ভ্যাকসিনের সংকট নেই, কয়েকটি রাজ্য সরকার মিথ্যা আতঙ্ক ছড়াচ্ছে, মন্তব্য হর্ষবর্ধনের

দ্য ওয়াল ব্যুরো : বুধবারই মহারাষ্ট্র সরকার জানায়, সেই রাজ্যে এখন যে পরিমাণ ভ্যাকসিনের ডোজ আছে, তাতে আর তিনদিন কাজ চলতে পারে। দ্রুত আরও ভ্যাকসিন পাঠানোর জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকে অনুরোধ করা হয়েছে। এরপর বুধবার ভ্যাকসিনের সংকটের কথা উড়িয়ে দিলেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষবর্ধন। তিনি বলেন, “কয়েকটি রাজ্য সরকার নিজেদের ব্যর্থতা থেকে মানুষের দৃষ্টি ঘোরানোর জন্য আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। এই ধরনের প্রচেষ্টা নিন্দনীয়।” অর্থাৎ তাঁর বক্তব্য, যথেষ্ট পরিমাণে ভ্যাকসিন থাকা সত্ত্বেও মহারাষ্ট্র সরকার মানুষকে যথাযথভাবে প্রতিষেধক দিতে পারেনি। তাই তারা মিথ্যা করে বলছে, ভ্যাকসিনের যথেষ্ট সংখ্যক ডোজ নেই।

এদিন সকালে মহারাষ্ট্রের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাজেশ তোপী বলেন, “রাজ্যে যে পরিমাণ ভ্যাকসিন মজুত করা আছে, তাতে তিনদিন চলতে পারে। খোদ মুম্বইতেও আগামী তিনদিনের বেশি ভ্যাকসিন দেওয়া যাবে না। আমরা কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছি যাতে দ্রুত আরও ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। এই রাজ্যে করোনা সংক্রমণের হার দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি।” পরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী নির্দিষ্ট হিসাব দিয়ে জানান, বুধবার রাজ্যে রয়েছে ভ্যাকসিনের ১৪ লক্ষ ডোজ। তাতে আর তিনদিন চলবে। প্রতিদিন যদি পাঁচ লক্ষ লোককে ভ্যাকসিন দিতে হয়, প্রতি সপ্তাহে আমাদের ৪০ লক্ষ ডোজ ভ্যাকসিন লাগবে।

মুম্বইয়ের মেয়র কিশোরী পেডনেকর বলেন, “আমাদের শহরে ভ্যাকসিনের স্টক শেষ হয়ে এসেছে। আমরা সরকারি হাসপাতালগুলিতেই বেশিরভাগ ডোজ পাঠাচ্ছি। আমাদের এখন এক লক্ষের বেশি কোভিশিল্ড ডোজ আছে। আমাদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে কথা বলেছেন।”

এদিন সন্ধ্যায় হর্ষবর্ধন বলেন, “রাজ্য সরকারের কর্তাব্যক্তিরা দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য করছেন। তাতে মানুষ বিভ্রান্ত হতে পারেন। আতঙ্ক ছড়াতে পারে।”

এর আগে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে ও দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল দাবি করেন, সব বয়সের মানুষকে ভ্যাকসিন দেওয়া হোক। এই দাবিরও তীব্র সমালোচনা করেন হর্ষবর্ধন। তিনি বলেন, ভ্যাকসিনের সরবরাহ এখনও পর্যন্ত সীমিত। এই অবস্থায় যাঁদের করোনা আক্রান্ত হলে বিপদের সম্ভাবনা বেশি, তাঁদেরই আগে প্রতিষেধক দেওয়া হচ্ছে।

পরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “ভ্যাকসিন দেওয়ার প্রাথমিক লক্ষ্য হল মৃত্যুহার কমানো। ভারতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় টিকাকরণ প্রক্রিয়া চলছে। আমরা প্রথমে স্বাস্থ্যকর্মী ও সম্মুখ সারির কোভিড যোদ্ধাদের টিকা দিয়েছি। তারপর দেওয়া হয়েছে প্রবীণ নাগরিকদের। এখন ৪৫ বছর বা তার বেশি বয়সের নাগরিকদের টিকা দেওয়া হচ্ছে।”

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More