অক্সিজেনের অভাবে কর্নাটকে ফের মৃত ৭ কোভিড রোগী, বেঙ্গালুরুর হাসপাতালে ২২ জনের প্রাণ বাঁচালেন সোনু সুদ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কয়েক দিন ধরেই অক্সিজেনের চরম সংকটে কর্নাটক। এতদিন দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ থেকে যে ধরনের হাহাকার ও মৃত্যুর খবর শোনা যাচ্ছিল, তেমনটাই শোনা যাচ্ছে কর্নাটক থেকে। একের পর এক কোভিড রোগী মারা যাচ্ছেন অক্সিজেনের অভাবে। সোমবারই ২ ঘণ্টায় ২৪ জন রোগীর মৃত্যুর খবরে আলোড়ন পড়ে গেছিল, এর পরে গতকাল, মঙ্গলবারও রাজ্যের কালাবুর্গি ও বেলাগাভির দুটি হাসপাতাল মিলিয়ে মোট সাতজন করোনা রোগীর মৃত্যু হয় অক্সিজেনের অভাবে ধুঁকতে ধুঁকতে।

সূত্রের খবর, গতকাল মঙ্গলবার সকালেই অক্সিজেনের অভাব শুরু হয় হাসপাতালগুলিতে। প্রশাসনকে সে কথা জানানোও হয়। কিন্তু কিছু করার আগেই কালাবুর্গি সরকারি হাসপাতালে চারজনের মৃত্যু হয় এবং তারপর বেলাগাভি হাসপাতালেও তিনজনের মৃত্যু হয় অক্সিজেনের অভাবে।

এসবের মধ্যেই বেঙ্গালুরুর একটি হাসপাতালে অক্সিজেন ফুরিয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে সেখানে সারারাত কাজ করেন অভিনেতা সোনু সুদ ও তাঁর টিম। অন্তত ২২ জন কোভিড রোগীর প্রাণ বাঁচানো গেছে বলে জানিয়েছেন তাঁরা।

জানা গেছে, মঙ্গলবার সোনু সুদের চ্যারিটি ফাউন্ডেশনে ফোন করেন প্রশাসনের এক কর্তা, ইনস্পেক্টর এমআর সত্যনারায়ণ। তিনি জানান, আরাক হাসপাতালে অক্সিজেন নেই, দুই রোগীর অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক।

খবর পেয়েই মাঝরাতে অক্সিজেন সিলিন্ডার জোগাড় করার কাজে লেগে যান সোনু ও তাঁর সঙ্গীরা। সারারাত অসংখ্য ফোন করে, নানা লোকের কাছে খোঁজ নিয়ে অবশেষে ১৫টি সিলিন্ডার জোগাড় হয়। সেগুলি দ্রুত পৌঁছে দেওয়া হয় আরাক হাসপাতালে। প্রাণে বাঁচেন রোগীরা।

সোনু বলেন, “এটা একটা সাংঘাতিক টিমওয়ার্ক ছিল। আমাদের সহনাগরিকদের প্রাণ রক্ষা করতে আমরা লড়ে গেছি। ইনস্পেক্টর সত্যনারায়ণ যখন ফোন করলেন, আমরা খবর নিয়ে কয়েক মিনিটের মধ্যেই সিদ্ধান্ত নিই কী করতে হবে। দেরি হলে বিপদ হতো। সারারাত লড়াই করে অক্সিজেন জোগাড় হল। ওই রাতে যাঁরা জাগলেন, আমি তাঁদের কাছে কৃতজ্ঞ, আমি তাঁদের জন্য গর্বিত।”

কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউয়ের ঝড় ক্রমেই তোলপাড় করে তুলছে গোটা দেশ। একের পর এক রাজ্য চরম বিপদের মুখে পড়ছে। বেড নেই, অক্সিজেন নেই, চিকিৎসার সরঞ্জাম নেই বহু হাসপাতালে। এই পরিস্থিতিতে সোনু সুদের মতো অনেকেই লড়ে চলেছেন মানুষের প্রাণ বাঁচাতে। তবে এভাবে কি মিলবে সমাধানসূত্র, প্রশ্ন এখন সেটাই।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More