ভোট পরবর্তী হিংসা সংক্রান্ত মামলার শুনানির জন্য বিশেষ বেঞ্চ কলকাতা হাইকোর্টে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোট পরবর্তী হিংসা সংক্রান্ত মামলার শুনানির জন্য কলকাতা হাইকোর্টে বিশেষ বেঞ্চ গঠন করলেন র প্রধান বিচারপতি। ৫ বিচারপতিকে নিয়ে এই বিশেষ বেঞ্চ গড়া হয়েছে।

ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকে বাংলায় যে সন্ত্রাসের ঘটনা ঘটছে তা নিয়ে ইতিমধ্যেই গুচ্ছ মামলা রুজু হয়েছে হাইকোর্টে। তাতে যেমন রাজনৈতিক দল হিসেবে বিজেপি মামলা দায়ের করেছে, তেমন অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তি ও সমাজকর্মীও জনস্বার্থ মামলা করেছেন হাইকোর্টে। সেই সমস্ত মামলার শুনানির জন্যই এই বেঞ্চ গড়ল হাইকোর্ট।

গতকাল রাজ্যে এসে নবান্নে বৈঠক করেছিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের টিম। শুক্রবার তাঁরা যান রাজভবনে। ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকে বাংলায় যে সন্ত্রাস চলছে সে ব্যাপারেই রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করে কেন্দ্রীয় দল।
চার সদস্যের এই বিশেষ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে রয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব গোবিন্দ মোহন। গতকালই প্রতিনিধি দলের সদস্যরা মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব ও ডিজিপির সঙ্গে বৈঠক করেছেন।ইতিমধ্যেই নবান্নকে জোরা চিঠি পাঠিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব অজয় ভল্লা। প্রথম চিঠির জবাব কেন দেওয়া হয়নি তা নিয়ে দ্বিতীয় চিঠি দেওয়া হয়েছে রাজ্যকে। তা ছাড়া গতকাল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক বাংলার হিংসা নিয়ে রিপোর্ট তলব করে রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়ের কাছে।

বিজেপির অভিযোগ, বাংলার জেলায় জেলায় নির্মম সন্ত্রাস চালাচ্ছে তৃণমূল। গেরুয়া শিবিরের বক্তব্য, আক্রান্ত হওয়ার কথা পুলিশের কাছে জানাতে গিয়ে কোনও সুরাহা হচ্ছে না। প্রশাসন নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে।

গতকালই মেদিনীপুরে আক্রান্ত হয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভি মুরলীধরনের কনভয়। অভিযোগ, তৃণমূলের পার্টি অফিস থেকে লোকজন বেরিয়ে এসে মন্ত্রীর কনভয়ে হামলা চালায়। ভাঙচুর করা হয় গাড়িতে। মন্ত্রীর কোনও আঘাত না লাগলেও জখম হয়েছেন তিন জন সাংবাদিক। ভোট গণনার পর থেকে বাংলার হিংসা নিয়ে সরব বিজেপি। দিন তিনেক আগে রাজ্যপালকে ফোন করেছিলেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। গেরুয়া শিবিরের অভিযোগ, এর মধ্যেই তাঁদের পাঁচ কর্মীকে খুন করেছে তৃণমূল। জখম করা হয়েছে কয়েকশ কর্মীকে। বাড়িঘর, দোকানপাট লুঠ থেকে মহিলাদের শ্লীলতাহানি কিছুই বাদ যাচ্ছে না বলে দাবি দিলীপ ঘোষদের। শুভেন্দু অধিকারী গতকাল বিধায়ক হিসেবে শপথ নেওয়ার পর বলেছিলেন, “বাংলায় কেউ সুরক্ষক্ষিত নয়। হিন্দুরা তো ননই। যে সন্ত্রাস চালানো হচ্ছে তা দেশভাগের সময়ের কথাকে মনে করিয়ে দিচ্ছে।”

Leave a comment

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More