ অনেকটাই এড়াতে পারেন পরিমিত পানে।  সপ্তাহে যত কম দিন পারেন, যত কম পরিমাণে পারেন, ততই মঙ্গল।

ক্যানসারের যেসব কারণগুলো আছে, তাতে চিনি, ফ্রুক্টোজ যথেষ্ট উদ্বেগের কারণ।  তাই কর্নসিরাপের মতো জিনিস থেকে দূরে রাখুন নিজেকে।  ক্যানসার প্রতিরোধ করতে তাই প্যাকেজড ফুডের উপকরণগুলো দেখে কিনুন।  কোথাও কোথাও আপনি হয়তো দেখবেন ২০ আউন্স সোডায় ১৫ চামচের মতো চিনি থাকছে! স্বাভাবিকভাবেই সেটা এড়িয়ে যান, তার বদলে ফল খান।  তাতে যে মিষ্টি আপনি পাবেন তা অন্তত ক্যানসারের কারণ হবে না।

আপনি স্বাস্থ্য সচেতন হয়ে যেভাবে মাখন ছেড়ে মার্জারিনে ডুবে স্বস্তি পেয়েছিলেন, তার দিনও শেষ।  মার্জারিন তৈরিতে হাইড্রোজেনেটেড ভেজটেবল অয়েল ব্যবহার করা হয়।  তাতেই ট্রান্স ফ্যাট থাকে যথেষ্ট।  সমীক্ষা বলছে ট্রান্স ফ্যাট নাকি স্যাচুরেটেড ফ্যাটের চেয়েও বেশি ক্ষতিকর! তাই মাখন খান, কিন্তু মার্জারিন বাদ দিন।

শুধু মার্জারিন নয়, নিজেকে ‘স্বাস্থ্যসচেতন’ মনে করে আপনি এ যাবৎ কাল যেসব ডায়েট ফুড খেয়ে এসেছেন, সেগুলোও এবার বাদ দিন।  কারণ সেগুলোয় ফ্যাট কমাতে গিয়ে নানা রাসায়নিক দেওয়া হয়।  যা আপনার ক্যানসার হওয়া আটকায় না বরং বাড়িয়ে দেয় কিছুটা।  তাই এসব খাবার খেতে ভালো লাগলে, স্বাদে আনন্দ দিলেও আপনাকে বাদ দিতেই হবে।  কারণ এগুলো যেভাবে ভাজা হয় তাতে তৈরি হয় অ্যাকিরিলামাইড, যা অত্যন্ত ক্ষতিকর।  বদলে বরং বাড়িতে বানানো ফ্রেশ খাবার খান।  ক্যানসার থেকে দূরে থাকুন।

ব্যস্ততার দৌড়ে আপনি বাকি সবকিছু একদিকে রাখুন।  আর নিজের খাবারের দিকে নজর দিন।  বাজে এবং ভালো খাবার আপনার জন্য কী, সেটা জানার পরেও যদি সময়জ্ঞান না রেখে নিয়মমতো না খান, তাহলেও আপনার সমস্যা বাড়বে।  বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা WHO এর মতে, ২০২২ থেকে ৩০-এর মধ্যে সব ঘরে একজন করে ক্যানসার পেশেন্ট থাকবেন।  বর্তমানে প্রতি বছর এ দেশে ১২ থেকে সাড়ে ১২ লাখ মানুষ ক্যানসারে আক্রান্ত হচ্ছেন।  তাহলে ভেবে দেখুন বিপদ এড়াতে কতটা সতর্ক থাকতে হবে আপনাকে।
 

Shares

Comments are closed.