‘আপনারাই ব্যঙ্গ করেছিলেন, কুমিরের কান্না কাঁদবেন না!’ সুশান্তের মৃত্যু নিয়ে তীব্র ক্ষোভের মুখে আলিয়া ও করণ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২৪ ঘণ্টা পার হয়েছে। তবু যেন দুঃস্বপ্ন কাটছেই না। সুশান্ত সিং রাজপুতের আচমকা আত্মহত্যার ঘটনাটা একদম ভিতর থেকে নাড়িয়ে দিয়েছে অনেককে। সুশান্ত যে কেন এমন করলেন সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন সকলে।

আমজনতা থেকে তারকাদের দুনিয়া, সুশান্তের এমন মর্মান্তিক পরিণতিতে হতবাক গোটা দেশ। টুইটার জুড়ে চলছে শোকপ্রকাশ। বাকিদের মতোই সুশান্তের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছিলেন করণ জোহর এবং আলিয়া ভাট। আর তাঁদের বিরুদ্ধে এ বার ফুঁসে উঠেছেন টুইটারিয়ানরা। #boycottbollywood-এর পাশাপাশি #nepotisminbollywood-এর ঝড় উঠেছে টুইটারে। করণ জোহর এবং আলিয়ার বিরুদ্ধে তোপ দেগে নেটিজেনরা সটান বলছেন, “দয়া করে কুমিরের কান্না কাঁদবেন না।”

দীর্ঘ ৬ মাস ধরে অবসাদে ভুগছিলেন সুশান্ত। চলছিল কাউন্সেলিং। তবে দুঃসময়ে বড্ড একা হয়ে গিয়েছিলেন অভিনেতা। তাঁর সাক্ষাৎকারেই উঠে এসেছে সেই কথা। দুঃখ করে সুশান্ত বলেছিলেন, “কেউ আমায় পার্টিতে ডাকে না। বলিউড আমায় কেন আপন করে নেয় না কে জানে। নিজেকে সবসময় বাইরের মনে হয়।” এসব থেকে এটা অন্তত স্পষ্ট যে সোশ্যাল মিডিয়ার লক্ষকোটি ফ্যান-ফলোয়ার, অগুনতি ভক্ত, নাম-যশ-খ্যাতির আড়ালে আসল মানুষটা ছিলেন বড্ড একা। কথায় আছে ইন্ডাস্ট্রিতে কেউ কারও বন্ধু হন না। সুশান্তের জীবনে এটা বোধহয় আরও বেশি করে প্রকট হয়ে উঠেছিল।

কিন্তু করণ বা আলিয়ার বিরুদ্ধে ক্ষোভের কারণ কী?

করণ জোহরের জনপ্রিয় টক শো ‘কফি উইথ করণ’-এর একটি এপিসোডে হাজির ছিলেন আলিয়া ভাট, বরুণ ধাওয়ান এবং সিদ্ধার্থ মালহোত্রা। সম্ভবত ‘স্টুডেন্ট অফ দ্য ইয়ার’ রিলিজের আগে বা পরে। সেখানে আলিয়াকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল রণবীর সিং, রণবীর কাপুর আর সুশান্ত সিং রাজপুতের মধ্যে কাকে কত রেটিং দেবেন নায়িকা। সুশান্তের নাম শুনে আলিয়া বলেছিলেন, “সুশান্ত সিং রাজপুত! এ আবার কে?” এখানেই শেষ নয়। আরও আছে। এই তিন নায়কের নাম দিয়েই সঞ্চালক করণ, আলিয়াকে জিজ্ঞেস করেন তিনি কার সঙ্গে ডেটে যেতে চান এবং কাকে বিয়ে করতে চান আর কাকে মেরে ফেলতে চান। আলিয়ার মেরে ফেলার তালিকায় নাম ছিল সুশান্তের। ছোট একটা সরি বলার পর একচোট হেসেছিলেন আলিয়া এবং করণ।

অভিনেতার মৃত্যুর পর এই দুই তারকার শোকবার্তার সঙ্গে ভাইরাল হয়েছে পুরোনো ভিডিও ক্লিপ। সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে আজকাল অতীত ঝট করে সামনে চলে আসে। এক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। স্বভাবতই একে কুমিরের কান্না ছাড়া আর কীই বা বলবেন নেটিজেনরা।

তবে কেবল সাধারণ টুইটারিয়ান বা নেটিজেন নন, বিটাউনের ‘এলিট ক্লাব’-এর বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন ইন্ডাস্ট্রিরই বেশ কিছু তাবড় পরিচালক এবং অভিনেতা। নাম না করেই সঠিক জায়গায় নিশানা লাগিয়ে তাঁরা বুঝিয়ে দিয়েছেন, পাটনা থেকে মুম্বই আসা, পড়াশোনায় তুখোড়, প্রমিসিং সুশান্তকে একেবারেই আপন করে নেয়নি বলিউড। হয়তো সেজন্যই এ ভাবে নিজেকে শেষ করে দিলেন সদাহাস্যময় এই ছেলেটা। রাগ-অভিমান-জেদে কাউকে বুঝতেও দিলেন না হাসির আড়ালে লুকিয়ে থাকা নিজের যন্ত্রণাটা।

পরিচালক শেখর কাপুর লিখেছেন, “আমি জানি তুমি কী যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলে। ওই লোকগুলোর গল্পটাও জানি যার জন্য আমার কাঁধে মাথা রেখে তুমি কেঁদেছিলে। গত ৬ মাসে যদি তোমার কাছে থাকতে পারতাম বা তুমি আমার কাছে আসতে…যা হয়েছে সেটা ওদের জন্য হয়েছে, কখনই তোমার জন্য নয়।”

সুশান্তের মৃত্যুর দিন রাতেই টুইট করেছিলেন আর এক পরিচালক অনুভব সিনহা। লিখেছিলেন, “বলিউডের প্রিভিলেজ ক্লাবের আজ রাতে বসে ভাল করে ভাবা উচিত। পুনশ্চ: আমায় সবিস্তারে বলতে বাধ্য করবেন না।”

অভিনেতা গুলশন দেবিয়া, রণবীর শোরে, নিখিল দ্বিবেদীর মতো আরও অনেকেই গর্জে উঠেছেন বিটাউনের ‘এলিট ক্লাস’ এবং তাঁদের নেপোটিজমের বিরুদ্ধে। কড়া ভাষায় তোপ দেগেছেন কঙ্গনা রানাওয়াত। অভিনেত্রীর কথায়, “এটা আত্মহত্যা নাকি সুপরিকল্পিত খুন!”

জোরদার তর্ক-বিতর্ক চলছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। সুশান্তের মৃত্যুর কারণ নিয়ে চলছে কাটাছেঁড়া। অভিনেতার এমন ভাবে চলে যাওয়ার কারণ খুঁজছেন দিশাহারা পরিবার এবং ভক্তরা। আর সব কিছুর পর না চাইলেও সবাইকে বিশ্বাস করতে হচ্ছে যে সুশান্ত আর নেই।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More